ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

লাগামহীন ভাবে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম



পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাজারে পণ্যের কোনো সংকট না থাকলেও নানা অজুহাতে দফায় দফায় দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের পণ্য।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল থেকে শুরু মাছ-মাংস-ডিম সবই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলছে চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলার দাম। গত এক সপ্তাহে এরই মধ্যে পাইকারিতে প্রতিকেজি ছোলার দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। সেই হিসেবে এখন কেজিপ্রতি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৮ টাকায়। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ভালো মানের চিনি কিনতে হলে লাগবে ৭৪ টাকা। অপরদিকে ছোলা চিনির সাথে পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে মসুরের ডালের।

বাজার বিশ্লেষণ ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কারওয়ানবাজারে মোটা স্বর্ণা চাল কেজি প্রতি তিন টাকা বেড়ে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, পারিজা চাল ৪৪ থেকে ৪৭ টাকা, মিনিকেট (ভালো মানের) ৬২ থেকে ৬৫, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৭ থেকে ৬০, বিআর ২৮ চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা ও উন্নতমানের নাজিরশাইল ৫৮ টাকা। পাইজাম চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০, বাসমতি ৫৬, কাটারিভোগ ৭৮, এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাওরে বন্যা এবং সারাদেশে বৃষ্টিপাতের অজুহাতে চালের দাম দুই সপ্তাহ আগে এক দফা বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহে আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে।

 

রমজান মাস ঘনিয়ে এলেই মুদি পন্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে।আজকের বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৯৫ টাকা; মুগ ডাল ১৩৫ টাকা দরে; ভারতীয় মুগ ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা ও ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭২-৭৩ টাকা দরে চিনি; ১৩০ টাকায় দেশি রসুন; ২৩০ টাকায় ভারতীয় রসুন বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ভোজ্য তেল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৬ টাকা। লবণের কেজি ৩৮ টাকা; দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো কেজি ৫০ টাকা, সাদা বেগুন ৫০-৬০ টাকা, কালো বেগুন ৬০ টাকা, শশা ৪৫-৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে,গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০, দেশি মুরগি ৪০০, পাকিস্তানি লাল মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা দরে ।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এ,এইচ