ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

একটি মাটির বাঁধে রক্ষা পেল হাজারো পরিবার



কক্সবাজার প্রতিনিধি:

চকরিয়ায় সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলেও একটি মাত্র মাটির বাঁধে রক্ষা পেয়েছে কাকারা ইউনিয়নের রুদ্র পল্লী, পালপাড়াসহ আশপাশের প্রায় হাজারো পরিবার। শুধু বসতবাড়ি নয় ওই এলাকায় কয়েক হাজার একর ফসলি জমিও বন্যার প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে।

 

 

এতে ওই এলাকার উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে ভাল দামও মিলছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরসূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে একশ’ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের  বরাদ্দ দেয়া হয় কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণদিক হয়ে নদীতীরের উপরোক্ত এলাকার হাজারো বসতবাড়িতে বন্যার ধকল থেকে রক্ষায়।

 

 

ওই বরাদ্দের বিপরীতে সঠিক সময়ে কাজের বিনিময়ে টাকার (কাবিটা) মাধ্যমে বাঁধটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করায় এই সুফল মিলেছে এলাকাবাসীর। এজন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এলাকাবাসী।

 

 

 

 

 

 

স্থানীয় প্রবীণ  নেতা আনোয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টর  বলেন, ‘প্রতিবছর বন্যার সময় মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে প্রথমে প্রপার কাকারা এরপর হিন্দুপাড়া, পালপাড়া, রূদ্রপল্লীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো পরিবার তলিয়ে যেত। তবে বন্যার ধাক্কার আগেই কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকার মানুষ।

 

 

শুধু এলাকার মানুষ নয়, এখানকার ফসলী জমিও রক্ষা পায়। এতে কৃষকরা বেশ আনন্দিত।’ তিনি আরো বলেন, বন্যায় সদ্য নির্মিত বাঁধটির একাধিক অংশে সামান্য ভাঙন দেখা দিলেও পরবর্তীতে তা নতুন করে টেকসইভাবে পুনঃনির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে এখানকার মানুষ আর বন্যার সময় চোখের পানি ফেলবে না।

 

 

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান  বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীতীরের এই এলাকাটি প্রতিবছর বন্যার ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়ে ব্যাপকভাবে তীর শিকার হয়ে আসছিল। তাই ওই এলাকায় ২ হাজার ৬শ’ মিটার নদীতীরে মাটির বাঁধ নির্মাণের জন্য  ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে বিশেষ আবেদন করা হয়।

 

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একশত মেট্টিক টন খাদ্যশষ্য (চাল) বরাদ্দ দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজের বিনিময়ে টাকার মাধ্যমে এই বাঁধটি নির্মাণকাজ শেষ করা হয় গেল জুন মাসের শেষ সপ্তাহে। তারও প্রায় একমাস আগে এই বাঁধের কাজটি শুরু করা হয়।’

 

 

 

 

কাকারা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা কালাবাঁশি দাশ বলেন, ‘এই বাঁধ না হলে প্রতিবারের মতোই বাড়ির ভেতর গলা সমান পানি ঢুকে যেত। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান অনেক তদবির করে এই বাঁধটি বাস্তবায়ন করেছেন।’

 

কাকারা পালপাড়ার সনজিত কুমার পাল বলেন, ‘গতবারের বন্যায়ও একনাগাড়ের পাঁচদিন ধরে বানের পানিতে ভাসতে হয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ করায়  সেই চিত্র দেখতে হয়নি।  এতে সুফল ভোগ করছে কয়েক গ্রামের হাজারো পরিবার।’

 

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জোবায়ের হাসান বলেন, ‘কাকারায় মাতামুহুরী নদীতীরের ২ হাজার ৬শ’ মিটার দীর্ঘ এই মাটির বাঁধটি যাতে টেকসইভাবে সম্পন্ন করা হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত তদারক করা হয়েছে। এই কাজটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অনিয়ম করতে দেয়া হয়নি জনগণের সুফল বিবেচনায়। এই বাঁধটি নির্মাণ হওয়ায় একদিকে মানুষ বন্যা থেকে রক্ষা পেয়েছে, অপরদিকে কাবিটার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষও উপকৃত হয়েছে বাঁধের কাজে শ্রম দিয়ে। ভবিষ্যতেও যাতে বাঁধটি নদীতে বিলীন হতে না পারে সেজন্য সুদৃষ্টি থাকবে আমার দপ্তরের।’

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ