ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 weeks ago

শুয়াচান পাখি, আমি ডাকিতাছি তুমি, ঘুমাইছ নাকি ?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক :
সংগীত সাধনায় বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বারী সিদ্দিকী। গীতিকার, বংশীবাদক, লোকগান ও আধ্যাত্মিক গানের জনপ্রিয় এ কণ্ঠশিল্পী লাখো ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। বারী সিদ্দিকী বাংলা গানে অনেকদিন বেঁচে থাকবেন। খুব তাড়াতাড়ি বারী সিদ্দিকী হারিয়ে যাবেন না। তার গান এ দেশের সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। তার কণ্ঠে মরমি গানে সংগীতপ্রিয় মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। দেশের এই বরেণ্য সংগীতসাধক তার অক্লান্ত অধ্যাবসায়ে সংগীতাকাশে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। যার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

 

শিল্পী হিসেবে বারী সিদ্দিকী পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে। ওই বছর হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এতে তিনি ৬টি গান গেয়ে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। ‘শুয়াচান পাখি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’ ‘রজনী’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী বারী সিদ্দিকী। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করতেন।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। শৈশবে পরিবারের কাছে গানের হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ৬ বছর তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।

 

সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপর নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন বারী।

 

মরহুম এ শিল্পীর সঙ্গে গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জীর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তার লেখা অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী। এমনকি জীবদ্দশায় বারী সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, শহীদুল্লাহ ফরায়জীর লেখা গান চোখ বুজেই গেয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গানের বাহিরে ব্যক্তিগত জীবনে এ দুজনের পথচলাটাও দীর্ঘ।

শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, বারী সিদ্দিকীকে নিয়ে আমি একটি কথাই বলতে পারি, বারী সিদ্দিকী বাংলা গানে ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করেছেন। তার গায়কী, সুরে সেই ভিন্নতা রয়েছে, যে ধারাটা মানুষ গ্রহণ করেছেন। এই ভিন্ন ধারা সৃষ্টির জন্যই বারী সিদ্দিকী বাংলা গানে অনেকদিন বেঁচে থাকবেন। আমি তার সঙ্গে অনেক গান করেছি। সবচেয়ে বেশি গান আমি করেছি। তাই আমারো বিশ্বাস বারী সিদ্দিকীর কিছু গান বেঁচে থাকবে। তাড়াতাড়ি বারী সিদ্দিকী হারিয়ে যাবেন না।

 

বারী সিদ্দিকীর প্রথম অ্যালবাম ‘দুঃখ রইল মনে’। এই অ্যালবামের সব কটি গান লিখেন শহীদুল্লাহ ফরায়জী। প্রকাশের পর অ্যালবামটি খুবই শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এই জুটির উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘চন্দ্র সূর্য যত বড়, আমার দুঃখ তার সমান’, ‘ছোট্ট একটা মাটির ঘর, কেউ আসে না নিতে খবর’, ‘আমার মন্দ স্বভাব জেনেও তুমি কেন চাইলে আমারে’, ‘এক মুঠো মাটির মালিকানা’, ‘আমি নাকি মন পোড়ানো কয়লার ব্যাপারী’ প্রভৃতি।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী। হাসপাতাল থেকে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডির বাড়িতে তার মরদেহ নেওয়া হয়। এর পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা।

 

নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকীকে দাফন করা হবে তার জন্মস্থান নেত্রকোনার চল্লিশার কারলি গ্রামের বাউল বাড়িতে। বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যাপীঠ নেত্রকোনা সরকারি কলেজ মাঠে বাদ আসর তৃতীয় জানাজা শেষে জেলা সদরের চল্লিশা বাজারের কারলি গ্রামের বাউলবাড়িতে বাবাকে দাফন করা হবে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/কেকে