ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য সরানো নিয়ে একই বক্তব্য মওদুদ-কাদেরের



সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত ভাস্কর্যটি সরানোর বিষয়ে একই বক্তব্য এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের কাছ থেকে।

শুক্রবার দুপুরের গাজীপুরের কালিয়াকের উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত গ্রীক মূর্তি অপসারণের ক্ষমতা সরকারের কোন এখতিয়ারে নেই, এটি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত। গ্রীক দেবী অপসারণে সরকারের কোন বিষয় নয়, এটা একেবারে কোর্টের এখতিয়ার।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে একই বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি তিনি এই ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছেন। তিনি সরকারের নির্দেশে এটা করেন নাই।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মওদুদ তার দলের নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকনকে উদ্ধৃত করে একথা বলেন।
“আমাদের সেক্রেটারি খোকন এখন বললো, সমস্ত সিনিয়র আইনজীবী, সকলের সঙ্গে তিনি (প্রধান বিচারপতি) পরামর্শ করেছিলেন। কী করা যায়? তারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, আপনি এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিলে ভালো হয়।”
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি’ স্থাপন করা হয়েছে—এমন দাবি করে এর অপসারণের দাবি করে আসছিল হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক নানা সংগঠন।

এ বছরের রমজানের আগে ভাস্কর্য অপসারণের সময়সীমাও দিয়েছিল ওই সব সংগঠন। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অপসারণ করা হয়েছে শিল্পী মৃণাল হকের গড়া ভাস্কর্যটি। গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাস্কর্য সরানোর খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে ছুটে আসেন বিক্ষুব্ধরা। দুইটার দিকে বেশ কিছু তরুণ সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের একটি মিছিল আসে।
রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধরা আদালতের ফটক ধরে ধাক্কাধাক্কি করেন। থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। এই বিক্ষোভের মধ্যেই ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শেষ হয়। ভোর চারটার দিকে ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর আরও ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার আগে আজকের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরই অংশ হিসেবে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এ,এইচ