ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

আমেরিকার একতরফা উদ্যোগ, জেরুজালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহবান, সংকট সমাধান হবে কী?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক :

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফা ঘোষণা দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়েছে। জেরুজালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহবান করা হয়েছে শুক্রবার। সে বৈঠকে কী জেরুজালেম সংসট সমাধানে আশার আলো দেখতে পাবে ফিলিস্তিনি জনগণ ও বিশ্ববাসী?

 

গোটা বিশ্বের সতর্কতা ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং সংস্থা ও সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
.

আমেরিকার একতরফা উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করে দিতে পারে। এরই মধ্যে গাজা, বেথেলহেম, তুরস্কের আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন তা ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সৌদি আরব।

 

সৌদি বাদশা সালমানের বক্তব্য এমন একটি সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তেলআবিব থেকে নিজেদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।

সৌদি রয়াল কোর্টের বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এটি জেরুজালেম প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার নিরপেক্ষ অবস্থানের ব্যত্যয়।

 

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, স্পষ্টতই এটা ইসরাইলের প্রতি একটি পুরস্কার। আর এ স্বীকৃতি যে ফিলিস্তিনের ভূমি ক্রমাগত দখল করতে ইসরাইলকে উৎসাহিত করবে তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ভাষণের মধ্য দিয়ে জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটল। যদিও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গণ্য। এর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বও বহু পুরনো। ইসরাইল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন।

তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা নিজেদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তুরস্কেরও।

 

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তটি ১৯৯৫ সালের। মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে সাবেক সব প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন।

 

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। পরে ১৯৮০ সালে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয় এবং ইসরাইলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলকে দখলকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

 

এমতাবস্থায় আগামীকাল শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থার আটটি সদস্য রাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়েছে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ।

 

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ফ্রান্স, বলিভিয়া, মিসর, ইতালি, সেনেগাল, সুইডেন, ব্রিটেন ও উরুগুয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেসের কাছে এ বৈঠকের আহবান জানায়।

 

ইসরাইল মনে করে, জেরুজালেম তাদের স্থায়ী ও অবিভাজ্য রাজধানী। আর ফিলিস্তিনিরা মনে করে, ভবিষ্যতে তাদের যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে তার রাজধানী হবে জেরুজালেম। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল জেরুজালেমের পূর্বাংশ দখল করে নেয় এবং আস্তে আস্তে বসতি স্থাপন করে তা আরো বিস্তৃত করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ উদ্যোগের ব্যাপারে বুধবার জাতিসংঘে সুইডেনের ডেপুটি দূত কার্ল স্কাউ বলেছেন, জাতিসংঘ জেরুজালেমকে বিশেষ বৈধতা ও রাজনৈতিক মর্যাদা দিয়েছে। আর এর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মর্যাদা জানাবে বলেই মনে করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সে কারণেই আমরা মনে করি, নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে।

 

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের ৪ জুন জেরুজালেমসহ অন্যান্য শহরের ব্যাপারে যে চুক্তি হয়েছে তাতে কোনো পরিবর্তনকে সমর্থন দেবে না নিরাপত্তা পরিষদ। ওই প্রস্তাবের পক্ষে সংস্থাটির ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪টি রাষ্ট্র সমর্থন নেয়।

 

আর ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সরকার। ভেটো না দিয়ে কেন বিরত থাকল- এ নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরাইল ও ট্রাম্পের চাপের মুখেও পড়ে ওবামা প্রশাসন।

 

এদিকে বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেছেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া বিপন্ন করে এমন যেকোনো একক সিদ্ধান্তের আমি বারবার বিরোধিতা করেছি।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন গভীর উদ্বেগের সময়, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- দ্বি-রাষ্ট্র (ইসরাইল-ফিলিস্তিন) সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ অর্থপূর্ণ আলোচনায় ফিরলে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

বাংলা রিপোর্ট/এমআর