ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 4 months ago

শবেবরাত : আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন কাম্য



১৪ শাবান দিবাগত রাত শবেবরাত। যা আরবীতে বলে ‘লাইলাতুল মিন নিস্ফুন শাবান।’ মহিমান্বিত এই রজনী বিশ্বাসীগণের নিকট ‘ভাগ্য রজনী’ নামে পরিচিত। বিশ্বাসীগণ বিশ্বাস করেন, পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এই ভাগ্য রজনীতে। শাবান মাস রমজান মাসের ‘প্রস্তুতির’ মাস। রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাস এলে নফল রোজাসহ অধিক নফল এবাদত-বন্দেগি করতেন। সনদের দিক দিয়ে দুর্বল হলেও বর্ণিত আছে, শাবান মাস এলে হুজুর পাক (সা.) বলতেন ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লাগনা রামাদান’ অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি আমাকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাকে রমজান পর্যন্ত আয়ু দান করুন।’
এ থেকে অনুমিত হয় রজব ও শাবান মাসের ইবাদতের গুরুত্ব।
শবেবরাতে ভাগ্য নির্ধারিত হয় এ নিয়ে ওলামাগণের মধ্যে একতেলাফ রয়েছে। সূরা আদ্ দুখানে আল্লাহপাক বলেন, ‘নিশ্চয় আমি এক বরকতময় রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চিতভাবে আমি ভয় প্রদর্শনকারী। এই রাতে আমার পক্ষ হতে আমারই নির্দেশে সব প্রজ্ঞাময় কর্মের ফায়সালা হয়ে থাকে। আর অবশ্যই আমি সবকিছুর প্রেরণকারী’।সূরা কদরে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি ইহা নাযিল করেছি কদরের রাত্রে।’ উপর্যুক্ত দুটি সূরার আয়াতাংশ অনুধাবিত হয়, কোরআন নাযিল হয়েছে কদরের রাত্রে এবং কোরআন নাযিলের রাত্রে অর্থাৎ কদরের রাত্রে সূরা দু খানের বর্ণনা অনুযায়ী …; ‘সব প্রজ্ঞাময় কর্মের ফায়সালা হয়ে থাকে।’
আল্লাহ পাকের কাছে সব রজনী বান্দার জন্য বরকতময়। ক্ষমা প্রার্থনার। বুখারী শরিফে মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাত্রির শেষ তৃতীয়ভাগে আল্লাহপাক নিকটতম আসমানে আসন গ্রহণ করে বান্দাগণের আহ্বান করেন, কে আছে গোনাহ মাফ চাইবে, রোগ মুক্তি চাইবে। অভাব মুক্তি চাইবে?’ এ থেকে অনুধাবন করা যায় যে, প্রত্যেক রজনী বান্দার নিকট বরকতময়, গুরুত্বপূর্ণ। সূরা মুজাম্মিলে আল্লাহপাক বলেন, ‘হে বস্ত্র আচ্ছাদিত ব্যক্তি, উঠো! রাত্রি জাগরণ কর। রাত্রির অর্ধেক বা তার বেশি বা কম জাগরণ করো। সালাত আদায় করো,  ধীরে কোরআন তেলাওয়াত কর।’ অনুমতি হয়, প্রত্যেক রজনী এবাদতের জন্য। হুজুর পাক (সা.) কখনও ‘তাহাজ্জুদের নামাজ বাদ দেননি।’ হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, নবী পাক (সা.) রাতের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম করতেন। কখনও তাঁর পা দীর্ঘ সময় সালাতে দাঁড়ানোর ফলে ফুলে যেতো। কখনও আমরা হুজুর পাকের সিজদারত অবস্থায় চিমটি কেটে দেখতাম। তিনি সাড়া দেন কীনা?’ এ থেকে অনুধাবন করা যায়, রাতের সালাত কত গুরুত্বপূর্ণ।
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত সম্পর্কে উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘১৪ তারিখ শাবান মাসের দিবাগত রাত্র ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি, হুজুর (সা.) জান্নাতুল বাকীতে জিয়ারত করছেন।’

শবেবরাতে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত বন্দেগি, বান্দার জন্যে কাম্য। এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাসবীহ-তাহলিল’র মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন-ক্ষমা প্রাপ্তিতে সহায়ক হোক এটিই প্রার্থনা।

অহেতুক বাজি, পটকা ফোটানো পরিত্যাজ্য। এবাদতের নামে বিদআত বর্জনীয়। আল্লাহ আমাদের সৎ মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ করুন, আমীন।