ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

ডারউইনের হোমওয়ার্ক মোকাবিলায় টাইগাররা কতটুকু প্রস্তুত?



ক্রীড়া প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া ১০ আগস্ট থেকে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এক সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে। সেখানকার আবহাওয়া অনেকটা বাংলাদেশের মত হওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অনুশীলনের জন্য ওই স্থানটিকেই বেছে নিয়েছে।

ডারউইনে ঢাকার আদলে সেখানে এমনভাবে তিনটি উইকেট তৈরি করা হয়েছে যেখানে অসিরা বেশ স্বাচ্ছন্দেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতিতে তারা স্পিন অ্যাটাকের উপরই বেশি জোর দিচ্ছে। পেস অ্যাটাক নিয়ে খুব একটা ভাবছে না। ব্যাটিংয়েও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাত্র এক সপ্তাহের প্রস্তুতিতে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের কতটা গুছিয়ে নিতে পারবে বলা মুসকিল। গেল দুই মাস স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা ব্যাট-বলের অনুশীলনের চেয়ে দাবি-দাওয়া আদায় নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করেছেন। একদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন (এসিএ)। দু’পক্ষের সামনা-সামনি অবস্থান, আন্দোলনে স্মিথ-ওয়ার্নাররা বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা নেবার সময় পায়নি। বরঞ্চ তারা হুমকি দিয়ে আসছিল স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট চুক্তি ছাড়া কোন সফর করবেন না। ৭ আগস্ট সিএ-এসিএ ঐক্য পৌঁছানোয় সংকটময় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট রাতারাতি পাল্টে যায়। শুরু হয়ে যায় আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে অসিদের চিন্তা-ভাবনা। সে অর্থে অসিরা বাংলাদেশে খুব একটা প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারছে না।

তবে অস্ট্রেলিয়া ডারউইনের যে হোমওয়ার্ক করছে, সে তুলনায় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। অসিরা আসছে ভেবেই টাইগাররা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই ১০ জুলাই থেকে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং ফিটনেস ক্যাম্প করেছে।

এরপর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিশেষ ক্যাম্প করতে মুশফিকবাহিনী ২ আগস্ট চট্টগ্রাম পৌঁছায়। সেখানে তিন সেশনে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের ঝালিয়ে নিতে তিনদিনের একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে অংশগ্রহণ শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরে।

আজ শনিবার একদিন বিরতি দিয়ে আগামীকাল রোববার থেকে ফের অনুশীলনে নামছেন টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় পা রাখার আগেই মুশফিক-তামিমরা ফের ১৬ ও ১৭ আগস্ট আরো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন। তারপরেরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াডের নাম ঘোষণা করবে বিসিবি।

প্রস্তুতিতে লাল-সবুজের দেশ এগিয়ে নি:দ্বিধায় বলা চলে। যে পরিমাণ প্রস্তুতি সারছে স্বাগতিকরা তাতে সবকিছু ঠিকঠাক মত হলে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাংলাদেশ সফর সুখকর নাও হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ সফরের আগেই সাবেক টেস্ট কিংবদন্তি ইয়ান চ্যাপেল অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সেই আগের মত নেই। দেশটি ক্রিকেটে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। কাজেই স্বাগতিকদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ সতর্ক করে দিয়েছেন দলের খেলোয়াড়দের। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ শুধু শক্তিশালী দলই নয়, বিপজ্জনক দলও বটে। তিনি মনে করছেন, দুই টেস্টের সিরিজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ময়দানি লড়াইয়ে টাইগাররা খেলতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। বেশ খোশমেজাজে রয়েছেন। জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন দেখছেন।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম জানিয়েছেন, সেরাটা দিতে পারলে তাদের হারানো সম্ভব। ড্যারেন লেহম্যান এ সফর থেকে ভালো কিছু নিয়ে দেশে ফেরতে চান।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাবার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি টেস্ট খেলেছে। দু’টি ফতুল্লা ও চট্টগ্রামে এবং অন্য দু’টি ডারউইন ও কেয়ার্নসে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল। আর ২০১১ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছিল। এরপর দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোয় শুধু ওয়ানডেই হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে তারা বাংলাদেশ সফরে আসছে। এরপর ২২-২৪ আগস্ট ফতুল্লা কিংবা বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। তবে ২৭-৩১ আগস্ট ঢাকায় প্রথম টেস্ট এবং ৪-৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ