ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

জেনে নিন টেস্ট খেলুড়ে দেশ এতোদিন কেন আসছিল না পাকিস্তানে?



ক্রীড়া প্রতিবেদক :
পাকিস্তানের অন্যতম ব্যস্ততম নগরী লাহোরে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের বহনকারী বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে গত আট বছর ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল।

ওই ঘটনার পরে কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশই নিরাপত্তার অযুহাতে পাকিস্তান সফরে আসতে চায়নি। যদিও ২০১৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে জিম্বাবুয়েকে আনতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ওই ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অনুমোদন দেয়নি। ফলে এক কথায় পাকিস্তানের ক্রিকেট নির্বাসনেই ছিল।

তবে সদ্যসমাপ্ত বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে পাকিস্তানের লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে। ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে সুদিন ফিরতে শুরু করছে। এরই মধ্যে চলতি মাসে দেশটিতে শ্রীলঙ্কা সফরে আসছে। নভেম্বরে সফর করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এভাবে এক এক করে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

বিশেষ করে সদ্যসমাপ্ত বিশ্ব একাদশ-পাকিস্তানের সিরিজের পর থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছে পিসিবি। দীর্ঘ আট বছর পর ওই ম্যাচ হবার পর দেশটি ক্রিকেট খেলার নিরাপদ ভেন্যু হিসেবে আয়োজকরা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে আইসিসি কিংবা অন্য কোন দেশের আর আপত্তি নেই পাকস্তান সফরে।

গত জুন-জুলাই পাকিস্তান আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে দেশটিতে ফের আন্তর্জাতিক ম্যাচ গড়াতে আইসিসি মাঠে নামে। এর আগে পাকিস্তান টি-টোয়েন্ট সুপার লিগ আয়োজন করে আইসিসির দৃষ্টি কাড়ে। দেশটি বিশ্বক্রিকেটের এ সর্বোচ্চ সংস্থাকে বুঝাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান নিরাপদ ভেন্যু। সেই থেকে আইসিসি একটি ম্যাচ আয়োজনে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর এক কাতারে আনার চেষ্টা করে। তারই ফসল বিশ্বের সেরা তারকাদের নিয়ে গড়া বিশ্ব একাদশ। বিশ্ব একাদশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে পাকিস্তান ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা দুই টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে আর তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। চলতি মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দুবাই এবং শারজাহতে সিরিজের এ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। তবে পিসিবি বেশ কিছু ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজনের চেষ্টা করছে। এমনকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে (এসএলসি) অনুরোধও জানিয়েছে। তবে দ্বীপ রাষ্ট্রটি একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা জানিয়েছে।

তাতে আশার আলো দেখছে পিসিবি আরো কয়েটি ম্যাচ আয়োজনে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে লঙ্কার পাকিস্তান সিরিজ মাঠে গড়াবে। দুটি টেস্টের মধ্যে একটি দিবারাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এসএলসি জানিয়েছে নিরাপত্তা বিষয়ে তারা সবুজ সংকেত পেলেই একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানের লাহোরে আসবে। আগামী ২৯ অক্টোবর লাহোরে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে লঙ্কানদের পাকিস্তানে আসার কথা রয়েছে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার দল বহনকারী বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলো পাকিস্তান সফর থেকে বিরত থাকে। তবে হামলা হওয়া সত্ত্বেও আট বছর পর সেই লঙ্কাই ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তান সফর আসছে।

এদিকে আগামী নভেম্বরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয় দলটি সবকয়টি ম্যাচই লাহোরে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পিসিবি চেয়ারম্যান নাজিম শেঠী বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি হবে।

আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার বিষয়ে সেখানকার বোর্ডের সঙ্গেও পিসিবির আলোচনা চলছে। পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আমরা শুধুমাত্র লাহোরে ম্যাচ আয়োজন করলেও ধীরে ধীরে করাচি, ফয়সালাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও মুলতানের মত টেস্ট ভেন্যুগুলোকেও আমরা কাজে লাগাবো। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগের অন্তত চারটি ম্যাচ করাচিতে আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ