ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 1 week ago

বাংলাদেশে আগত শরণার্থী রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু, যারা মারাত্মক স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে!



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চলছে দেশটির সেনাবাহিনী ও দুর্বৃত্তদের ইতিহাসের জঘন্যতম নির্যাতন। সেনাবাহিনীর কা-পুরুষিত নির্যাতন বিশ্ব বিবেককে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। দেরিতে হলেও পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বনেতারা। সেনাবাহিনীর ন্যক্কারজনক অভিযানে চীন ও ভারত সম্মতি জানানোও বিশ্ববাসীর প্রতিবাদের মুখেও অনড় মিয়ানমার। যার ফলশ্রুতিতে মরছে রোহিঙ্গা মুসলিম, ধর্ষিত হচ্ছে মা-বোন, পিতৃহীন হয়ে পড়ছে শিশুরা।

 

 

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু, যারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। প্রায় দুই লাখ শিশু সেখানে অবস্থান করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা মোট রোহিঙ্গার ৬০ শতাংশ। শারীরিক ও মানকিভাবে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ।

 

মিয়ানমারে ২৫ আগস্ট সর্বশেষ সহিংসতা শুরুর পর এসব শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের সাথে আসছে শিশুরাও।

 

 

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে ইউনাইটেড ন্যাশনস চিলড্রেন ফান্ড (ইউনিসেফ) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তার জন্য ইউনিসেফ আগামী ৪ মাসে দাতা দেশগুলোর কাছে ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে।

 

 

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, আগে থেকে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী শিবিরগুলোতে নতুন করে আসা এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার স্থান সংকুলান হচ্ছে না হওয়ায় তারা যেখানেই জায়গা পাচ্ছে আশ্রয় নিচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, গুড়া সাবান, সাবান, পানির পাত্র, তোয়ালে, স্যানিটারি ন্যাপকিনস, ওষুধপত্রসহ চিকিৎসার সামগ্রী ও স্যান্ডেলবাহী ট্রাকগুলো কক্সবাজারের দিকে আসছে। আগামী দিনগুলোতে আরো ত্রাণ সামগ্রী আসবে।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বিগবেডার বলেন, শরণার্থীদের জন্য বিশেষত: জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানিসহ সবকিছুরই প্রয়োজন রয়েছে। শিশুরা সেখানে পানিবাহিত রোগের ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ মুহূর্তে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই শিশুদের রক্ষা করাই আমাদের প্রধান কাজ।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, নলকূপ স্থাপনে ইউনিসেফ তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। পানি শোধানাগার স্থাপন ও সরবরাহে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে সহায়তা করা হচ্ছে।

 

 

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে নবজাতকসহ এক বছর থেকে ১৫ বছরের শিশুর সংখ্যাই বেশি। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে তারা আক্রান্ত। কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ঠিকমতো খেতে না পেয়ে তারা অপুষ্টিতে ভুগছে। মায়ের কাছ থেকে নবজাতক সন্তানও পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পুষ্টি। উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে অনেক গর্ভবতী খোলা আকাশের নিচেই প্রসব করছেন।

 

 

এমন অবস্থায় শিশুরা পড়েছে চরম স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে। তবে এসব নারী ও শিশুকে সহায়তা দেয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় দুই লাখ টিকার প্রয়োজন। এদিকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ কয়েকটি এনজিও সংস্থা এগিয়ে এসেছে। তবে তা খুবই সীমিত।

 

 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি গণমাধ্যমকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে অস্থায়ী বাসস্থান তৈরির কাজও চলছে। নারী, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভিজিএফের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রসূতিদের মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

 

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে। মারা যেতে পারে শত শত মানুষ। এ মুহূর্তে সরকারের কাজ হবে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা ও ত্রাণ বিতরণে সবার প্রতি আহ্বান জানানো। ত্রাণ ও চিকিৎসা উন্মুক্ত করে দেয়া। এ বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য বহু চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং ওষুধের প্রয়োজন।

 

 

কক্সবাজার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. নাসিমা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ৭ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যমজ দুই শিশুসহ ১৭ জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। কেউ রাস্তায় আবার কেউ বারান্দায় সন্তান প্রসব করছেন। যেসব ঝুপড়ি ও বারান্দায় সন্তান প্রসব হয়েছে সেসব স্থানে লাল ও হলুদ পতাকা টাঙানো হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মহিলারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন না বললেই চলে। প্রতিটি পরিবারে ৪-৫ জন করে শিশু রয়েছে। কারও কারও ১০-১২ জন সন্তানও আছে।

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী সন্তান প্রসব করেছেন। এখনও সন্তান-সম্ভবা শত শত নারী রয়েছেন। এসব নারী চরম স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছেন, রয়েছেন স্বাস্থ-ঝুঁকিতে।

 

 

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ১ হাজার ১২৮ শিশুর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা ইউনিসেফ। মঙ্গলবার সংস্থাটির শিশু নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জিন লিবি এক বিবৃতিতে জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশের গুলি থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছে তারা। এসব শিশুর জীবন বাঁচাতে জরুরি সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু জরুরি নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

 

 

চোখের সামনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিপুল ধ্বংসলীলা, খুন, ধর্ষণ এবং নিপীড়ন দেখে শিশুরা মানসিকভাবেও ভয়ানক বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা সেবাও এখন দরকার।

 

 

বাংলা রিপোর্ট/এফএম