ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

ট্রাম্পের ঘোষণায় ফুসে উঠছে ফিলিস্তিন, ষড়যন্ত্র রুখতে অঙ্গীকার, কী হবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক :

জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ায় ফুসে উঠছে ফিলিস্তিনের জনগণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ষোষণায় নতুন করে অশান্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ফিলিস্তিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে।

 

সারা বিশ্বের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে সারাবিশ্ব থেকে সতর্ক করা হয় যে, এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প এসব সতর্ক বার্তা মোটেই আমলে নেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বেথেলহেম শহরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের বড়দিন উপলক্ষে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি’র আলোকসজ্জার সুইচ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

 

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, ফিলিস্তিন মুক্ত হবে এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার তৎপরতা থেকে তাদের অক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। চূড়ান্তভাবে মুসলমানরাই বিজয়ী হবে।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী উপলক্ষে তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শত শত বিদেশি অতিথি, মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেয়া এক সাক্ষাতে তিনি বুধবার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামের শত্রুরা বায়তুল মোকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করবে বলে দাবি করছে। এ তৎপরতা থেকে তাদের দুরবস্থা ও অক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। মুসলিম বিশ্ব শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে শত্রুদের লক্ষ্য পূরণ হবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

 

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, বর্তমানে মহানবী (সা.)’র নির্দেশিত পথ ও মুসলিম উম্মাহ’র বিরুদ্ধে যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও বর্ণবাদী ইসরাইলের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর কিছু লম্পট ও চরিত্রহীনও রয়েছে।
আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের অনুসারীরাই হচ্ছে বর্তমান যুগের ফেরাউন।

 

তিনি বলেন, আমেরিকার শাসকগোষ্ঠী এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে। তারা নতুন যুদ্ধের মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। দুঃখজনকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশের শাসক ও নেতারা আমেরিকার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। যারা যুদ্ধ চায় এবং যুদ্ধই যাদের নীতি, তাদেরকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা বলছি, জালিমদেরকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো সরকার যেসব কাজ করছে আল কোরআনের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

এদিকে জেরুজালেম খ্যাত বাইতুল মোকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

 

হামাস বলেছে, ট্রাম্প বাইতুল মোকাদ্দাসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করেছেন। ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে হামাস।

 

ফিলিস্তিনের আরেকটি প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামী জিহাদ বলেছে, এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসলামী জিহাদ আন্দোলনের উপমহাসচিব জিহাদ নাখালা ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণা ‘অগঠনমূলক’।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারগট ওয়ালস্ট্রোম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

এ ছাড়া মিসর, তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন। ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ আপনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

 

এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, বিশ্বনেতাদের এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার আহবান অগ্রাহ্য করে একপেশে সিদ্ধান্তে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান হারিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

 

তাদের মতে, মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান থেকে আর কোনো ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে রাজধানী এবং তেল আবিব থেকে সেখানে দূতাবাস সরানোর ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরাইলকে পুরস্কৃত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলকে বৈধতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে শান্তি নয় সংঘাত বাড়বে।

 

১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ দখল করে নেয়া হয়। পরে ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধের পর পূর্বাংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। দখলের পর থেকেই ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র এ শহরটিতে নিজেদের পুরো কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করছিল ইসরাইল। এ ইস্যুতে অসংখ্যবার ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের পবিত্র ভূমিতে আগুন জ্বলতে দেখে গেছে।

 

১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০০ সালে এবং সম্প্রতি ২০১৭ সালে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইসরাইলি পুলিশের মেটাল ডিটেক্টর বাসানোর জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটেছে।

বাংলা রিপোর্ট/এমআর