ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 4 months ago

হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ধেক সুদে কৃষি ঋণ দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাওর এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে অর্ধেক সুদে নতুন কৃষিঋণ দেয়া হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার এক জনসভায় তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত পুর্নব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত কৃষি ঋণের টাকা মওকুফ করা হলো।

শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুনরায় কৃষিকাজ শুরুর জন্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে নতুন কৃষিঋণ পাবেন। একইসঙ্গে সরকার তাদের পেশা বহুমুখিকরণের জন্যও সহায়তা প্রদান করবে।

বন্যাদুর্গত এলাকার সুরক্ষায় সরকার পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ অনাহারে থাকবে না, আশ্রয়হীন থাকবে না; যেহেতু ভিজিএফ কর্মসূচি এবং ওএমএস কর্মসূচি হাওর এলাকায় অব্যাহত থাকবে।

ভিজিএফ চাল সরকারের উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ আছে, প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও খাদ্য আমদানি করা হবে।’

বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বন্যাদুর্গত হাওর এলাকা স্বচক্ষে দেখার জন্য শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে বন্যাদুর্গত খালিয়াজুরি উপজেলা পরিদর্শনে আসেন। খালিয়াজুরি ডিগ্রি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গত কৃষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পূর্বে তিনি এক জনসভায় বক্তৃতা করেন। পরে তিনি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় দেশের এই উত্তরপূর্বাঞ্চলের ব্যাপক জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজার হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৮৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে করে জেলার জেলার ১ লাখ ৬৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার সঙ্গেই তাঁর সরকার দুর্গতদের পুনর্বাসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে সকল মন্ত্রণালয়গুলোও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা কোন নতুন কিছু নয়, কিন্তু বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকারকে তৎপর থাকতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের এখানে যেটাকে হাওর বলে আমাদের গোপালগঞ্জে সেটাই বাওর, কাজেই একজন হাওর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমার জানা রয়েছে- এই বন্যায় আপনাদেরকে কি রকম দুঃখ কষ্ট পোহাতে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা কমিয়ে আনতে যত রকমের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন সরকার সবকিছু করবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কৃষকদের শুধুমাত্র ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল না থেকে তাদের পেশার বহুমুখিকরণের মাধ্যমে পিসি কালচার, হর্টিকালচার এবং ডেইরি ও পোলট্রি শিল্পের প্রতি ঝোঁকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী হাওর এলাকায় বোরো ধানের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু এক ফসলের ওপর (বোরো চাষ) নির্ভরশীল না থেকে ডাল, সরিষা এবং সবজি চাষের দিকেও কৃষকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নেত্রকোনার জনগণকে বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বাঁধ তৈরি ও সংস্কার করার উদ্যোগ নেবে সরকার। তাছাড়া এই হাওর এলাকার নদীগুলো পুনঃ:খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে করে নদীগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ নাব্যতা বজায় রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অতি দরিদ্রদের মাঝে ভিজিডি এবং ভিজিএফ’র মাধ্যমে খাদ্য সরবারাহ জোরদার করেছে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিও চালু রেখেছে।

হাওর এলাকার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার হাওর এলাকার জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনা জেলার গৃহহীনদের তালিকা তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিযে বলেছেন, সরকার প্রত্যেক গৃহহীনকে পুনর্বাসন করবে।

তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের বিদ্যালয়গামী শিশুদের কল্যাণে তাঁর সরকার আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিবে।

কৃষকদের জন্য গৃহীত নানা কল্যাণমুখী পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরই তাঁর সরকার বর্গাচাষিদের জন্য বিনা জামানতে কৃষিঋণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সুলভমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে ২ কোটি ৮ লাখ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করেছে।

একইসঙ্গে ৯৭ লাখ ৩১ হাজার কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। যেখান থেকে সরকার প্রদত্ত ভর্তুকির টাকা কৃষকরা সরাসরি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন জনসভায় বক্তৃতা করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে