ব্রেকিং নিউজঃ

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত * জাতীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতির ঈদের নামাজ আদায় * জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত * কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত * নড়াইলে ঈদের নামাজ আদায় করলেন মাশরাফি * মাগুরায় সাকিবের ঈদের নামাজ আদায় * ঈদ শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলে : রাষ্ট্রপতি * শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ * বাংলাদেশের অপেক্ষায় ডি ভিলিয়ার্স * ইংল্যান্ডের সিরিজ জয় * সাতক্ষীরায় ঈদ জামাতে ক্রিকেটার মোস্তাফিজ * আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তি চায় মানুষ : খালেদা * রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় * ঈদের নৈশভোজ বাদ দিলেন ট্রাম্প

সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন : সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া



সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্যটি অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করায় সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে মর্মাহত হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফি। এই সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত, হতবাক এবং বাকরুদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন এক বিবৃতিতে
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য অপসারণে আন্দোলন করা সংগঠনটির আমির।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘থেমিস অপসারণে যখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলাম। রমযানের আগেই কোনো সংঘাত ছাড়াই থেমিস অপসারণে ভেবেছিলাম সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, ঠিক তখন মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র মাস রমজানের প্রথম রাত্রে থেমিসকে পুনঃস্থাপন করে জাতির ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সাথে তামাশা করা হয়েছে।’
গত ডিসেম্বরে ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর থেকে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম। রোজার আগে এটি অপসারণ না হলে সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাওয়ের হুমকিও দেয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হয়।
এরপর শুক্রবার রাজধানীতে হেফাজত শুকরানা মিছিল করে। তার সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েত বাবুনগরী এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, তাদের প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। দেশের সব ‘মূর্তি’ অপসারণের দাবিও জানান তিনি।
দুইদিন পর শনিবার রাতে আবার সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন করা হয়। যেখান থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হয়েছিল সেখান থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে সেটি স্থাপন করা হয় এনেক্স ভবনের সামনে।
এরপর গণমাধ্যমে হেফাজত আমিরের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠানো হয়। রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিঢ় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা আহমেদ শাহ শফির নামে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারিত হয়েছে জেনে অসুস্থ শরীরেও আনন্দ পেয়েছিলাম এবং দেশবাসীর সঙ্গে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছিলাম। কিন্তু মাত্র দুই দিনের মাথায় যখন দেশবাসী রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস পবিত্র রমযানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, প্রথম রোজার তারাবিহ আদায় করে প্রশান্ত চিত্তে ঘরে ফিরেছিল, তখনই দেশবাসীর সাথে আমিও জানতে পারলাম থেমিস সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনে পুনঃ স্থাপিত হয়েছে। এমন সংবাদে সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে আমরা বিস্মিত, হতবাক এবং বাকরুদ্ধ।
হেফাজত আমির বলেন, ‘আমাদের সকল আবেদন নিবেদন এবং শান্তিপুর্ণ দীর্ঘ আন্দোলনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থেমিসের পুনঃস্থাপন এটাই প্রমাণ করে, এদেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে সরকার বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, বলেন, ‘থেমিস সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকবে, নাকি পেছনে থাকবে, এইটা কোনো ইস্যু কখনো ছিল না। নামাজের সময় কালো কাপড়ে মুড়ে দেয়া হবে কি হবে না, এইটাও ইস্যু ছিলো না। ইস্যু ছিলো, থেমিস থাকবে কি থাকবে না। এইখানে মধ্যপন্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই।’
আহমেদ শাহ শফি বলেন, ‘ইসলামে ইনসাফ বা ন্যায়ের ধারণা একটি মৌলিক ধারণা বা গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এমনকি ইনসাফ কায়েম ছিলো বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যও। সেই ন্যায়ের বা ইনসাফের কোন প্রতীকায়ন যদি গ্রিক ঐতিহ্য থেকে ধার করা হয়, তবে প্রকারান্তরে এটাই ধরে নেয়া হয় যে, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যে ও ধর্মে ন্যায়ের কোনো ধারণা বা অবস্থান ছিল না। এটা উপনিবেশিক ভাবাদর্শ।

শনিবার রাত ১০ টার দিকে একটি ছোট পিকআপে করে ভাস্কর্যটি ভবনের সামনে আনা হয় এবং পুনঃস্থাপনের  কাজ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ১টার দিকে। এটি পুনঃস্থাপন করতে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ঝালাইসহ বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। এদিকে ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

 

গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রতিবাদে মিছিল করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে হাইকোর্টের দিকে যায়। তবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান ফটকে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয় তারা।

এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হাসান বলেন, ‘আমরা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছি। আমরা হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছি।’

মিছিলে ‘মৃণাল হকের কালো হাত ভেঙে দাও ভেঙে দাও’ স্লোগান দেওয়া হয়। এসময় প্রায় ৫০ জন এই মিছিল অংশ নেয়। তাদের হাতে ব্যানার ছিল।

মিছিলটি জাতীয় ঈদগাহ ফটকের সামনে আসলে আটকে দেয় পুলিশ এবং তাদেরকে প্রেসক্লাবের দিকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। মিছিলকারীরা কিছুক্ষণ ফটকের সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে।

এছাড়াও ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রতিবাদে মিছিল করেছে সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্রঐক্য। গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রতিবাদে তারা ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে । এসময় তাদের হাতে ছিল একটি পুরনো ব্যানার।

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সময় গ্রেপ্তার ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ চারজনের জামিন হয়েছে। রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মঈনুদ্দীন সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।

বাকি তিনজন হলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি মোর্শেদ হালিম, ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আল আমিন হোসেন জয় ও উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফ নূর।

 

 

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সোহেল আহমেদ বলেন, এ মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে এই চারজন জড়িত ছিলেন না—আদালতকে তা জানানো হয়েছে।

 

প্রধান বিচারপতি জাতিকে বিভক্ত করেছেন : ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, ‘একজন প্রধান বিচারপতি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে তার আচরণে জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন বলে অনুমেয়। জাতি হতাশ। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্বতস্ফূর্ত পদত্যাগ করে জাতিকে মুক্তি দেবেন বলে আশা করি।’

রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

সর্বোচ্চ আদালতের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য বৃহস্পতিবার রাতে সরানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ শনিবার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি কথা রেখেছেন। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে এ দেশের আলেমসমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই, সরকারের সব কলাকুশলি ও সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে।’

ন্যায়বিচারের প্রতীকের নামে এই্ থেমিস দেবীকে পুনঃস্থাপনের চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ‘আমরা ভাস্কর্যের বিরোধী নই। ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন কোনোভাবেই কাম্য নয়, ঠিক নয়। এরকম যেকোনো কাজে এ দেশের আলেমউলামা, ধর্মভীরু মানুষের রুচিবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।’

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ/এমএকে