ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

এবার লন্ডনে মসজিদে হামলা : নিহত ১



বাংলা রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের একটি মসজিদে গাড়ি চালিয়ে দিয়ে মুসল্লীদের হত্যার চেষ্টা করেছে এক যুবক। এতে একজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে ওই হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। খবর রয়টার্স।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা এটি বেপড়োয়া হামলা বলে মন্তব্য করেছেন। সোমবার রাতে ফিন্সবাড়ি পার্ক মসজিদে নামাজ পড়ার সময় ৪৮ বছর বয়সী  ব্যক্তি একটি ভাড়া করা গাড়ি ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। এটি দেশটির অন্যতম বড় মসজিদ। এমন সময় এ হামলার ঘটনা ঘটল যখন মুসলমানরা পবিত্র রমজান উদযাপন করছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুলরহমান সালেহ আলামোদি বাজফিড নিউজকে বলেছেন, ‘‘বড় একটি ভ্যান (গাড়ি) এনে আমাদের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হলো। সে (হামলাকারী) চিৎকার করে বলছিল, আমি সব মুসলমানকে হত্যা করব ‘

 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সোমবার দিনশেষে একটি জরুরি সভা করার কথাও বলেছেন তিনি।

 

মে বলেন, ‘ হতাহত এবং ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিতদের জন্য আমার সর্বাত্মক সহানুভূতি রয়েছে।’

 

পুলিশ বলেছে, প্রাথমিকভাবে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুলিশ গ্রেফতার করার আগেই উপস্থিত লোকজন ওই চালককে ধরে ফেলেছে। চালকের মানসিক অবস্থা পরীক্ষা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

খবরে বলা হয়েছে, আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুইজনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, লোকজনের বিশেষ করে, যারা রোজা পালন করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি ‘পারস্পারিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও সম্মান’র ওপর হামলা বলে উল্লেখ করেছেন।’

 

দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিন বলেছেন, এই হামলার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। যেখানে হামলা হয়েছে সেটি তার নির্বাচনী এলাকা।

 

প্রসঙ্গত: তিন মুসলিম নামধারী লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া এবং পার্শ্ববর্তী রেস্টুরেন্ট ও বারে ছুরিকাঘাতের দুই সপ্তাহ পর এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। ওই হামলায় আটজন মারা যায়।

 

ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল বলেছে, সোমবারের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ইসলাম বিদ্বেষ ইস্যুতে সবচেয়ে বড় ঘটনা। সেইসঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

মুসলিম কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এটা স্পষ্ট যে, ওই কৃষ্ণাঙ্গ সস্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজরতদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে।’’

 

পুলিশ বলেছে, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে তাদের খবর দিয়ে বলা হয়, উত্তর লন্ডনের ফিন্সবাড়ি পার্কের পাশ দিয়ে যাওয়া সেভেন সিস্টার্স রোডে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

 

ঘটনাস্থলের বিপরীত দিকে বাস করা এক নারী বিবিসিকে বলেছেন, ‘‘আমি আমার জানালা দিয়ে অনেক মানুষের চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনতে পাই। একটি ভ্যান লোকদের ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সকলেই চিৎকার করছিলেন। ‘’

 

তিনি বলেন, ‘‘ফিন্সবাড়ি পার্ক মসজিদের বাইরে একটি সাদা ভ্যান থামানো, মনে হচ্ছিল, মসজিদে নামাজ শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় সেটি তাদের আঘাত করেছে।’’

 

প্রসঙ্গত: এ ধরনের হামলা এমন সময় ঘটল যখন দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী মে গত ৮ জুনের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ব্রেক্সিট ইস্যুতে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন।

 

এ ছাড়া গত বুধবার লন্ডন টাওয়ার ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে ৫৮ জন নিহত এবং সাম্প্রতিক সময়ে তথাকথিত ইসলামিক জঙ্গিদের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বকালের ভঙ্গুরতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মে।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী সিএনএনকে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে, ফিন্সবাড়ি পার্ক মসজিদে ওই ব্যক্তি মুসলমানদের টার্গেট করেই বেপড়োয়া হামলা চালিয়েছে।

 

রাইয়ান বলে পরিচয় দেওয়া ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘সে চেষ্টা করেছিল অনেক লোককে হত্যা করার, সুতরাং এটি স্পষ্ট সন্ত্রাসী হামলা। সে মুসলমানদের টার্গেট করেই এই হামলা চালিয়েছে।’’

 

অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা স্কাই টেলিভিশনকে বলেছেন, ভ্যানটি অন্তত ১০ জন লোককে আঘাত করেছে। দ্য ইভিনিং স্ট্যাডার্ড নিউজপেপার বলেছে, সম্ভবত গাড়িটি ওয়েলস থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

 

ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিলের সহকারী মহাসচিব মিকদাদ ভার্সি বলেছেন, ভ্যানটি বেপড়োয়াভাবে বেশ কিছু লোকের মধ্যে ঢুকে পড়ে যারা একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহায্য করছিলেন।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘‘মূলত বেপড়োভাবেই গাড়িটি তাদের মধ্যে ঢুকে দেওয়া হয়।’’

 

তিনি আরো বলেন, ভ্যানের চালক পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কিছু লোক তাকে ধরে ফেলে এবং পুলিশ না আসা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখে।

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রিটেনে বেশ কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৩ জুন লন্ডন ব্রিজে গাড়ি চালিয়ে এবং ছুরি দিয়ে হামলা অন্যতম।

 

গত ২২ মার্চ লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজে এক ব্যক্তি একটি ভাড়া করা গাড়ি পথচারীদের ওপর চালিয়ে দেয় এবং নিজে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে এক পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ওই হামলায় মোট পাঁচজন মারা যায়।

 

এ ছাড়া গত ২২ মে উত্তর লন্ডনের ম্যানচেস্টারে মার্কিন পপ গায়িকা অ্যারিয়ান গ্রান্ডির কনসার্ট চলাকালে এক আত্মঘাতী হামলায় ২২ জন লোক মারা যায়।

 

এসব ঘটনা গত ৮ জুনের নির্বাচনের আগে প্রচারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর থেরেসার জন্য ব্যাপক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে মে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য হ্রাস করেন যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় ছিলেন তিনি।

 

এ ছাড়া সম্প্রতি ২৪ তলা বিশিষ্ট গ্রেনফল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিদর্শন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে নিজেকে দূরে রাখায় ব্যাপক সমালোচনা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শনিবার মে বলেন, ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সাড়া দেয়নি।

 

রয়টার্স বলছে, এক দশকের বেশি আগে চরমপন্থী নেতা আবু হামজা আল-মাসরি যে ধর্মাপদেশ দিয়েছিলেন, ফিন্সবাড়ি পার্ক মসজিদের ঘটনা তার চেয়েও কুখ্যাতি অর্জন করল। ২০১৫ সালে মার্কিন আদালত সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আবু হামজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

 

মসজিদ বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ পুলিশ আবু হামজাকে গ্রেফতার করার এক বছর পর ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব নিয়েছে। এরপর থেকে বিভিন্ন উপাসনালয়ে আগতদের স্বাক্ষর করার হার অনেক গুণ বেড়ে গেছে।

 

বাংলা রিপোর্ট/প্রধান