ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

দুঃসময়ে পতিত হয়েছে আওয়ামী লীগ?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে বেকায়দায় পড়েছে দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় টিকে থাকা আওয়ামী লীগ। সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধান বিচারপতিকে তুলোধুনো করলেও ভেতরে ভেতরে শঙ্কা বিরাজ করছে। খোদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমন শঙ্কার আভাস দিয়েছেন।
তবে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে মোকাবেলায় মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

১১ আগস্ট শুক্রবার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, আবার আমরা দুঃসময়ে পতিত হয়েছি, চক্রান্তের মুখে পতিত হয়েছি, আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

 

 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একটি দল বিষধর সাপের মতো সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। ইস্যুর পর ইস্যু খোঁজে, কিন্তু আন্দোলনে মাঠে থাকে না। সাড়ে ৮ বছরে কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। বিএনপির শাসন আমল মানেই সারি সারি লাশ, শত শত মানুষ পুড়িয়ে মারা। আর লুটপাটের অপর নাম বিএনপি।

 

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা (বিএনপি-জামায়াত) আবার ক্ষমতায় এলে ভয়ঙ্কর অমানিশায় দেশ পতিত হবে। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মনে হয় ক্ষমতার সিংহদ্বারে পৌঁছে গেছে। গর্ত থেকে ওঠে আবার লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপশক্তিকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবেলা করতে মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরাই আবার জয়ী হবো এবং সরকার গঠন করবো।

 

 

তবে দৃঢ়তার সাথে এক সমাবেশে শেখ সেলিম বলেছেন, ক্ষমতার কোনো চেয়ারে বসে যা খুশি তাই করবেন-তা করা যায় না, এ দেশের জনগণ সময় মতো সঠিক উত্তর দেবে।

 

 

‘ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা গত কয়েক দিন ধরে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করছেন। এর মধ্যে রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন ক্ষমতাসীন দল সমর্থক আইনজীবীরা’।

 

 

এদিকে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর সরকার বিচলিত হয়ে পড়েছে। তাদের অবস্থা এখন নড়বড়ে। তারা নানা রকমের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এ রায় তারা মেনে নিতে পারছে না। এমনকি জনগণের কাছেও যেতে পারছে না।

 

 

‘বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে এনে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সরকার যা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নামে পরিচিতি পায়। এরপর একজন আইনজীবী এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে রিট আবেদন করলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ৩ জুলাই এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগ।’

 

 

‘গত ১ আগস্ট আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ হয়। এতে ষোড়শ সংশোধনী ছাড়াও শাসন বিভাগের নানা দিক নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বর্তমান সংসদকে অপরিপক্ক, অকার্যকর বলেও সমালোচনা করেন’।

 

 

মওদুদ বলেন, মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের মহামান্য বিচারপতিরা কারো ওপর ঈর্ষান্বিত হয়ে অথবা আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে এ রায় দেননি। এ রায়ে গত নয় বছরে সরকারের শাসনের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি মানুষের মনের দুঃখ-ব্যথা-বেদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিশেষ করে এ সরকারের শাসনের নালিশের কিছুটা প্রকাশ পেয়েছে।

 

 

অন্যদিকে শনিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী আইন বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ অথবা এক্সপানশনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

 

 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তোমরা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে বঙ্গবন্ধু এ দেশকে কীভাবে সু-সংঘঠিত করার জন্য স্বপ্ন দেখেছিল তা জানতে পারবে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে যদি সঠিকভাবে বই লেখা হতো-আর সে বই যদি কেউ পড়তো তাহলে সবাই কাঁদতো। সে বই আজও রচিত হয়নি। হয়তো ভবিষ্যতে হবে।

 

 

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এমনসব মন্তব্য করেছেন যা শুধু অশালীনই নয়, আদালত অবমাননার শামিল।

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা যেসব কথা বলছেন, কোথায় নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রকে, কোথায় নিয়ে গেছেন দেশকে। সত্য কথা বেরিয়ে এসেছে আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে। বর্তমান সরকার যে একটা দানবীয় সরকারের পরিণত হয়েছে- দানবের মতো সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে, মানুষের মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

 

 

তিনি বলেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই পেছনের দরজা দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। বরাবরই দেখেছি, বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার জন্য আওয়ামী লীগ পেছনের দরজা দিয়ে চেষ্টা চালায়। এবার তারা জনগণকে ভুল বুঝিয়ে আবার পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। সরকার মনে করেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি একতরফা একদলীয় নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসবে। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা ২০১৮ সালে হবে না।

 

বাংলা রিপোর্ট/এফএম