ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 5 months ago

রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী ইস্যুতে ইসলামী দলগুলো রাজপথে সরব!



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী ইস্যুতে ইসলামী দলগুলোর রাজপথে সরব উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী দলগুলো।

সমাবেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আগামী সোমবার ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও এবং জাতিসংঘ কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দল। এছাড়া হেফাজতে ইসলাম মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দেয়ার আহ্বান জানায়।

এ সময় বিভিন্ন ইসলামি দলসহ মুসল্লিদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট। হেফাজতে ইসলাম, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, ইসলামি ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামি যুব আন্দোলনসহ অন্যান্য ইসলামি দল এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বায়তুল মোকাররম সংযুক্ত রাস্তা ব্লক করে আগুন জ্বালিয়ে মুসল্লিরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সমাবেশে মিলিত হন।

মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম রাখাইন রাজ্যকে স্বাধীন করার জন্য জেহাদ করতে চায়। আর সেই জেহাদের জন্য সরকারকে যুদ্ধ ঘোষণা ও তাতে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটি।

হেফাজতের নায়েবে আমির বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরাকানে গণহত্যা চালাচ্ছে। আমি এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে সরকারকে বলব, কূটনৈতিকভাবে সমাধান করুন। যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান না হয় তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করুন। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ প্রস্তুত রয়েছে জেহাদের জন্য।’

বাংলাদেশের সব মানুষকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে নূর হোসেন কাশেমী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর যে জুলুম হয়েছে, তা মেনে নেয়া যায় না। আসুন, আমরা আরাকানকে স্বাধীন করি। বাংলাদেশের সবাই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। সরকার যদি এই জিহাদে নেতৃত্ব দেন, সর্বস্তরের জনগণ তাতে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’ আর কালক্ষেপণ না করে মিয়ানমারের ‍বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান তিনি।

হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি জোনায়েদ আল হাবীব তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা আরাকানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। রোহিঙ্গা সমস্যার একটাই সমাধান, সেটা হলো জেহাদ। জেহাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আরাকান স্বাধীন করতে চাই। আমরা চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এই জেহাদের ঘোষণা আসুক। বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এই জেহাদের জন্য প্রস্তুত।’

হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলার মানুষ আরাকানের স্বাধীনতা চায়। সরকারের উচিত হবে আরাকান যুবকদের হাতে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়ে আরাকানে মুক্তিযুদ্ধের জন্য পাঠানো। আরাকানের স্বাধীনতাই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান।

হাটহাজারী মাদ্রাসার জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রতিনিধি মাওলানা রকিবুল ইসলাম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার একমাত্র সমাধান জেহাদ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, হেফাজত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ফিরে আসে। এ ছাড়া আজ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ব্যানারেও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সাভারসহ অন্যান্য অনেক জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজত ইসলামসহ ইসলামী দলগুলো। এসব সমাবেশ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধসহ তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে