ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

পৃথিবীর সবচেয়ে অবাঞ্ছিত মানুষের দুঃখের ইতিহাস জানুন



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

রিফিউজি বা উদ্বাস্তু শব্দটির সঙ্গে পরিচিত প্রায় সকলেই। কিন্তু, এমন জীবন যারা কাটান কেবল তারাই জানেন সে দুর্দশার কথা। ভিটেমাটি হারিয়ে কখনও পরভূমিমে আগাছার মতো বা কখনও নিজের মাটিতেই তাদের থাকতে হয় পরবাসীর মতো।

 

মায়ানমারের এক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা। সে দেশের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা এরা, আগে যার নাম ছিল আরাকান।

মায়ানমারের এমনই এক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা। সে দেশের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা এরা, আগে যার নাম ছিল আরাকান।১৪৩৪ সালে, আরাকানের রাজা নারাইমেইখলার সিংহাসনে বসার সঙ্গে সঙ্গেই এই সম্প্রদায় ওই স্থানে বসবাস শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। এর পরে, ব্রিটিশ রাজত্বকালে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।

 

কেন পালাচ্ছে তারা?

মায়ানমার মূলত বৌদ্ধধর্মাবলম্বী দেশ। কিন্তু, বাংলাদেশ লাগোয়া মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আদি বাসিন্দা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়টি মূলত সুন্নি ধর্মাবলম্বী। যে কারণে, ১৯৪০ সালে দাঙ্গা বাঁধে দুই ধর্মের মধ্যে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রোহিঙ্গারা ইংরেজদের মদত করলেও, অন্যরা জাপানি সেনাদের হয়ে যুদ্ধ করে।

তৎকালীন বার্মার মিলিটারিও প্রত্যাঘাত আনে এবং আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের উৎখাত করে দেয়।

সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা, মায়ানমারের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। এর পরে ১৯৮২ সালে মায়ানমার সরকার এক নতুন আইন আনে যেখানে দেখা যায় যে আরাকানের রোহিঙ্গারা সে দেশের বাসিন্দাই নয়। ফলে আবারও প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে বাংলাদেশের রিফিউজি ক্যাম্পে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বা মায়ানমার, কেউই রোহিঙ্গাদের তাদের দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। যে কারণে, স্থায়ী আস্তানার খোঁজে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। অস্ট্রেলিয়া থেকে সৌদি আরব, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে প্রায় সর্বত্রই। অথচ তাদের নাগরিকের মর্যাদা দিয়ে ঠাঁই দিচ্ছে না কোনও দেশই।

 

প্রসঙ্গত, ভারতের নানা জায়গাতেও রিফিউজি ক্যাম্প রয়েছে রোহিঙ্গাদের। অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দরাবাদ, হরিয়ানার মেওয়াট, ও রাজধানী শহর দিল্লির কাঞ্চনকুঞ্জ এলাকায় রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গারা।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএম