ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন, দেশের রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?



 

বাংলা রিপোর্ট:

বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রধান করে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে। নতুন এই জোটের নাম ‘যুক্তফ্রন্ট।’ বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই চার দল নিয়ে এ জোট গঠিত হয়েছে।

 

সোমবার রাতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই জোটে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম নেই। গতকাল বৈঠকে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন নতুন ফ্রন্টের নীতি ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জোটের গঠনকাঠামো ও কার্যপদ্ধতি পরে ঠিক করা হবে।

 

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি কোনও জোটে থাকবেন না। তাই গণফোরামকে এই জোটে রাখা হয়নি। ড. কামাল হোসেন বর্তমানে থাইল্যান্ডে রয়েছেন।

 

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন জানান, গতকাল জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রবের বাসায় বৈঠকে বসেন ছোট চারটি দলের শীর্ষ নেতারা। তৃতীয় একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে এই ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবেই এ বৈঠক হয়। বৈঠকে বি. চৌধুরীকে প্রধান করে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এই জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করতে আরও সপ্তাহ দুই সময় লাগবে।

 

বৈঠকে অংশ নেন বিকল্প ধারা সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আসম রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

 

এছাড়াও বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরীসহ দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, জোট গঠন করা হয়েছে, এটি খুব ভালো খবর। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বড় জোট হবে। তবে আমরা এই জোটে নেই।

 

ইতিপুর্বে গত জুলাই মাসে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় পুলিশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা আ স ম আবদুর রবের আমন্ত্রণে তাঁর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের বাসায় যান। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য সেখানে গিয়ে জানান, অনুমতি ছাড়া সভা করা যাবে না। তখন আবদুর রব বলেন, এটা সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান। একপর্যায়ে পুলিশ বের হয়ে বাসার বাইরে অবস্থান নেয়।

 

সেদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণফোরামের এস এম আকরাম ও সুব্রত চৌধুরী, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও বহ্নিশিখা জামালী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।কিন্ত শেষ পর্যন্ত জোট হলো চার দলের।

 

এদিকে মঙ্গলবার বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তফ্রন্টকে একবার ক্ষমতায় বসিয়ে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

 

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে দেখেছি। মানুষও তাদেরকে অনেক দেখেছে। দুই দলের বিপরীতে আমরা একটি জোট গঠন করলাম। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, তাদেরকে অনেক দেখেছেন। আমাদেরকে একবার দেখুন।

 

অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে চার দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট ‘যুক্তফ্রন্টকে’ স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন এই জোটকে স্বাগত জানাই। এতে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়বে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন অনেক মেরুকরণ হবে।’

 

তবে এই জোট নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোন মতামত পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন এটি সরকারের একটি কৌশলও হতে পারে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করার যে ইচ্ছা সরকারের রয়েছে এটি তারই একটি অংশ হতে পারে। তবে আগামী দিনে গণতন্ত্রের জন্য এই দল রাজপথে ভূমিকা রাখবে এটিই নতুন গঠিত ফ্রন্টের কাছে তাদের প্রত্যাশা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এই জোট আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে এই জোট যদি সরকারের লেজুড়বৃত্তি না করে তাহলে জনগণের সমর্থন পাবে।

 

তবে এই জোট নিয়ে কেউ কেউ শংকা প্রকাশ করেছেন। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, বি চৌধুরির নেতৃত্বে অতীতেও জোট গঠন হয়েছিল ;তবে ,সেগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দেশের রাজনীতিতে কোন ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারেনি। তাদের মতে, এই জোট আগামীতেও দেশের রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে সেটিই দেখার বিষয়।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/একে