ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 7 days ago

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যেসব প্রমাণ পেল মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা চালানোর



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবেই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলে নতুন প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

গত ২৫ আগস্ট থেকে গণহত্যা শুরুর তিন সপ্তাহ পরও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার টেকনাফ সীমান্তে গিয়েও রাখাইন রাজ্যে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এমনকি রাখাইনের গ্রামগুলোতে মাইকিং করে তাদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। পরে তাদের ঘরের ভেতরে রেখেই পেট্রোল দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর জ্বালিয়ে তাদের পুড়িয়ে মারছে মিয়ানমার বাহিনী।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা রাখাইন রাজ্যের অনেক ছবি বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি বলছে, সেখানে গত তিন সপ্তাহে ৮০টির বেশি স্থানে বিশাল এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো এই কাজ করছে।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, স্যাটেলাইটে আগুন শনাক্ত করতে পারে— এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া ছবি ও মানুষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি দেখতে পেয়েছে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে মোট ৮০টি জায়গায় ব্যাপক মাত্রায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে এমন সংঘবদ্ধ দলগুলো একসঙ্গে মিলে এই জ্বালাও-পোড়াও চালাচ্ছে। তারা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে এবং পলায়নপর মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।

অ্যামনেস্টির কর্মকর্তা তারানা হাসান জানান, এটা পরিষ্কার যে সুপরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা চালানো হচ্ছে। যেসব জায়গায় আগুন দেওয়া হয়েছে, সেই জায়গাগুলোর আগের চার বছরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তারা কোনো অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখতে পাননি। বেছে বেছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতেই আগুন দেওয়া হয়েছে।

অথচ মিয়ানমার সরকার বলছে, তারা আগুন দিয়ে গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছেন না, শুধুমাত্র সন্ত্রাস দমন করছেন। মিয়ানমারের নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সুচির কণ্ঠেও একই সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

যেসব গ্রামে রোহিঙ্গা ও রাখাইনরা পাশাপাশি বাস করে, সেখানে রাখাইন বাড়িগুলো আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট কয়েকটি সেনা ও পুলিশ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

পালিয়ে আসা বস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুরুষদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, শিশুদের গলাকেটে হত্যা করছে আর মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

মুসলিম রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে—মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, এরই মধ্যে এই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে