ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

‘আমাদের কথপোকথন টেপ করেছ কেন’ : ট্রাম্প হুমকি দিলেন কোমিকে



কোমিকে বিতর্কিত বরখাস্তের কারণে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক অসাধারণ নিন্দাসূচক বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেমস কোমিকে বিস্ময়কর হুমকি দিলেন। তাঁদের মধ্যকার কথপোকথন কেন কোমি রেকর্ড করেন? রেকর্ডকৃত কথপোকথন যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়।

খুব ভোরে ট্রাম্প সিরিজ টুইটে বলেন, কোমির জন্য শুভ কামনা যে, তাঁদের কথপোকথনের রেকর্ড আর তাঁর কাছে নেই।

টুইট প্রকাশিত হবার পর গণমাধ্যমে ঝড় বয়ে যায়। এই টুইটকে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সাথে তুলনা করা হয়, যিনি ১৯৭৪ সালে অভিশংসন হবার পূর্বে তার ওভাল অফিসে সকল সভা গোপনে টেপ করেছিলেন।

মি. ট্রাম্পের মন্তব্য সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে একটি অনুষ্ঠানে কোমির সঙ্গে আলোচনা করেন, সেখানে তিনি আশা করেন যে, তাঁর এফবিআই পরিচালক তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। যেখানে মি. কোমি ট্রাম্পের প্রত্যাশাকে স্বীকার করেননি।

মি. কোমির সহযোগী বলেন, তারা চেয়েছিলেন, ডিনার মিটিংয়ের বিষয়টি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হবার পর কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হবে না। কিন্তু কোমিকে বরখাস্ত করা হয়। এই অপ্রত্যাশিত বরখাস্তের কারণে এফবিআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ হতাশ হয়েছেন।

মি. ট্রাম্প কোমিকে বরখাস্তের পর প্রথম নৈশভোজ সভায় ভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট এনবিসির ‘লিস্টার হোল্ডকে’ বলেন, এফবিআই-র পরিচালক বিভিন্ন সভায় ওই পদে তাঁকে ১০ বছর পদায়ন রাখার জন্য অনুরোধ করেন। মি. কোমি এফবিআই পরিচালক পদে ৪ বছর কাজ করেন।

মি. প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কোমি তাকে ওই সভায় নিশ্চিত করেছিল যে, তদন্তে প্রেসিডেন্টের নাম নেই।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবী স্যান্ডার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, কোমিকে প্রেসিডেন্টের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো আনুগত্য চাননি বরং তিনি আনুগত্য আশা করেছিলেন ‘দেশের প্রতি,’ ‘আমাদের মহান জনগণের’ প্রতি।

অনলাইন বিবৃতি প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট কোমিকে বিতর্কিত বরখাস্ত করে রাজনৈতিক চাপে পড়েন। যে কারণে তিনি ধীরে ধীরে উত্তেজিত হয়ে উঠছেন। নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে রাশিয়ার নাকগলানো সংক্রান্ত তদন্তকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না।

হোয়াইট হাউস বলছে যে, কোমিকে বহিষ্কার করা হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল নিয়ে ভুল অবস্থানের কারণে।

হোয়াইট হাউস ও এফবিআই থেকে প্রকাশিত ভিন্ন ভিন্ন তথ্য, হোয়াইট হাউস থেকে জনমনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশিত হবার ফলে সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে সন্দেহের জাল বিস্তৃত হয়েছে।

পূর্বে এক পোস্টের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করেন। পূর্বের পোস্টে প্রকাশিত সংবাদকে ‘ভুল সংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে হোয়াইট হাউসের ভবিষ্যত সকল সংবাদ সম্মেলন বাতিল করার হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র লিখিত বিবৃতি প্রকাশিত হবে।