ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

কপাল পুড়তে যাচ্ছে আফগানিস্তানের ক্রিকেট



ক্রীড়া প্রতিবেদক :
বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম নবীন দেশ আফগানিস্তান। হাটি হাটি পা করে ওয়ানডের পর গেল জুলাই টেস্ট স্ট্যাটাসও পেয়ে গেছে।

যে কারণে যুদ্ধবিধ্বস্থ এ দেশটি ঘরের মাঠকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লিগও শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই সুখ বোধহয় আর কপালে সইল না। কপাল পুড়তে যাচ্ছে আফগান ক্রিকেটের।

বুধবার কাবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে আত্মঘাতি বোমা হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলতে আসা পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে ভবিষৎ ক্রিকেট নিয়ে দেশটি খুব শিগগিরই গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

কেননা, ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান সফরে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার কবলে পড়েছিল। লঙ্কানদের বাসে হামলা চালালে খেলোয়াড়দের কোনো ক্ষতি না হলেও এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিল। এরপর থেকে সেখানে দীর্ঘ আট বছর ধরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে না। অবশেষে আইসিসির মধ্যস্থতায় গত ১২-১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব একাদশের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে। পাকিস্তানে লঙ্কান ক্রিকেটারদের উপর হামলা হয়েছিল হোটেলে যাবার পথে।

আর আফগানিস্তানের কাবুলে যে আত্মঘাতি বোমা হামলা হয়েছে সেটি একাবারে কাবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে। আর একটু হলে তো মাঠের ভেতরে গিয়েই সেই আত্মঘাতি বোমা পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এ ঘটনার পর পরই আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে অংশগ্রহণকারী নিজ দেশের খেলোয়াড়দের জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যসব দেশগুলোও তাদের খেলোয়াড়দের বার্তা পাঠিয়েছে ভেন্যু হিসেবে কাবুল নিরাপদ নয়।

জেডসি জানিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটার এলটন চিগুম্বুরা, হ্যামিলটন মাসাকাদজা, সিকান্দার রাজা ও রিচমন্ড মুতুম্বামিসহ নয়জন এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। আফগানিস্তানে খেলার অনুমতি পত্র প্রত্যাহার করে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো কিছুর সঙ্গেই খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি আপোষ করবে না জেডসি।

আরোকোজাই কাবুল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে বুধবারের আত্মঘাতি এ বোমা হামলাটি অস্ট্রেলিয়া কিংবদন্তি ডিন জোন্স খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করলেও তিনি অক্ষত আছেন। তবে তিনি দেখেছেন সেই হামলার ভয়াবহতা। ওই আত্মঘাতি বোমা হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হন।

এ ধরনের হামলার পর জিম্বাবুয়ে কেনিয়ার মত দলও আফগানিস্তান সফরে আসবে কিনা সন্দেহ। আর টেস্ট খেলুড়ে অন্য দেশের আসার তো প্রশ্নই উঠছে না। কাজেই বিশ্বক্রিকেটের এ নবীন সদস্য দেশটি ক্রিকেট ভবিষৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে তাদেরকে নিরপেক্ষ ভেন্যু খুঁজে ম্যাচ খেলতে হবে।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ