ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 1 week ago

বিএনপি মানবিক কারণে নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ দিতে চাইছে, ত্রাণের মানবিক ও রাজনৈতিক অর্থ কী?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের মহাসচিব সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেয়ার ব্যাপারে বলেছেন, বিএনপি তো ত্রাণ দিতে যায় না, তারা যায় কয়েকটা নিউজ আর ছবির জন্য। এরপর দলীয় কার্যালয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করে। তারা মানবিক কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে কক্সবাজার ত্রাণ দিতে গেছে। এটা তাদের একটা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের কৌশল মাত্র।

আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এছাড়া গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ন্যাপ ভাসানীর জাতীয় সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ওপর ভর করে বিএনপি রাজনীতির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে যা ঘটছে এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন মানবিক বিষয়। আপনারা দয়া করে মানবিক বিষয়কে ইস্যু করে নোংরা রাজনীতির চেষ্টা করবেন না।’

এদিকে বিএনপি তাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে গত বুধবার ২২টি ট্রাক নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে কক্সবাজার যায়। তবে পুলিশি বাধার মুখে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে ত্রাণবাহী ২২টি ট্রাক বের হতে না পারায় ত্রাণ বিতরণ করতে পারেনি বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

এমনকি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও তাদের বাধা দেয়া হয় বলে জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি জানান, পুলিশ তাদের কক্সবাজার বিএনপির জেলা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদেরকে হোটেলেও যেতে দেয়া হচ্ছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে পাননি।

ত্রাণবাহী ট্রাকে রোহিঙ্গাদের জন্য চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, তেল, খাবার পানি, ঘরের ওপরে ছাউনি দেয়ার পলিথিন ছিল।

মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনে গত তিন সপ্তাহে সাড়ে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান এখন কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাবার, ওষুধপত্র দেয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও ও বিত্তজনেরা এগিয়ে আসবেন এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু তা না করে সরকারি নির্দেশে বিএনপি’র মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য নেয়া ত্রাণবাহী ২২টি ট্রাক আটকে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আওয়ামী লীগ মহাসচিব ওবায়দুল কাদের বলছেন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা মোটেও আন্তরিক নয়। ত্রাণ বিতরণের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বিএনপি। মানবিক কারণে নয়। ত্রাণ বিতরণের সময় তাদের মহাসচিব প্রতিনিধিদলের সাথে যাননি। এমনি তাদের নেত্রীও এই সময়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।

যেখানে মানুষের জীবন-মরণের সমস্যা। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভরণ-পোষণ, খাবার-দাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধপত্রাদি সরবরাহে সবার এগিয়ে আসার কথা। যেখানে রোহিঙ্গারা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে সেখানে বিএনপি’র ২২ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করা হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

কক্সবাজারে বিএনপির ত্রাণ দেয়া নিয়ে দুই দলের কাঁদা ছোড়াছুড়িতে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে এখানে বিএনপির মনের মধ্যে কী আছে সেটি বড় কথা নয়। মানবিক দিকটিই বড় করে দেখা উচিত নয় কী?

এই পরিস্থিতিতে ত্রাণের মানবিক ও রাজনৈতিক অর্থ কী? সাধারণ জনগণের মধ্যে এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে?

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে