ব্রেকিং নিউজঃ

ভেজাল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু, ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত  ***  আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়ারেন রুনির  ***  নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ১ জন নিহত  ***  মিয়ানমারে সেনা মোতায়েনের পর সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে  ***  'বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা'র দায়ে ১৩ শিক্ষক কারাগারে  ***  আজ বিকাল ৩.৩০ মিনিটে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ  ***  দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন ডি ভিলিয়ার্স, খেলবেন তিন ফর্মেটেই  ***  মৎস্যজীবীদের জিম্মি করে কাউকে দস্যুতা করতে দেয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ***  ব্রাজিলে নৌকা ডুবিতে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু, অনেকে নিখোঁজ  ***  মিয়ানমার থেকেও আসছে কোরবানির পশু
Published: 2 weeks ago

খালি হাতে ফিরলেন বোল্ট



ক্রীড়া প্রতিবেদক :
বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্টের এমন বিদায় কেউই চাননি। এ কিংবদন্তির বিদায়টা রাজকীয়ভাবে হবার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ গতির এ মানব শেষ বেলায় এসে সবাইকে হতাশ করবেন, সেটা কারোরই ধারণা ছিল না।

অথচ জ্যামাইকান এ বিশ্বসেরা অ্যাথলেট লন্ডনের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে অবসরে যাবেন এক বছর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রাজিলের রিও অলিম্পিক গেমসে। দাপটের সঙ্গেই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ছাড়বেন সে কথা ভেবেই বিদায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘসময় নিয়েছিলেন। প্রস্ততির অংশ হিসেবে জুনে নিজ দেশের ট্র্যাকে শেষবারের মত দৌড়েছিলেন। পরের প্রস্তুতি ছিল মোনাকো অ্যাথলেটিকসের ডায়মন্ড লিগে। নিজেকে বেশ ঝালিয়ে নিয়েই চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে পা রাখেন ৩৫ বছর বয়সী এ অ্যাথলেট। স্বপ্ন ছিল শেষ বেলায় বিশ্ববাসীকে চমক দেখিয়ে, রেকর্ড গড়ে রাজকীয় বিদায় নেবেন। শুধু তাই নয়, আটবারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী বোল্ট নিজের বিদায় বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি যে ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করতে পারবেন সে দুটি ইভেন্টেই এন্ট্রি করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ও ৪০০ মিটার রিলেতে বাজিমাত করবেন।


কিন্তু ৫ আগস্ট বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটেই দারুণ এক ঝাঁকুনি খেয়েছেন। লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে হিটে ১০.০৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছিলেন বটে। কিন্তু স্বস্তিতে ছিলেন না। দেরিতে দৌড় শুরু করে এক পর্যায় পিছিয়ে পড়েন। তবে স্বভাবসুলভ গতিতেই সবাইকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যান। দৌড় শেষে বোল্ট নিজের এ টাইমিং পারফরম্যান্সে খুশি হতে পারেননি। এমনকি এ টাইমিং দিয়ে যে বাধা উতরানো যাবে না, তা হয়ত আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই তো তিনি নিজেই অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে এটাকে খুব খারাপ পারফরম্যান্স বলেছিলেন। সে থেকেই মূলত তার আত্মবিশ্বাসের জায়গায় চিড় ধরতে শুরু করে।

মনের ভেতর চিড় ধরা সেই সংশয় নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শেষবারের মত ট্র্যাকে নেমে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। অথচ লন্ডনে এ প্রেস্টিজিয়াস ইভেন্টে এগার বারের বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে স্বর্ণ পাওয়া বোল্ট ৭ আগস্ট ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে হেরে যাবে কেউই বিশ্বাস করতে পারেনি। তাকে পেছনে ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিন স্বর্ণ জয়ের পরও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি ৯.৯২ সেকেন্ডে সবার আগে দৌড় শেষ করেন। তবে ৯.৯৪ সেকেন্ডে রৌপ্য জয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান। কিন্তু গতিমানব বোল্ট ৯.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভাগ্যিস তৃতীয় হয়েছিলেন। নইলে তো ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় পদকই জয় হতো না। অন্তত এ লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।


কিন্তু বোল্টের জন্য যে আরো দু:সময় ও আরো বড় লজ্জা অপেক্ষা করছিল সেটা বোধহয় তিনি নিজে তো বটেই, সেই সঙ্গে কেউই ভাবতে পারেননি। অন্তত বিদায় বেলায় ৪০০ মিটার রিলে স্বর্ণ জয়ের আশা নিয়েই ১২ আগস্ট হাজির হয়েছিলেন সেই চেনাজানা লন্ডন অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে। শেষ ল্যাপে সবার চোখ বোল্টের দিকে। ওমার ম্যাকলাউড, জুলিয়ান ফোর্ট, ইয়োহান বেকের পরে শেষ ল্যাপের জন্য দৌড়াচ্ছিলেন গতিমানব বোল্ট।

কিছুটা দৌড়ে প্রথমে খোঁড়ানোর শুরু আর একপর্যায় তো লুটিয়েই পড়েন! ফিনিশিং লাইন পর্যন্তও যেতে পারেননি। সে এক করুণ ট্র্যাজেডি। প্রায় ৪৮ মিটারের পর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে তাকে সেখানেই থেমে থাকতে হয়েছে। অথচ ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে তার ভক্তরা চেয়েছিলেন স্বর্ণজয়ে তার বিদায়। স্বর্ণ তো দূরের কথা ব্রোঞ্জও মেলেনি। এ ইভেন্টে ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে গ্রেট বৃটেন ও নর্দান আয়ারল্যান্ড স্বর্ণ, ৩৭.৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রৌপ্য এবং ৩৮.০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে জাপান।


উসাইন বোল্টের বর্ণাঢ্যময় ক্যারিয়ারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটার রিলে ৪ বার স্বর্ণপদক জয় করেন। আটবার করেছেন অলিম্পিক স্বর্ণ জয়। ১১ বার পেয়েছেন বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের স্বর্ণ। বোল্ট ২০০৯ সাল থেকে এবারের আসরের আগ পর্যন্ত ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার রিলে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। লন্ডন ২০১২ অলিম্পিকে ৪০০ মিটার রিলে ৩৬.৮৪ সেকেন্ডে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন বোল্ট ও জ্যামাইকানরা।

শেষটা হল আরো করুণ! ফিরলেন খালি হাতে। সবার হয়ত মনে পড়বে ২০১১ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে চোখে জল নিয়ে ট্র্যাক ছেড়েছিলেন বোল্ট। এবার লন্ডনে শনিবার রাতে ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় ছলছল অশ্রুসজল চোখে এ গতিদানবকে বিদায় নিতে হল। এরচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কি হতে পারে!

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ