ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

তারকাদের আহ্বান…..!



বিনোদন ডেস্ক:

মানুষকে আনন্দ দিতে বিনোদনশিল্পের তারকাদের কম চাপ সইতে হয় না। এই মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে মেডিটেশন বা ধ্যান খুব উপকারী। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই অঙ্গনের শিল্পী ও তারকারা মেডিটেশন করে থাকেন। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শিখে এসে নিজেরা তা চর্চা করে মনে প্রশান্তি আনছেন। বাজেটে মেডিটেশন শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তে আশাহত হয়েছে শিল্পী সমাজ। এই সেবার ওপর ভ্যাট আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। নিয়মিত মেডিটেশন চর্চাকারী কয়েকজন মেডিটেশনের ওপর থেকে স্থায়ীভাবে ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। চলুন জেনে নিই তাঁদের মতামত।

 

আলম আরা মিনু, কণ্ঠশিল্পী
মিউজিক নিজেই একটা মেডিটেশন। তবে মিউজিকটাকে আরো সুন্দরভাবে কন্টিনিউ করার জন্যে; সর্বোপরি শান্তিময় জীবন যাপনের জন্যে মেডিটেশনটা খুব জরুরি। এখন শুনছি যে, মেডিটেশনের উপর ভ্যাট প্রয়োগ করা হচ্ছে। এটা খুবই অন্যায়। আমরা এটা চাই না যে, মেডিটেশনের উপর কোনো ভ্যাট হোক। এটা অদ্ভুত একটা ব্যাপার- এটা মেনে নেয়া যায় না।

 

হাসান, সঙ্গীতশিল্পী
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ বাজেটে মেডিটেশনের উপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আমি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে অনুরোধ করছি যে, সরকার যেন মেডিটেশনের উপর থেকে এই ভ্যাটটা স্থায়ীভাবে উইথড্র করে নেয়।

 

সুজিত মোস্তফা, সঙ্গীতশিল্পী
মেডিটেশনের সঙ্গে আমার সম্পৃক্তি দীর্ঘ কয়েক বছরের। আমি এটা শুরু করার আগে ঠিকভাবে জানতাম না, এটা কিভাবে শরীরকে মনকে মানসিকতাকে সার্বিকভাবে প্রভাবিত করে, সুপ্রভাব। আমার স্ত্রী এবং কন্যা, তারাও মেডিটেশন করে। যখনই কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা বোধ করি, অস্থিরতা বোধ করি, এটা করে আমরা প্রবলভাবে উপকার করে। এবং আমি আমার কার্ডিওলজিস্টের কাছে গেছি, তিনি আমাকে বলেছেন, সুজিত ভাই, ওষুধ ছেড়ে যদি মেডিটেশন ধরতে পারেন, আপনার বেশি উপকার হবে। আপনার ওষুধের সাইড এফেক্টটা অন্তত থাকবে না।

 

তো আমার মনে হয়, এমন একটা জায়গায় মেডিটেশনের অবস্থান, যে এটা শুধু সাধনা বা এক ধরনের সমাধিস্থ হওয়া বিষয়- তা নয়। এটা সার্বিকভাবে আমাদের মানবজীবনকে একটা সুন্দর পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। তো সেটাকে ভ্যাটের চাপ দিয়ে বিষয়টার প্রসার প্রচারে যদি ব্যাঘাত ঘটানো হয়, তাহলে আমি মনে করি যে, এটা সমগ্র দেশের স্বাস্থ্যকামী, সমৃদ্ধতাকামী, সুস্থতাকামী মানুষের জন্যেই একটা আঘাত হয়ে আসবে। এগুলো বিবেচনায় এনে মেডিটেশনের মতো একটা বিষয় থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্যে আমি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

 

ফাল্গুনী হামিদ, অভিনয়শিল্পী
আমি মনে করি যেসব কাজ সমাজসেবা এবং মানুষকে তৈরি করা, মানুষের জীবনযাত্রাকে উন্নত করার জন্যে আমরা ব্যবহার করি, বা কাজগুলো আমরা করে থাকি, সেই কাজগুলোর ভেতরে ভ্যাট আমার মনে হয় না নেয়াই ভালো। ভ্যাটের আওতায় আসা উচিত একেবারেই কমার্শিয়াল যেগুলো জিনিস, এ ধরনের কাজের জন্যে। বাণিজ্যিক কাজের ভিত্তিতে যে জিনিসগুলি তৈরি হয় বা যে কাজগুলো করা হয় সেগুলোর জন্যে ভ্যাট আরোপ করা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু মানুষ যদি সুন্দরভাবে তৈরি না হয়, একজন সুন্দর মনের মানুষ যদি আমরা তৈরি করতে না পারি।

 

তাহলে আমরা কিছুতেই একটি সুন্দর এবং উন্নত দেশ আশা করতে পারি না। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা চাই, তাহলে সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। সোনার মানুষগুলো হচ্ছে অবশ্যই সমাজসেবা এবং বিভিন্ন ধরনের উজ্জীবনমূলক কাজ। মেডিটেশন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ মেডিটেশন একজন মানুষের মননশীলতাকে বাড়িয়ে দেয়। আমি নিজে জানি, মেডিটেশন থেকে একজন মানুষ উপলব্ধি করে যে, সে একজন মানুষ। এবং সে সত্যিকারের মানুষ যদি নিজে সত্যিকারের অর্থে না-ও হয়ে থাকে, ধীরে ধীরে মেডিটেশনের গুণে সে একজন সত্যিকারের মানুষ হতে পারে। কাজেই আমি মনে করি এই ধরনের কাজ যেগুলো, এই কাজগুলোর মধ্যে ভ্যাট উপযুক্ত হয় না। কাজেই এই জিনিসটি আমাদের একটু ভাবা উচিত।

 

মামনুন ইমন, চলচ্চিত্র অভিনেতা
আমি ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত মেডিটেশন করছি। মেডিটেশন করে আমি শারীরিক, মানসিক এবং পারিবারিকভাবে প্রশান্তি লাভ করছি। আমরা যারা মিডিয়াকর্মী আছি; আমরা প্রায়শই বিভিন্ন কাজের প্রেসারে অনেক স্ট্রেস নিয়ে থাকি এবং সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, মেডিটেশন একটা বড় হাতিয়ার। এভাবে কিন্তু মেডিটেশন আমাকে লাস্ট কয়েক বছর ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজে উপকৃত হচ্ছি। সম্প্রতি শুনেছি যে, মেডিটেশনের উপরে ভ্যাট বা কর আরোপ করা হয়েছে। আমি মনে করি, এরকম একটা সেবমূলক কাজে অবশ্যই ভ্যাট বা কর আরোপ করা উচিত নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ভ্যাট সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের কাছে সবিনয়ে অনুরোধ করছি, স্থায়ীভাবে মেডিটেশনের উপর ভ্যাটটা প্রত্যাহার করা হোক।

 

কাজী শুভ, সঙ্গীতশিল্পী
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার মেডিটেশনের উপর ভ্যাট আরোপ করেছে। তো আমার তরফ থেকে এবং যারা মেডিটেশনের সাথে জড়িত সবার তরফ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন থাকবে, উনারা যেন এই ভ্যাট প্রত্যাহার করেন। এবং সেইসাথে সবাই আমরা একসাথে বলি, ‘নো ভ্যাট অন মেডিটেশন’।

 

মোমেনা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী
আমি নিয়নিত মেডিটেশন করি। যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন, তারা সুস্থ থাকেন এবং থাকেন প্রশান্ত! মেডিটেশনের উপর এবার কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত দুই দুইবার মেডিটেশনের উপর কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। মাননীয় সরকার প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্তে তা অব্যাহত করেছিলেন। তাই আমরা আশা করব, এবারও স্থায়ীভাবে মেডিটেশনের উপর কর প্রত্যাহার করা হবে।

 

খন্দকার ইসমাইল, টিভি উপস্থাপক
আমি শুনেছি যে, সম্প্রতি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এবং সেখানে মেডিটেশনের উপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আসলে মানুষ মেডিটেশন করে প্রশান্তির জন্যে। এবং টেনশন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে মানুষ মেডিটেশন করে। সেখানে ভ্যাট আরোপ করা হলে আমাদের উপর অর্থনৈতিক প্রেসারটা বেড়ে যাবে। আমার মনে হয়, মেডিটেশন থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত।

 

গোলাম সরোয়ার, নাট্য ও বাচন প্রশিক্ষক
আমি একজন নাট্য ও বাচন প্রশিক্ষক। আমি ২০১১ সাল থেকে মেডিটেশন করি। মেডিটেশন করার ফলে আমি বুঝেছি, একজন মানুষ দৈহিকভাবে সুস্থ থাকার জন্যে এবং মানসিকভাবে প্রশান্ত থাকার জন্যে, মেডিটেশনের কোনো বিকল্প নেই। আমি জানলাম এবারকার বাজেটে মেডিটেশনের উপরে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

 

আমি মনে করি অর্থকরী কাজ, যেখানে আয় হয়, তার উপরে ভ্যাট হতে পারে। কিন্তু মেডিটেশন কোনো অর্থকরী কাজ নয়। এটা সম্পূর্ণই সেবামূলক একটি কাজ। কাজেই এখানে আমি মনে করি, ভ্যাট প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। তাই আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন করব, আবেদন করব, যে ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে, এই প্রস্তাবটি পুর্নবিবেচনা করা হোক, এটাকে প্রত্যাহার করা হোক।

 

ইবরার টিপু, মিউজিক কম্পোজার
সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আজকে যে বিষয়টা নিয়ে বলতে চাচ্ছি, এটা আসলে কিভাবে বলব আমি ঠিক জানি না। কারণ বিষয়টা নিয়ে বলতে হবে এটাই তো চিন্তা করিনি কখনো। কারণ মেডিটেশনের উপরে ভ্যাট, এটা আসলে আমরা যারা এ মেডিটেশন থেকে উপকৃত হয়েছি, তারা আসলে এটা কখনো চিন্তা করতে পারি না যে, এটার উপর কোনো ধরনের এমবারগো তৈরি হবে। আমরা একটু গবেষণা করে দেখি, ইংল্যান্ডে পার্লামেন্ট থেকে এটাকে পারমানেন্টলি বন্ধ করা হয়েছে।

 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যারা সভ্য দেশ, তারা কিন্তু এটাকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন, তারা আসলে মেডিটেশনের উপর ভ্যাট, বা কোনো ধরনের এমবারগো আসুক, তারা আসলে চিরস্থায়ীভাবে এটাকে বন্ধ করেছেন। সো আমি আশা করব, আমাদের দেশে যারা এই বিষয়গুলো দেখেন, তারা চিরস্থায়ীভাবে আমাদের মেডিটেশনের উপরে ভ্যাট আরোপ বন্ধ করবেন। শেষে একটা কথাই বলতে চাই, নো ভ্যাট অন মেডিটেশন।

 

দেলোয়ার আরজুদা শারফ, গীতিকার
আমি নিয়মিত মেডিটেশন করি। মেডিটেশন চর্চার উপরে সম্প্রতি যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এবং এই মেডিটেশন চর্চা থেকে ভ্যাট চিরস্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হোক।

 

পারভেজ, সঙ্গীতশিল্পী
আমি সঙ্গীতশিল্পী পারভেজ। আমি খুব ছোট্ট একটা ব্যাপার নিয়ে আপনাদের কিছু সময় নিয়ে বলতে চাই। সম্প্রতি যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে মেডিটেশন তথা ধ্যানের উপরে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, এটা মেনে নেয়া আসলে আমাদের জন্যে খুবই কষ্টদায়ক। খুবই কষ্টকর। শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী নয়, যে কোনো শিল্পীরই তার শিল্পচর্চার জন্যে ধ্যান খুব জরুরি।

 

ধ্যান করা, ধ্যানমগ্ন হওয়া, নিজের উপরে সেই আস্থা, সেই কন্ট্রোল তৈরি করার জন্যে মেডিটশন খুবই জরুরি। এবং আমার কাছে আসলেই মনে হয় না, এরকম একটা ব্যাপার, মেডিটেশনের উপরে কর আরোপ করা খুব যুক্তিযুক্ত! আমার সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমাদের সবার পক্ষ থেকে, মেডিটেশনের উপরে এই যে ভ্যাট তা প্রত্যাহার করা হোক। আই স্ট্রংলি, ভেরি স্ট্রংলি আর্জ, নো ভ্যাট অন মেডিটেশন।

 

তানভীর তারেক, সঙ্গীতশিল্পী
আমি সঙ্গীতশিল্পী। মিউজিক করি। বাংলাদেশ সরকারের এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় মেডিটেশনের উপর ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি সঙ্গত কারণেই সরকারের প্রতি এটা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম