ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ভারত-পাকিস্তান আস্থাহীনতা : ক্রিকেটে ফাটল দূর করবে কতটুকু?



ক্রীড়া ডেস্ক:

‘ক্রিকেট গড়ে মৈত্রী’ এই প্রবাদ বাক্যটি এখন আর খাটছে না অন্তত: দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তানের বেলায়। এমনিতেই আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট ছাড়া ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট খেলা নেই অনেক দিন ধরে।

 

উপমহাদেশের অ্যাশেজ খ্যাত এ দুই ক্রিকেট দলের খেলা দেখতে বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত উন্মুখ হয়ে থাকে। কিন্তু দুই দেশের বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট সিরিজও বন্ধ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক দূরের কথা সম্পর্কটা চলে গেছে শত্রুতার পর্যায়ে।

দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা থাকলেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে তা কার্যকর হয়নি। ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত সেই স্মারক অনুযায়ী ২০১৫ তে ভারতের পাকিস্তান সফরের কথা ছিল। কিন্তু তা বাতিল করে দেয় ভারত।

 

২০১৭ সালের ভারতের সিরিজও বাতিলের পর্যায়ে। এ মাসের গোড়ার দিকে পিসিবি  বিসিসিআইকে এক নোটিশ পাঠিয়ে ২০১৫তে সিরিজ না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে। অবশ্য বিসিসিআই এ স্মারককে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হিসেবে মানতে নারাজ। তারা একে নিছক একটি পত্র বলে দাবি করছে। তারপরেও ভারতীয় বোর্ড এ বিষয়ে জানতে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

ভারতীয় বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। অমিতাভ বলেন, আমরা এখনো খেলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু পরিস্থিতি যে বদলায়নি।

 

ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া দুই দেশের মধ্যে সিরিজ হতে পারে না। পিসিবি আমাদের লিখিতভাবে দাবি জানানোর পর আমরা আবার সরকারকে লিখেছি। এখন সরকার কী বলে তার অপেক্ষায় আছি আমরা।

গত বছর ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপেও খেলে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান খেলাটি প্রথমে ধর্মশালায় অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে তা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে।

 

এরপর দুই দেশের মধ্যে আর কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। আবারো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উপলক্ষে গত ৪ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। বৈরী সম্পর্কের দুই দেশের মধ্যকার ম্যাচটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। ফলে ক্রিকেট ভক্তরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়। বৃষ্টি আইনে ১২৪ রানে হেরে যায় পাকিস্তান।

 

দুই সপ্তাহ না যেতেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আবারো মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। তারা চাইছে চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে।

 

অপরদিকে পাকিস্তান এই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে ফাইনালে খেলছে। তাদের সামনে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের হাতছানি। সুতরাং পাকিস্তানও যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটা সহজেই অনুমেয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক উন্নয়নে ফাইনাল ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। শুধু আইসিসি নির্ধারিত টুর্নামেন্টেই নয়, ক্রিকেট ভক্তদের চাওয়া সারা বছরই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন।

 

বৈরী সম্পর্ক দূর করে দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনে ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট সমর্থকদের। ১৮ জুন রোববার ওভালে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে