ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

আজ জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী ঘোষণা দিবেন ট্রাম্প, আরব বিশ্ব উত্তাল!



 

বাংলা রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজই (বুধবার) জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চলেছেন। একইসময়ে জেরুজালেমে মার্কিন অ্যাম্বাসি সরিয়ে আনার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করবেন বলে হোয়াইট হাউস সুত্রে জানা যায়।

 

১৯৯৫ সালে মার্কিন সংগ্রেসে ‘জেরুজালেম অ্যাম্বাসি অ্যাক্ট’ নামে বিতর্কিত একটি বিল পাস করা হয়।এই বিলের মাধ্যমেই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী এবং সেখানে মার্কিন অ্যাম্বসি স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও আবর বিশ্বে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তা বাস্তবায়ন না করে প্রতি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে রাখা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বারা স্থগিতাদেশের বিষয়টি একটি রীতিতে পরিনত হয়। ট্রাম্পও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

গত জুনে ট্রাম্প স্থগিতাদেশে স্বাক্ষর করে সিদ্ধান্তগ্রহণ কার্য আবারো পিছিয়েছিলেন। তবে আজ দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নিয়মের ইতি ঘোষণা করে সিদ্ধান্তে আসার কথা বলবেন ট্রাম্প।

 

এদিকে আজ জেরুজালেম ইস্যু নিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহ, মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতেহ আল-সিসি এবং সৌদি বাদশা সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প।

 

সেসময় ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা হয় ট্রাম্পের। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এবিষয়ে যেকোন সহিংসতা মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত বলে জানায়।

 

স্বভাবতই ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইসরায়েল সন্তুষ্ট, কিন্তু ফিলিস্তিনিরা ছাড়াও পুরো আরব বিশ্বের নেতারা সাবধান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকেই নস্যাৎ করবে।

 

এমনকী আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত “পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য চরম এক উস্কানি।”

 

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগান ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নয়া ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

তুর্কি প্রেসিডেন্ট আজ (বুধবার) ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে ওআইসি’র বৈঠকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তাদের মধ্যে বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কথা হয়।

 

উভয় নেতাই বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সময় ড. রুহানি বলেছেন, ইরান মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমেরিকার উসকানিমূলক, অবৈধ ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে হবে। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিন, বায়তুল মুকাদ্দাস ও ইসরাইলের অন্যায় তৎপরতা মোকাবিলা অন্যতম।

 

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে বিশ্বের সব মুসলিম দেশ ও শান্তিকামীদের প্রতি আহ্বান জানান রুহানি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বায়তুল মুকাদ্দাসের বিষয়ে মুসলমানদেরকে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর্দোগান বলেন, মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মধ্যে অনৈক্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। তিনিও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।

 

বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদ অবস্থিত।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/একে