ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৮০ শতাংশ নারী ও শিশু, কারণ কী জানেন?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

 

মিয়ানমারে সহিংসতায় বাংলাদেশে স্রোতের মত ছুটে আসছে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ। গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। শিশুদের মধ্যে এক হাজার ১২৮ জন ছিন্নমূল। এদের সঙ্গে তাদের পরিবারের কেউ নেই। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর এডুকেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মোহসিন ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।

 

 

পালিয়ে আসা এসব মানুষ বলছে, রাখাইনের আকাশে উড়ছে সেনা হেলিকপ্টার, ভূমিতে সেনা কমান্ডো আর দুর্বত্তদের তাণ্ডবে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বেশির ভাগকেই হত্যা করা হয়েছে। যুবতী মেয়েদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হচ্ছে। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে ভেতরে থাকা পুরুষ ও যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর অনেককে পুড়িয়েও হত্যা করা হচ্ছে, যাতে কোনো হত্যা বা ধর্ষণের আলামত না পাওয়া যায়। আবার কোনো কোনো পুরুষ প্রাণ বাঁচাতে নিখোঁজ রয়েছে, যার খবর জানে না পালিয়ে আসা তার স্ত্রী।

 

 

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা নারীরা বলছেন, স্বামী ও তাদের সন্তানদের তাদের সামনেই হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেককে অগোচরে হত্যা করা হয়। যুবতী মেয়েদের মায়ের সামনে থেকে ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা হয়, যাদের খোঁজ এখনো তাদের কাছে নেই।

 

 

‘‌গত ২৫ অাগস্ট হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে বলে ধারণা করছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। কিন্তু স্থানীয় মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, শরণার্থীর সংখ্যা আসলে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি। আগে পরে সব মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী অবস্থান করছে’।

 

 

মোহাদ্দেসা নামে এক নারী বলছেন, তার স্বামী, এক ছেলে ও শ্বশুরকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। তিনি বলছিলেন, সেনাবাহিনীর সন্দেহ ছিল তার স্বামী আল ইয়াকিন নামের একটি গ্রুপের সদস্য।

 

 

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ওপর হামলার কারণ হিসেবে আরাকান রোহিংগা স্যালভেশন আর্মি বা আরসাকে দায়ী করছে। সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে হারাকাহ আল ইয়াকিন নামে পরিচিত ছিল।

 

 

সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন আবুল কালাম। তিনি বলছিলেন, তাকে গুলি করার সময় তারা বলেছে এ দেশ মুসলমানদের জন্য নয়।

 

 

গোলটেবিল আলোচনায় জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর এডুকেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মোহসিন বলেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুই লাখই শিশু। এসব শিশুর মধ্যে এক লাখ শিশু আট বছর বয়সী। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশে এসেছে এক হাজার ১২৮ জন শিশু। এসব শিশুর মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। এ থেকে তাদের মুক্তি দিতে হবে। শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব শিশুর সুস্থতার জন্য এখন খাদ্য-পুষ্টি প্রয়োজন।

 

 

রোহিঙ্গাদের এলাকাছাড়া করতে ধর্ষণকে ‘হাতিয়ার’ করছে মিয়ানমার সেনা, অভিযোগ এমনটাই। চলছে নির্বিচারে হত্যালীলা। হাজার-হাজার নারী শিকার হয়েছে সেনার যৌন নিগ্রহের। এমনটাই অভিযোগ জানিয়েছেন এক শরণার্থী।

 

 

তবে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা সংঘর্ষের মাশুল দিতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদশের একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন হাজেরা বেগম (নাম পরিবর্তিত)। তাদের ওপর চলা অমানবিক অত্যাচারের কথা তিনি তুলে ধরেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। তিনি জানান, একদিন রাতে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে সরকারি বাহিনী। যারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তারা প্রাণে বেঁচে যান। বাকিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় মহিলাদের।

 

 

ইলিয়াস নামের আরেক শরণার্থী জানান, তারা যখন পালিয়ে আসেন তখন চোখের সামনে একজন মহিলাকে ধর্ষিত হতে দেখেন তিনি। নির্যাতিতার কোলে তার শিশু সন্তান ছিল। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় যেসব নারী ও শিশু আশ্রয় নিয়েছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ভার নিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রশাসন। তারা জানিয়েছেন, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন নিয়ে মুখ খুলছেন না নির্যাতিতারা। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

 

 

জানা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশের প্রায় ১৭৬টি গ্রাম এখন জনমানবশূন্য। মিয়ানমার সেনার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জেরে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছেন বাসিন্দারা। রাখাইনের তিনটি শহরতলি এলাকায় সর্বমোট ৪৭১টি গ্রাম রয়েছে।

 

 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়নকে ‘কার্যত জাতিগত নির্মূল’ বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাই অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে দেশটির সরকারের প্রতি ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলা রিপোর্ট/এফএম