ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ : আসামীরা আত্মগোপনে



রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণসহ সাম্প্রতিক অব্যাহত খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে বুধবার শাহবাগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বলে তাদের একজন বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটে যাওয়ার এক মাসের বেশি সময় পর তারা মামলা করেছেন অনেকটা বাধ্য হয়ে।

মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদকে গ্রেপ্তারে তার গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে একাধিকবার সেখানে গিয়েও তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

সাফাতের বাবা জানিয়েছিলেন, ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সাফাত গুলশানের বাসাতেই ছিলেন। ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে এই স্বর্ণব্যবসায়ী বলছেন, সাফাতকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামির একজনকেও গ্রেপ্তার করেনি। সাফাত ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী (অজ্ঞাতনামা)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, বনানী থানা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যেন দেশের বাইরে না যান, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আসামিরা দেশে আছেন। তারা ছায়া তদন্ত করছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম সোমবার বলেছিলেন, অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। আসামিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ই–মেকার্স নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম চালান। তার মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে। গায়ক অরিজিৎ সিংকে ঢাকায় নিয়ে এসে কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন তিনি। ফেসবুকে ই–মেকার্সের ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নাঈম আশরাফের ছবি দেখা গেছে।

মামলার তিন নম্বর আসামি সাদমান সাকিফও দেশে আছেন। তার বাবা মোহাম্মদ হোসেন জনি বলেন, ছেলে কোথায় আছেন তা তিনি জানেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেন, শাফাত গুলশানে তাদের বাড়ির উল্টো দিকে থাকে। ঘটনার দিন বিদেশে একটি আইটি ফেয়ারে অংশ নিয়ে সাদমান দেশে ফেরেন। পরে শাফাতের অনুরোধে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নির্যাতনের শিকার অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ছেলের বন্ধুত্ব দুই বছরের পুরোনো। সাদমানের মাধ্যমেই শাফাতের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।

ধর্ষণসহ সাম্প্রতিক অব্যাহত খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে গণজাগরণ মঞ্চ। শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।