ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের মিয়ানমারকে আলটিমেটাম



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে অং সান সু চি-কে আলটিমেটাম দিয়েছে জাতিসংঘ। হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয় গুতেরাস বলেছেন, শেষবারের মতো সুযোগ দেয়া হল। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হবে।বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরাস বলেন, যদি এ মুহূর্তে সু চি কোনো পদক্ষেপ না নেন তাহলে পরিস্থিতি চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।

 

রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকটকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নির্মূল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মিয়ানমার বলছে, গত মাসে শেষটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে পুলিশের ওপর হামলার পরই চড়াও হয় দেশটির সেনাবাহিনী এমন দাবি সু চি’র।

 

আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন মহাসচিব অ্যান্তোনিয় গুতেরাস। এর আগে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

 

গুতেরাস বলেন, যদি সু চি এ মুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ না নেন তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। দুঃখজনকভাবে আমি বুঝতে পারছি না যে, তখন সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়া যাবে। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সু চি’র প্রতি আহ্বানও জানান।

জাতিসংঘের মহাসচিব এও বলেন যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো দেশটির ক্ষমতার উচ্চ আসনে বসে রয়েছে।

 

এদিকে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। এমনকি এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনেও যোগ দিচ্ছেন না সু চি। তার দাবি, রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক ভুল তথ্য দিচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলো। সু চি বলেন, সন্ত্রাসীরা নিজেদের স্বার্থে ভুয়া খবর প্রচার করছে।

 

কিন্তু সু চি’র এমন দাবি বিশ্ববাসী ভালোভাবে নিচ্ছে না। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে তার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওঠে আসছে। ধিক্কার জানাচ্ছে বিশ্ব জনতা। এরই মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 

এদিকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলা গণহত্যা বন্ধে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে শুক্রবার জুমার পর বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিউইয়র্কের বেশ কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন। মুসলিম লিডারশিপ কাউন্সিল ইন নিউইর্য়ক আয়োজিত এ সমাবেশ এবং জুমার নামাজে হাজির হন হাজারও জনতা। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জাতিসংঘ চত্বর।

 

‘আপ আপ রোহিঙ্গা, ডাউন ডাউন সুচি’ (রোহিঙ্গাদের উত্থান হোক, সুচির পতন হোক), ‘রোহিঙ্গা রাইটস আর হিউম্যান রাইটস, স্টপ স্টপ জোনোসাইড’ (রোহিঙ্গাদের অধিকার মানবাধিকার, বন্ধ কর গণহত্যা) ইত্যাদি স্লোগান ভেসে আসে বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠ থেকে।

 

প্রথমে জাতিসংঘের দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পার্কের সামনে জুমাপূর্ব খুতবা প্রদান করেন ইমাম বাকী। জুমার পরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুসলিম লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ড. আবদুল হাফিদ জামিল, ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, বার্মা টাস্কফোর্সের পরিচালক আদম ক্যারল, বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের পরিচালক শাহানা মাসুম, সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী প্রমুখ।

 

অন্যদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে ভারতের লক্ষ্ণৌ ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভ করেছে দেশটির সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ। শিখ, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সবাই রাখাইন রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ করে।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, অল ইন্ডিয়া রেলিজিয়ন্স ইউনাইটেড ফ্রন্ট এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার-প্লাকার্ড বহন করে। সেগুলোর কোনোটাতে লেখা, ‘মিয়ানমার সরকারকে জাতিসংঘের বয়কট করতে হবে। কোনোটাতে লেখা ‘যারা রোহিঙ্গা মুসলিম ও হিন্দুদের নির্যাতন করছে, তারা সন্ত্রাসী।’ আবার কোনোটায় লেখা, ‘জাতিসংঘের রোহিঙ্গা জনগণকে সহায়তা করা উচিত।’

 

রোহিঙ্গা সংকটে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের ওপর চাপ দিতে ভারত সরকারের আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করার দাবি জানান তারা। জনতার প্রতিবাদে উত্তাল যখন বিশ্ব এমন সময়ে সু চি’র প্রতি হুঁশিয়ারি দিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরাস।

বাংলা রিপোর্ট/এফএম