ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে কাল দেশ ছাড়বেন তাঁর বক্তৃতায় রোহিঙ্গা ইস্যু কী থাকবে?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। দুই সপ্তাহব্যাপী এই সাধারণ অধিবেশনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকারপ্রধানরা যোগ দিয়ে থাকেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশন উদ্বোধন হয়েছে। এটি ৭২তম অধিবেশন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য আগামিকাল শনিবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তিনি এ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর ২টায় নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। আবুধাবিতে প্রধানমন্ত্রী কয়েক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবেন। এরপর ওই রাতেই শেখ হাসিনা ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নিউইয়র্ক যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী এই ফ্লাইটটি টানা ১৪ ঘণ্টা যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে। বিমানবন্দর থেকে একটি মোটর শোভাযাত্রাসহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ম্যান হাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানকালে নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ অবস্থান করবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামি ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন সময় শুরু হয়েছে যখন মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর নির্যাতনে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে সন্ত্রাস দমনের নামে মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে আসছে। মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গাদের গুলি করে মারছে, শিশুদের গলা কেটে হত্যা করছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখায় সেই মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গারা মারা পড়ছে। তাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ায় তারা তাদের বাড়িঘর আসবাবপত্র ও সহায় সম্বল ছেড়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করে। মিয়ানমার সেনারা তাদের নোম্যান্স ল্যান্ডেও অবস্থানে বাধা প্রদান করে।

এছাড়া প্রথমদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে। পরে অবশ্য মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়। রোহিঙ্গারা নাফ নদী পেরিয়ে অনেক কষ্ট স্বীকার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নাফ নদীতে নৌকাডুবিতে অনেক রোহিঙ্গা প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে প্রায় প্রতিদিনই রোহিঙ্গাদের লাশ ভেসে ওঠতে দেখা যায়।

জাতিসংঘের হিসাব মতে গত তিন সপ্তাহে সাড়ে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন ২০/২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। জাতিসংঘ অনুমান করছে এভাবে এক মাস রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকলে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী নেত্রী অন সাং সুচি এটিকে গণহত্যা বলতে মানতে নারাজ। সুচি বলছেন মিডিয়া মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেন, আমরা অত্যাচার-নির্যাতন করছি না, আমাদের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী দমন করছে। বাড়িঘরে আগুন দেয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে মানবিক কারণে। মিয়ানমার সরকারের প্রতি বারবার তিনি আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু তিনি একবার এই গণহত্যার নিন্দা জানাননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে ছুটে গেছেন কক্সবাজারে। তিনি রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতার বর্ণনা শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারের শরণার্থীরা না খেয়ে থাকবে না বলেও তিনি জানান।

রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইইউ এবং আরব রাষ্ট্রগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেই সাথে মিয়ানমার সরকারকে এই গণহত্যা বন্ধে বারবার আহ্বান জানায়। এমনকি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এই গণহত্যা বন্ধের।  সু চির নোবেল কেড়ে নেয়ারও দাবি ওঠে জোড়ালোভাবে। এছাড়া সারা বিশ্বের নোবেল বিজয়ীরাও মিয়ানমারকে গণহত্যা বন্ধে আহ্বান জানায়। কিন্তু তাতে কর্নপাত না করে মিয়ানমার সরকার গণহত্যাসহ রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া অব্যাহত রাখে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সবকটি মুসলিম দেশের প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।

জানা গেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে এই সমস্যার সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা কামনা করবেন। এক্ষেত্রে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রস্তাব দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরে এর আশু সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো জাতিসংঘে উত্থাপন করবেন।

বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে তাঁর ভাষণে আদৌ রোহিঙ্গা ইস্যু কী তুলে ধরতে পারবেন? সেইসাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার জোড়ালো বক্তব্য কী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি কাড়তে পারবে? সেটিই এখন দেখার বিষয়।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে সড়কপথে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সেখান থেকে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। ২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে