ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের এক বছর: জনগণের প্রশংসায় এরদোয়ান



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের এক বছরপূর্তি আজ। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে দেয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান। সাহসিকতার সঙ্গে অভ্যুত্থান ঠেকানোয় ভূমিকা রাখায় তুরস্কের জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

 

গতকাল শনিবার ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার’ প্রথম বর্ষপূর্তিতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তুরস্কে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থানের’ প্রচেষ্টাকারীদের মাথা কেটে হবে।

 

হাজার হাজার লোকের সেই সমাবেশে সকলে মিলে গেয়েছে জাতীয় সঙ্গীত। উচ্ছসিত জনগণ হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে। কঠিন সেই সময়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে যারা রক্ষা করেছেন, তাদেরকে স্মরণ করে সমাবেশে আবেগঘন এক বক্তৃতা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

অভুত্থানের সেই রাতকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই রাতে মানুষের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তাদের হাতে ছিল একটি পতাকা আর সবচেয়ে বড় কথা, তাদের ছিল বিশ্বাস।

 

এই সমাবেশে যোগ দেয়া অনেকেই বলেন, দেশের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করতেই সমাবেশে তারা যোগ দিয়েছেন। সমাবেশে অংশ নেয়া জুলফিকার কাহারমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি জানি না সেই রাতে কেন যে আমার মুত্যু হয়নি! এই কথা এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। কেন আমি ট্যাঙ্কের সামনে বুক টান টান করে দাঁড়াইনি? দেশের প্রয়োজনে আমি নিজেকে নির্ভয়ে উৎসর্গ করতে পারি।

 

গত বছরের ১৫ জুলাই তুরস্কে ঘটা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারায় প্রায় ২৫০ জন। আহত হয়েছিলেন প্রায় দুই হাজার ১৯৬জন।

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার অনুসারীদের। কিন্তু ফেতুল্লাহ গুলেন এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ওদিকে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্কে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। তা এখনও অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পর কমপক্ষে অর্ধ লক্ষ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষকে।

 

ব্যর্থ ওই অভ্যুত্থানচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও স্বার্থ হাসিল করছেন বলে দাবি এরদোয়ান বিরোধীদের।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম