ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ : পালে হাওয়া লাগাবে কারা?



ক্রীড়া ডেস্ক:

 

১৯৮৬ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সূচনা হয়। ৩১ মার্চ ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৫.৩ ওভার মোকাবেলায় ৯৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান করলে ৭ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেটি প্রায় ৩১ বছর আগের কথা।

 

এক সময় বাংলাদেশ কোনো দলের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামার আগে লক্ষ্য ছিলো প্রথমে ব্যাট করলে ২০০ রান পার করা। জেতার তো কোনো লক্ষ্যই থাকতো না। তবে হারটা যাতে সম্মানজনক হয় সেদিকেই খেয়াল ছিলো পুরো টিমের।

১২/১৫ বছর আগে বেশিরভাগ ওয়ানডে ম্যাচেই বাংলাদেশের ইনিংসে ৬/৭টা উইকেট পড়ে গেলে শেষদিকে খালেদা মাসুদ পাইলটের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং সেইসাথে মোহাম্মদ রফিকের ঝড়োগতির চার/ছক্কাময় ইনিংসের সুবাদে টাইগারদের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ হতে দেখা গেছে।

 

সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আমূল পরিবর্তন ঘটতে থাকে। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার আবির্ভাবে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে একের পর এক অবদান রেখে চলেছে। সাথে যোগ হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের মতো উঠতি তারকা পেসারদের। এখন যেকোনো দলের বিপক্ষেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ।

 

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মত বড় আসরে পাঁচবার অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০১৫ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব দেখায় মাশরাফি বাহিনী।

সর্বশেষ চলমান আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার মতো বিশ্বের নামিদামী দলগুলোকে পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে ভারতের সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি টাইগাররা। ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় তারা।

 

সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কেন এ শোচনীয় পরাজয়। এর কারণ হিসেবে দলের নবীন ক্রিকেটারদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। ক্রিকেট বোদ্ধারা বলছেন, গত বিশ্বকাপ আসরের মতো এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরা ব্যাট এবং বল হাতে জ্বলে ওঠতে পারেননি। যা করেছেন তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লারাই করেছেন।

ওপেনার তামিম ইকবাল বাংলাদেশের হয়ে ৪ ম্যাচে মোট ২৯৩ রান করেন। যা এবারের আসরের এখনও তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। এছাড়া সাকিব আল হাসান ১৬৮ রান, মুশফিকুর রহীম ১৬৩ রান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেছেন ১৩৭ রান।

 

অপরদিকে তরুণ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ওপেনার সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজরা ছিলেন একেবারেই নিস্প্রভ।

তরুণ ওপেনার সৌম্য সরকার সেমিফাইনালসহ চার ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩৪ রান। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮ রান করেন। এরপর বাকি তিন ম্যাচে সৌম্য তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারা তো দূরের কথা, ডাবল ফিগারে নিয়ে যেতে পারেননি নিজের স্কোরকে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দুই দলের বিপক্ষেই মাত্র ৩ রান করে বিদায় নেন সৌম্য। এমনকি স্বপ্নের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে রানের খাতাও খুলতে পারেননি। স্বভাবতেই শূন্য রানে বিদায় ঘণ্টা বাজে সৌম্য সরকারের।

 

আরেক তরুণ তুর্কি সাব্বির রহমান তার সামর্থ্যের ছিটে-ফোটাও দেখাতে পারেননি এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে। চার ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৯ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ এবং সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে করেন ১৯ রান।

 

তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও ব্যাট হাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। যদিও বল হাতে কিউইদের বিপক্ষে তিন উইকেট শিকার করে কিউইদের পরাস্ত করতে ভূমিকা রাখেন। এই তরুণ অলরাউন্ডার ৩ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২৪ রান। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপ: ২, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপ: ৭ এবং ভারতের বিপক্ষে ১৫ রান করেন।

 

এছাড়া অপর তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ ১ ম্যাচে ১৪ রান করতে সমর্থ হন।

 

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় আসরে পুরনো খেলোয়াড়রাই অবদান রেখেছেন বেশি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ২০১৫ বিশ্বকাপের আসর থেকে পুরনোদের পাশাপাশি যে নবীন ক্রিকেটাররা তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন, তারা এ আসরে তার ছিটেফোটাও দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা কোটি কোটি টাইগার ভক্তদের আশা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

কিন্তু সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, তামিম ও মাশরাফিরা যখন বিদায় নিবেন তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাল কারা ধরবেন? সেদিনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তিরা বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কী কোনো পরিকল্পনা করছেন?

 

সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলট বলছেন, জাতীয় দলের পাশাপাশি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা একটি ‘এ’ দল বাংলাদেশের খুবই দরকার। এছাড়া জেলা পর্যায়েও অনেক কার্যক্রম দরকার।

তাছাড়া প্রত্যেকটি জেলায় স্টেডিয়ামের সাথে একটা ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান খালেদ মাসুদ পাইলট।

 

তবে নিরাশ হওয়ার মতো এমন কিছু ঘটেনি এখনো, বলছেন শামীম আশরাফ চৌধুরী। তিনি জানান, অধিনায়ক মাশরাফি ছাড়া দলের বাকি চার কাণ্ডারি সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং তামিম ইকবাল এখনো অন্তত: আরো ৫/৬ বছর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলকে সার্ভিস দেয়ার যোগ্যতা রাখেন।

 

অভিজ্ঞদের পাশাপাশি সঠিকভাবে পরিচর্ার মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে পারলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

 

নিয়মিত ঘরোয়া লিগ আয়োজনের পাশাপাশি দলের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিবছরই নির্ধারিত সময়ে বিপিএল আয়োজনের দিকে নজর রাখতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এমনটাই মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এর ফলে প্রতি বছরই নতুন নতুন ক্রিকেটারের আর্বিভাব ঘটবে। ভবিষ্যতে সাকিব, তামিম, মুশফিকের মতো বাংলাদেশ দলের তরুণ ক্রিকেটাররা লাল-সবুজের দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা কোটি কোটি টাইগার সমর্থকদের।

 

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে