ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

ভারতের বিদেশমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ফোন, ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে, কেন?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে অমানবিক নির্যাতন। দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। গুলি চালাচ্ছে নির্বিচারে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামের পর গ্রামে বোমা ছুড়ে তছনছ করছে। নারী ও কন্যাশিশুদের ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এমন অত্যাচারের মুখে লাখ লাখ নারী-পুরুষ-শিশু স্থল ও নৌপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সুষমা স্বরাজ কী রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েই যাবেন, নাকি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের সেনাবহিনীদের সহযোগিতা করবেন? এদিকে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত। তাই মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বলছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন এ কথা বলেন।

 

চলমান রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে এ সমর্থনের কথা জানান।

সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম গণভবন থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারতীয় সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চলা নির্যাতন বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা কেবল বাংলাদেশের কোন ইস্যু নয় বরং এই সমস্যা এ অঞ্চল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রূপলাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কেবলমাত্র মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, রোহিঙ্গা তাদের নাগরিক।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অস্থায়ী ব্যবস্থা করার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু তাদের দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় ধরনে সমস্যার সৃষ্টি করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে তার দলের নেতা-কর্মীরাও রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে দিন-রাত কাজ করছে।

ফোনালাপকালে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের।

হর্ষবর্ধন শ্রীংলা রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ভারতীয় ত্রাণসামগ্রীর প্রথম চালানের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এদিকে সু চি’র পাশে দাঁড়ানোয় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে কলকাতায়। রোহিঙ্গা সংকটে মোদির এমন ভূমিকা অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিরোধী নেতারা।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের মিয়ানমার সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠক করেন অং সান সু চির সঙ্গে। বৈঠকে মোদি রাখাইন রাজ্যে ‘সেনাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানলেও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে মুখ খোলেননি।

উল্টো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন দেন মোদি। সফরে ১১টি চুক্তিসহ ভারতের স্বার্থ রক্ষার পরও সমালোচনার শূলে চড়ানো হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়া, ভারতের চিরাচরিত মানবিক নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী বলছেন বিরোধী রাজনীতিকরা।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, বামপন্থি নেতা মোহম্মদ সেলিম কট্টর সমালোচনা করেছেন মোদির। জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের এমন ভূমিকা অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও মনে করছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোদির নীরবতা ভুল বার্তা দিচ্ছে। মোদি ও সু চির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন কলকাতার হাজারো মানুষ। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সমর্থন না দেয়ায় মোদির ওপর ক্ষুব্ধ ভারতীয়রাই।

তবে মিয়ানমারে মোদির পূর্বনির্ধারিত সফরকে কৌশলগত মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাদের মধ্যে নারী এবং শিশুর সংখ্যাই বেশি।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম