ব্রেকিং নিউজঃ

বঙ্গোপসাগরে বছরের সর্বোচ্চ জোয়ার, উচ্চতা সাড়ে ১০ ফুট  ***  নয়া অ্যাকশনে মোস্তাফিজ  ***  অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরে হামলা, নিহত ৮  ***  আগামিকাল বুধবার থেকে পবিত্র জিলক্বদ মাস গণনা শুরু  ***  পাকিস্তানকে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার দিলো রাশিয়া  ***  ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শপথ নিচ্ছেন রামনাথ কোবিন্দ  ***  কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধস : নিহত ৪, আহত ৫ জন  ***  সারাদেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত  ***  ভারতের গুজরাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সরিয়ে নেয়া হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে  ***  ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
Published: 1 week ago

ঝুঁকিতে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন



কক্সবাজার প্রতিনিধি:

নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য অবলোকন ও ভ্রমণের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট সেন্টমার্টিন দ্বীপ। কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে এ দ্ধীপের অবস্থান। দু’শত পঞ্চাশ বছর আগে জাহাজযোগে আরবসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা এ দ্ধীপে আসতেন। সে সময় তারা ক্ষনিকের জন্য অবস্থান করতেন এ দ্ধীপে। ওই সময় তারা এটিকে ‘জাজিরা’ বলে ডাকতেন।

 

 

ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে এটিকে ‘সেন্টমার্টিন’ দ্বীপ ঘোষণা করা হয়। তবে দ্বীপটির স্থানীয় নাম নারিকেল জিনজিরা। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এটি। আয়তন আট বর্গকিলোমিটার। ২০০৬ সালের হিসাব অনুযায়ী এর জনসংখ্যা সাত হাজার। ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮৭৫ জন। এ দ্বীপের বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে মাছ ধরাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এখানকার লোকদের প্রধানতম শস্য হলো ধান, নারিকেল, পিয়াঁজ, মরিচ ও তরমুজ।

 
এ দ্ধীপে প্রচুর পরিমাণে শ্যাওলা পাওয়া যায়। এসব শ্যাওলা গুলো শুকিয়ে সংগ্রহ করে মিয়ানমার পাঠানো হয়। অক্টোবর ও এপ্রিলে পার্শ্ববর্তী এলাকার জেলেরা দ্বীপের অস্থায়ী মার্কেটগুলোতে তাদের ধরা মাছ বিক্রি করার উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হন। দ্বীপের মধ্য ও দক্ষিণের এলাকা মূলত কৃষিজমির অন্তর্গত। এখানে অধিকাংশ খাবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্য ভূখন্ড থেকে রপ্তানি করা হয়।

 

 

 

যোগাযোগ, আশ্রয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সরবরাহ না থাকায় এবং বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে বেশ দূরে অবস্থানের দরুণ বর্ষাকালে এ দ্ধীপের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বর্তমানে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ঘূর্ণিঝড়, জোয়ারের প্লাবন আর সাগরের ঢেঁউয়ে অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রবাল দ্বীপে বিস্তৃত হয়েছে ভাঙনের থাবা।

 

 

ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নয়নাভিরাম এই দ্বীপটি। অসংখ্য গাছপালা ধ্বংস হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি স্থাপনা। সে ক্ষতির পর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আঘাত হেনেছে টানা বৃষ্টিপাত। সেন্টমার্টিনে জেলেদের আনাগোনা ছিল শত শত বছর আগেও। এ দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু প্রায় ২০০ বছর আগে।

 

 

গত দুই শতাব্দীতে এ রকম ভাঙ্গন কোনো সময় দেখা যায়নি। জোয়ারের পানি আর সমুদ্রের ঢেউয়ে দ্বীপের চারপাশে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বেশি। ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ কেয়া বন সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানটির দেড়শ ফুটেরও বেশি সাগরে তলিয়ে গেছে। মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনার সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

 

 

 

 

ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে সাগরপাড়ে রোপিত বৃক্ষরাজি ভেঙ্গে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশের পথকে সুগম করেছে। দ্বীপবাসীর আশঙ্কা, সেন্টমার্টিন রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া না হলে হয়তো এ প্রবাল দ্বীপ দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

 

 

৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ প্রবাল দ্বীপে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপবাসী নিজেদের স্বার্থেই ভাঙ্গন রোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িঁবাধ নিমার্ণের কাজ করে আসছেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষায় ভাঙ্গন রোধে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। প্রবাল দ্বীপের ক্ষতি হয় এমন অবিবেচক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাগরপাড়ে ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ কারণে পরিবেশ রক্ষায়ও নিতে হবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

 

 

সেন্টমার্টিনে নতুন করে হোটেল-মোটেল যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও নজরে রাখা দরকার। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটনের স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে। এ প্রবাল দ্বীপের সবুজ গাছপালা ও জীববৈচিত্র পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ বলে বিবেচিত হয়। এ আকর্ষণ উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিনিয়ত এ দ্ধীপে ছুটে যায় শত শত ভ্রমণ পিপাসু মানুষ।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ