ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর ডুবেই গিয়েছিল



যুক্তরাষ্ট্রের ফিটজজেরাল্ড’র ডুবন্ত কম্পার্টমেন্ট থেকে ডুবন্ত নাবিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সপ্তম নৌবহর খ্যাত এই রণতরী জাপান সাগরে এক কন্টেইনারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ডুবে যায়। কিছু কম্পার্টমেন্টের অংশ যুদ্ধজাহাজের পানির স্তর অতিক্রম করে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সপ্তম বিহারের কমান্ডার এ খবর নিশ্চিত করেন। খবর রয়টার্স।

 

ভাইস এডমিরাল জোসেপ পি. আউকয়েন অবশ্য জানাতে অস্বীকার করেন যে কতজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু জাপান গণমাধ্যমে সব নাবিক নিহত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে। আউকয়েন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উদ্বিগ্ন পরিবার ও সতর্কীকরণ প্রক্রিয়ার কারণে আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না কতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”

 

আউকয়েন বলেন, সমুদ্রে তল্লাশি সমাপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফিটজজেরাল্ড পানিভর্তি ডুবে যাবার উপক্রম হয় কিন্তু নাবিকদের গুরুত্বপূর্ণ জীবনবাজি ভূমিকার কারণে এ থেকে রক্ষা পায়।

 

“ক্ষতি খুবই লক্ষ্যণীয়। পানির নিচে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয়।” আউকয়েন, ইকোসোকা নৌবাহিনী ঘাঁটি থেকে এ কথা বলেন। ইকোসোকা যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌ-বহরের ঘাঁটি। আউকয়েন সপ্তম নৌবহরের সম্মুখে এ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “এই যুদ্ধবিধ্বংসি যুদ্ধজাহাজ ফিলিপিন্স পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজের সঙ্গে যখন সংঘর্ষ হয় তখন বেশিসংখ্যক নাবিক ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সংঘর্ষে কমান্ডারের কেবিনও বিধ্বস্ত হয়।”

 

আউকয়েন বলেন, “সপ্তম নৌবহরের ধ্বংস মেরামতযোগ্য। কিন্তু এই মেরামত কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। একবছরের পূর্বে মেরামত হবে বলে আশা করা যায়। আপনারা দেখবেন ইউএসএস ফিটজজারেল্ড আবার ফিরে আসবে।”

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বহুমুখি তদন্ত দল তদন্ত করে দেখছে যে, ভালো আবহাওয়ার মধ্যে কেনো এই নৌবহর সংঘর্ষের মুখে পড়লো।

 

 

আউকয়েনকে জিজ্ঞাসা করা হয়- যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ডানদিকে চলার নীতির কোনো লঙ্ঘন করেছে কিনা? কিন্তু তিনি ওই সংঘর্ষের কারণ জানাতে অস্বীকার করেন। সমুদ্র চলাচল নীতি অনুযায়ী ভসলকে যুদ্ধজাহাজের ডান দিকে চলাচলের পথ দেখার কথা।

 

বন্দরে ঝাঁকুনি নোঙর:

রোববার সপ্তম নৌবহরের বিবৃতিতে বলা হয়, মৃতদেহগুলো নৌবহরের অংশ থাকে ও ওইসব উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি হাসপাতালে  চিকিৎসার  জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শনিবার সকালে ফিটজজারেল্ড ইউসোফা থেকে ৫৬ নটিকাল মাইকল দূরে বাণিজ্য জাহাজের সঙ্গে তিনবার সংঘর্ষ করে। নৌবাহিনী সূত্রে বলা হয়, সংঘর্ষের পর ইউসোফায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হাসপাতালে  তিনজনকে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।  উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আছেন সপ্তম নৌবহরের কমান্ডিং অফিসার ব্রাইস জেকসন। যার অবস্থা  স্থিতিশীল  বলে নৌবাহিনীর ওই সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

অন্য দু’জনের চোখের ও সামান্য আহতের চিকিৎসা করা হচ্ছে।

ইকোসুফা ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ফিটজজারেল্ড শনিবার বন্দরে ধাক্কা খেয়ে নোঙর করে। ওই মুখপাত্র বলেন, সপ্তম নৌবহরের ‘রেডিও’ ও অক্সিলিয়ারি মেশিন রুম পানিতে নিমজ্জিত হয়।

মুখপাত্র বলেন, ২৮৫ জন ক্রু ছিলো ওই নৌবহরে।

বেসন ১৩ তম ফিটজজারেল্ড’র কমান্ডের দায়িত্ব নেন। তিনি পূর্বে পশ্চিমে জাপানের সালেবো ঘাঁটির মাইনসুইপারের কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন।

 

পেশাদারিত্বের অবহেলা:

জাপানী গণমাধ্যম সূত্রে বলা হয়েছে- জাপানী কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছেন যে, পেশাদারিত্বের কোন অবহেলার কারণে এই বিপদ সৃষ্টি হয়েছে কীনা? কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়নি যে, দুটো জাহানের বা কোনো একটি জাহাজের দোষ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী সূত্রে বলা হয়েছে, এই স্থানীয় সময় ২.৩০ সকালে হয়। যা শুক্রবার গ্রিনিচ সময় ১৭.৩০। অন্যদিকে জাপানী কোস্ট গার্ড সূত্রে বলা হয় দুর্ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় ১.৩০ সকালে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/ মসি খাঁ