ব্রেকিং নিউজঃ

স্মিথের ডাবল সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়া ৪৬০/৪  ***  বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী  ***  ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প  ***  টি-১০ লিগে পাঞ্জাবি লিজেন্ডসের কাছে হেরেছে সাকিব আল হাসানদের কেরালা কিংস  ***  জুম্মার নামাজের পর ইসরায়েলি সেনার গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত  ***  টি-১০ লিগে তামিম ইকবালের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাখতুনসের জয়  ***  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  ***  সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল  ***  নওগাঁয় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, নৈশপ্রহরী আহত  ***  যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার হুঁশিয়ারি: সমুদ্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলে পরমাণু যুদ্ধ
Published: 4 months ago

ভারতের মুসলিমদের অস্বস্তিতে থাকার কারণ কী?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

ভারতের মুসলমানরা করুণ অবস্থায় দিন পার করছেন। নানারকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অস্বস্তিতে রয়েছেন ভারতের মুসলমানরা। সেই সাথে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। কিন্তু এর কারণটাই বা কী? ভারতের ১২তম উপরাষ্ট্রপ্রতি মোহাম্মদ হামিদ আনসারির বিদায়বেলায় রাজ্যসভা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমদের দুর্দশা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যেই তা অনেকটা স্পষ্ট।

আনসারি বলেছেন, দেশের মধ্যে অসহনশীলতা ও নজরদারির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়। এই অসহনশীলতার ব্যাপারে বহুজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মুসলমানদের একটা অস্বস্তি কাজ করছে, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গণধোলাইয়ে মৃত্যুর ঘটনা, নজরদারি, গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞা এই অসহনশীলতার কারণ। এর ফলে ভারতীয় মূল্যবোধ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনেরও আর ক্ষমতা নেই আইনের শাসন জারি করার।”

সাক্ষাৎকারে আনসারি বলেছেন, ‘কেবল গত ৭০ বছর ধরে নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী বহু মতকে সম্মান করেই সমাজে বাস করেছি আমরা। যা এখন সঙ্কটের মুখে’। বর্তমানে দেশটির মুসলমানদের মধ্যে ‘নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে।

মোদি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে গো-রক্ষাকে কেন্দ্র করে ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের হার বাড়তে শুরু করে। দেশজুড়ে কয়েকটি ঘটনায় বেশ কয়েকজন মুসলমান নিহত হলে এ নিয়ে ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও কাজ করতে শুরু করে। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শেষবেলায় হামিদ আনসারিও সেই কথাই তুলে ধরলেন।

ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলিমদের অস্বস্তিতে থাকার কারণগুলো নিম্নরূপ:

গণপিটুনি:

ভারতে মুসলমানদের ওপর গণপিটুনি অব্যাহত রয়েছে। একটি বেসরকারি হিসাবে জানা যায়, ২০১৫ থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩টি এ ধরনের ঘটনা হয়েছে,  যেখানে মুসলমান কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছে।

গত পাঁচ মাসে এ ধরনের গণপিটুনিতে মারা গেছে অন্তত: ৬ জন মুসলমান।

গো-রক্ষা আন্দোলন:

ভারতে গো-মাংস ভক্ষণ বা জবাইয়ের জন্য গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সন্দেহে মুসলমাদের পিটিয়ে মারার ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি চিন্তাশীল মহলকে যেমন উদ্বিগ্ন করে তুলেছে তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও দেশটির একটি নেতিবাচক রূপ প্রকটভাবে ফুটে উঠছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালা ছাড়া বেশিরভাগ রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ। গো-হত্যার জন্য শাস্তির যে বিধান রয়েছে তাও উদ্বেগজনক।

‘ইন্ডিয়া স্পেন্ডস’ নামের এক ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গো-রক্ষা ইস্যুতে সহিংসতার ৫১% ক্ষেত্রেই মুসলমানরা ছিলো টার্গেট। এমন ৬৩টি ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়, যার ৮৬% মুসলমান।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা:

এমআরজি ও সিএসএসএস গত মাসে একটি যৌথ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ‘সংকীর্ণ হয়ে আসছে স্থান: ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্য’ শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয় শুধু ২০১৬ সালেই দেশটিতে সাত শতাধিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। এতে ৮৬ জন নিহত ও ২,৩২১ জন আহত হয়। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশ মুসলমান বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভারতের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। বার্ষিক হিসাবে দেখা যায় এ সংখ্যা: ২০১১ সালে ৫৮০, ২০১২ সালে ৬৪০, ২০১৩ সালে ৮২৩, ২০১৪ সালে ৩৪৪, ২০১৫ সালে ৭৫১ ও ২০১৬ সালে ৭০৩।

২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ ছিলো বছরের দ্বিতীয়ার্ধে উত্তরপ্রদেশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা। পরের বছর সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণা থেকে এই সহিংসতার সূত্রপাত।

উত্তরে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশ; পশ্চিমে রাজস্তান, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট; এবং দক্ষিণে কর্ণাটক ও কেরালায় সবচেয়ে বেশি দাঙ্গা সংঘটিত হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতের সংঘটিত ২,৫১২টি দাঙ্গার ৮৫ শতাংশ হয় এসব রাজ্যে।

২০১৬ সালে ৬২টি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলোতে মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায়, চারটি ঘটনায় নিহত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই মুসলমান। একইভাবে পাঁচটি ঘটনায় যেখানে ৪৬ জন মুসলমান আহত হয় সেখানে হিন্দু আহত সংখ্যা ১১। তিনটি ঘটনায় ৬৭টি মুসলিম বাড়ির ওপর হামলার বিপরীতে হিন্দু বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১টি। এমনকি পুলিশ বেছে বেছে শুধু মুসলমানদেরকেই গ্রেফতার করে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

মোদির ক্ষমতা গ্রহণ:

২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে তার ৯৭% হয়েছে মুসলমানদের ওপর। গো-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৬৩টির মধ্যে ৩২টি) ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে।

২০১৭ সালের প্রথম ৬ মাসে ২০টি ‘গো-সন্ত্রাস’-এর ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। যা ২০১৬ সালে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার ৭৫%। এ ধরনের অর্ধেকের বেশি (৫২%) সন্ত্রাস গুজবের কারণে হয়েছে বলে ইন্ডিয়া স্পেন্ড-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

এমআরজি-সিএসএসএস রিপোর্টে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও এগুলোর নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র ‘অনিহা’ লক্ষ্যনীয়। সরকারের এক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভী গো-মাংস ভক্ষণকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বলেছেন। কট্টর হিন্দুবাদি এ্যাক্টিভিস্ট সদবি সরস্বতী বলেছেন, যারা গরুর গোস্ত খায় তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।

আদিত্যের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী:

রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করার অঙ্গীকারের কথা রয়েছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে। একই কথা বলেছেন উত্তর প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী যোগ্য আদিত্যনাথ। এ বছরের মার্চ মাসে যোগী আদিত্যনাথের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক নেতার খুনের ঘটনা ঘটে। খুন হন বহুজন সমাজ পার্টির নেতা মহম্মদ শামি।

এলাহাবাদে অজ্ঞাতপরিচয় দুই দুষ্কৃতি মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে খুন করে মহম্মদ শামিকে। তখন তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে এসে পার্কিং-এ গাড়িতে উঠছিলেন।

এদিকে, এবার স্বাধীনতার ৭১তম বর্ষপূর্তি। আর তা পালন করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। স্কুল, কলেজে তো বটেই রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাতেও স্বাধীনতা দিবস পালন বাধ্যতামূলক। আর সেটা ঠিকভাবে করা হচ্ছে কি না, তার উপরে নজরদারি চালাবে আদিত্যের সরকার৷ উত্তরপ্রদেশে প্রায় আট হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৫৬০।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল আটটায় প্রতিটি মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন হবে৷ এর পরে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করবে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা৷ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক অনুষ্ঠানও আয়োজন করতে হবে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে