ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 5 months ago

প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে : খালেদা জিয়া



বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান অবস্থার অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি ‘স্বৈরচারী একনায়কতান্ত্রিক’ শাসনের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যেসব বাধা জনগণের মেধা, শ্রম, উদ্যোগ ও উৎসাহকে দমিয়ে দেয় সেগুলোকে দূর করে বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি ‘ভিশন ২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত  ‘ভিশন ২০৩০’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট প্রথা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে এবং বিচারপতি অভিসংশনে সংসদের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করেছে। এসব অগণতান্ত্রিক বিধান বাতিলে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে।

এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে,তিনি বলেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে নেই। বিএনপি জনগণের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে দেবে।’তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে গণভোট ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন করবে এবং জাতীয় সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জাতীয় সংসদে উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ যাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিতর্কিত ৫৭ ধারাকে বাতিল করবে। আউটসোর্সিং ও সফটওয়্যার খাতকে গুরুত্ব দেয়া হবে।  শিক্ষিত বেকারদেরকে বেকার ভাতা প্রদান করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নেবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মানোন্নয়ন হবে। ফৌজদারি আইনের বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। অনেক সময় থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে চায় না। থানাগুলোকে অনলাইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশবাহিনীকে সুসংগঠিত ও সুশৃংখল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ, কনস্টেবল ও এএসআইদের আট ঘণ্টার বেশি কাজে বাধ্য করা হবে না। যদি করতে হয় তাহলে ওভারটাইম দেয়া হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ব্যাতিরেকে সব ধরনের্ কোটা বাতিল করা হবে। বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং কেউ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এ এইচ