ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

উ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কতটুকু ভয় পান?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার প্রতি আবারো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পিয়ংইয়ং যদি আমেরিকা ও তার স্বার্থের ক্ষতি করে তাহলে তাকে এমন শিক্ষা দেয়া হবে যে, ভয়ে তার গা শিউরে উঠবে। এখন একটাই প্রশ্ন জাগে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা নিয়ে উ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কতটুকু ভয় পান?

 

ট্রাম্প আরো বলেছেন, এর আগে উত্তর কোরিয়াকে ‘ক্রোধের আগুন’ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন তাতে সম্ভবত উত্তর কোরিয়া ভয় পায়নি।  ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি তার হুমকির ভাষা অব্যাহত রাখে তাহলে তাকে এমন জবাব দেয়া হবে যে জবাব এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি দেশ পেয়েছে মাত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে উত্তর কোরিয়াকে যে হুমকি দিয়েছিলেন পিয়ংইয়ং তাকে ‘আহম্মকের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দেয়ার পর নতুন হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

 

এ ছাড়া, উত্তর কোরিয়া গতকাল ঘোষণা করেছিল, দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন দ্বীপ গুয়ামের পানিসীমায় চারটি মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুয়ামে আমেরিকার কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মাসে পিয়ংইয়ং দু’টি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএমের সফল পরীক্ষা চালায়। এরমধ্যে দ্বিতীয়টির পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করে, দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এত বড় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছেড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গুয়ামে কেন হামলা চালাতে চায় উত্তর কোরিয়া? বিশ্ববাসীর কাছে এটি এখন মহামূল্যবান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তবে এর উত্তর সোজা।

 

এক. গুয়াম দ্বীপে গড়ে তোলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি। মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত যুদ্ধরসদ রয়েছে এখানে। রয়েছে সর্বাধুনিক বি-১বি বোমারু বিমানের মজুত। কয়েক হাজার সামরিক কর্মকর্তা গুয়াম দ্বীপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রণ জারি রেখেছে। কিন্তু এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে। উত্তর কোরিয়া চাইছে এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গুয়ামের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে।

 

উত্তর কোরিয়া কখনোই বলেনি, তারা সরাসরি গুয়ামের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলবে, তারা বলছে, দ্বীপের ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের কোনো স্থানে পড়বে তাদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র। এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়া সরাসরি যুদ্ধ চাইছে না, আবার যুদ্ধের আশঙ্কা ত্যাগও করছে না। কিন্তু মুখে বলছে, পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব মূলত হুমকিমূলক কথা। যা অনেক আগে থেকেই বলে আসছে পিয়ংইয়ং। তবে এতদিন শুধু উত্তর কোরিয়া এমন হুমকি দিয়ে এলেও এবার পাল্টা হুমকি আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে। ভয়ের বিষয় এখানেই। কিম জং-উন বিশ্ববখাটে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বক্ষ্যাপাটে শাসক। ফলে উত্তর কোরিয়া চাইছে, ট্রাম্পকে চাপে রাখতে এবং তা সফল হলে অন্য কোনো প্রতিবেশী তাদের বিরুদ্ধে আস্ফালন করার সুযোগ পাবে না।

 

দুই. যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করা মানে উত্তর কোরিয়ার জন্য আত্মহত্যার শামিল। কোনো মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমান নয় তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হাতে রয়েছে সবচেয়ে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গুয়াম ঘাঁটিতে আগে থেকেই থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায়ও থাড মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। থাডের চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো কঠিন হবে উত্তর কোরিয়ার জন্য। ফলে পিয়ংইয়ং এমন কোনো চমক দেখাতে চাইছে, যাতে ‘সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না’।

 

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই থেকে ৪ হাজার মাইল পশ্চিমে এবং উত্তর কোরিয়া থেকে ২ হাজার ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অঞ্চল গুয়াম দ্বীপ। নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। পরমাণু সাবমেরিনের বন্দর রয়েছে এখানে। স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেসের ঘাঁটিও আছে এখানে। জাপান সাগর ও কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনো সময় বোমারু বিমান উড়ে আসতে পারে গুয়াম থেকে।

ভূভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও অনেক আগ থেকে গুয়াম দ্বীপটি বিশ্বশক্তির কাছে লোভনীয় স্থান। ১৮৯৮ সালের আগ পর্যন্ত এটির মালিকানা ছিল স্পেনের। ওই বছর স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে পর এর নিয়ন্ত্রণ পায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে আক্রমণের পর জাপানি বাহিনী গুয়ামের দিকে অগ্রসর হয় এবং দ্বীপটি দখল করে নেয়। ওই সময় গুয়ামের ১০ শতাংশ মানুষ জাপানিদের হাতে নিহত হয়।

 

৭৬ বছর আগে জাপান হানা দিয়েছিল গুয়ামে। এবার সেখানে পরমাণু হামলা চালাতে চায় উত্তর কোরিয়া। এ নিয়ে গুয়ামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াম প্রশাসন অভয় দিয়ে বলেছে, গুয়ামে হামলা মানে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা। ফলে যেকোনো হামলা থেকে তাদের রক্ষা করা হবে।

 

কেন এই তর্জন-গর্জন?

গত বছর উত্তর কোরিয়া দুটি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত মাসে চালিয়েছে আন্তমহাদেশীয় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ বেড়েছে। হম্বিতম্বি কমেনি।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়া যতই বাগাড়ম্বর করুক না কেন, পর্যবেক্ষকেরা বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কম। বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাঁরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি হামলার জন্য নয়, বরং দর-কষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

কয়েকজন বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে দেখা যাক, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা আদৌ কতটা।

 

জিন লি
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পিয়ংইয়ংয়ের সাবেক ব্যুরোপ্রধান এবং উইলসন সেন্টারের ফেলো জেন লি বলেন, ওই অঞ্চলের কোনো দেশই, এমনকি উত্তর কোরিয়াও আর কোনো যুদ্ধ চায় না। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন একধরনের কৌশল হিসেবে বারবার যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন। কিম চান, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে স্বীকৃতি দিক। সেই সঙ্গে জনগণের কাছে নিজের শক্তিশালী ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান। যাতে জনগণ বিশ্বাস করে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রের হাত থেকেও উন তাঁদের রক্ষা করতে জানেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা হুমকিতেও রয়েছে উত্তর কোরীয়দের হিসাবনিকাশ। সে কারণেই উসকানি দেন তাঁরা। উন চান, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকিতে উত্তর কোরীয়রা ভয় পাক। বিপুল অর্থ ব্যয় করে বানানো ক্ষেপণাস্ত্র তাঁদের রক্ষার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করে।

 

তবে একটা বিষয়ে উদ্বিগ্ন জেন লি। তিনি মনে করেন, এসব হিসাবনিকাশে ভুল হলে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী অভিযানে যেতে বাধ্য হবে। যেমনটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় কোরীয় উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সংঘর্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আবার জাপানের জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে তারাও (জাপান) পাল্টা কর্মসূচি নিতে পারে।

 

আন্দ্রেই ল্যাংকভ
সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এনকে নিউজের পরিচালক আন্দ্রেই ল্যাংকভ বলেন, যুদ্ধের হুমকি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম রং চড়ানো প্রচারণা চালায়। শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়েও প্রচারণা চালাবে উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম। আর এতে ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে কোরিয়া উপদ্বীপের চারপাশে যুদ্ধবিমানও পাঠাতে পারেন।

এই গবেষকের মতে, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম—এমন পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে পারলে আলোচনায় বসতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুযোগকে কাজে লাগানো উচিত। এখন পর্যন্ত দুই দেশের হিসাবনিকাশ ও কথাবার্তায় এটা স্পষ্ট যে যুদ্ধের আশঙ্কা খুব কম। কোরীয়রা কূটনীতির ব্যাপারে আগ্রহী না। তারা চায়, প্রথমে মানচিত্র থেকে শিকাগোর নাম মুছে ফেলতে। এরপর তারা কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। কয়েক বছরের মধ্যেই এই সামর্থ্য বা শক্তি তারা অর্জন করতে পারবে।

 

জিইয়ুং সং
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয়ান স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক জিইয়ুং সং বলেন, ওয়াশিংটন গোপনে অথবা প্রকাশ্যে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনা না করা পর্যন্ত আক্রমণাত্মক কথাবার্তা চলতেই থাকবে।

 

উত্তর কোরিয়ার সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই। উত্তর কোরিয়া চায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিক। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যেকার জোটকেও ভাঙতে চেষ্টা করছে উত্তর কোরিয়া। দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের উদ্যোগকেও নষ্ট করে দিতে চায় তারা। মুনকে পাত্তা না দিয়ে সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চান উন। যুক্তরাষ্ট্রও কম যায় না। তাদের শর্ত, কথা বলতে হলে কিমকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।

 

কিম পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন—এটা একেবারেই অবাস্তব। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ চান না। আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও কিম জং-উনের কোনো বন্ধু নেই। তা সত্ত্বেও কিম বিপজ্জনক অস্ত্র তৈরি করছেন। পরমাণু কর্মসূচি থেকে কিমকে সরাতে হলে শর্ত না দিয়ে আগে তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পকে আলোচনা করতে হবে।

 

রবার্ট কেলি
পুশান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রবার্ট কেলি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে দুভাবে চিন্তা করা যায়। আশাবাদীরা বলবেন, ট্রাম্প চীনকে চাপে রাখতেই এমন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তিনি চীনকে এই বার্তা দিতে চান যে ধৈর্য ধারণের দিন শেষ। নৈরাশ্যবাদীরা যা বলবেন, সেটাই সম্ভবত বেশি সঠিক। আর তা হলো যুদ্ধ নিয়ে হুমকি-ধমকি দুই দেশেরই কৌশল। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যেন মাঠে দুই ষাঁড়ের লড়াই চলছে।

 

এই বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বা দেশটির কোনো ঘাঁটিতে উত্তর কোরীয়রা হামলা করতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র কোনো উসকানি না দিলে বা দুর্ব্যবহার না করলে উত্তর কোরিয়া এ রকম বোকার মতো আচরণ করবে না। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য; হামলার জন্য নয়।

 

লিবীয় নেতা গাদ্দাফি ও ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যা হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উত্তর কোরীয়রা। উত্তর কোরিয়া জানে, পরমাণু অস্ত্র এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি থেকে তাদের রক্ষা করবে। আর এ কারণেই তাদের এত তর্জন-গর্জন। গুয়ামে হামলার হুমকিও এ রকমই একধরনের ফাঁকা আওয়াজ।

 

জন ডেলুরি
সিউলের ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জন ডেলুরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বলা উচিত, তারা চায় যে পিয়ংইয়ং উন্নতি অর্জনের পরেই পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখুক। কারণ, তখন তারা আত্মবিশ্বাসী হবে। ডেলুরি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া হুমকি দিতে ভালোবাসে। তারা এভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চায়। বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দিতে চায় যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে।

 

দুই দেশের এমন তর্জন-গর্জন চলতে থাকলে সত্যি সত্যিই যুদ্ধ বাধা একেবারে অসম্ভব নয়। এই বিশ্লেষকের মতে, উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে না দক্ষিণ কোরীয়রা। এ নিয়ে তারা যথেষ্ট উদ্বিগ্নও নয়। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরীয় খুব বেশি চুপচাপ।

 

অ্যান্ড্রু ও’নেইল
ক্ষেপণাস্ত্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অ্যান্ড্রু ও’নেইল বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলো চাপে পড়বে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চীনের ওপরও চাপ পড়বে। তাঁর মতে, কিম জং-উন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প সংকট মোকাবিলার বিষয় নিয়ে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী। কিম নিজের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চোখ রাঙিয়ে যাচ্ছেন।

 

বংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম