ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

মুসলিম বিশ্বের প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্য মোনাফেকি ও শঠতাপূর্ণ আনুগত্যে গাঁথা



প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব আমেরিকান সম্মেলনে বক্তব্যে বলেন যে, তিনি কোন ‘লেকচার’ দিতে আসেননি। কিন্তু বিশ্লেষকগণ বলছেন যে, ট্রাম্পের স্থুল ও উচ্চ কণ্ঠে ইরানবিদ্বেষী বক্তব্য সৌদি আরবকে বশীভূত করার লক্ষে প্রদত্ত।
সুতরাং সকল সংবাদ জানার পর আমেরিকার উন্মত্ত প্রেসিডেন্ট রোববার মুসলিম বিশ্বের প্রতি ভুয়া বক্তব্য প্রদান করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি আরবে লেকচার দিতে আসেননি। কিন্তু তিনি মুসলিম ধর্ম প্রচারকরণের উদ্দেশ্যে ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা জানিয়ে বলেন,ওল্ড টেস্টমেন্টে লকী  ভাল ও মন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।গত বছরে ট্রাম্পের মুসলিম বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষমা প্রার্থনাসূচক বা ভুল স্বীকারোক্তি নেই। এমনকি তিনি আইএসআইএসকে নিন্দা না করে ইরানকে সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন দেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইরানের জনগণকে গভীর হতাশায় নিপতিত করেছে। যারা মাত্র একদিন পূর্বে সংস্কারপন্থী ও উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানীকে ২য় বারের জন্য নির্বাচিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে শিয়াপন্থী ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে একঘরে করার ঘোষণা দিয়েছেন। বক্তব্যে শিয়া হিযবুল্লাকে নিন্দা করা হয়। শিয়াপন্থী ইয়েমেনকে তদ্রুপ নিন্দা জানানো হয়। ট্রাম্পের সুন্নীপন্থী সৌদি আরব এ ধরনের উত্তাপ সিঞ্চেনে সহায়তা করেন।
সিএনএন-এর বিশ্লেষণে সাধারণত এ ধরনের বক্তব্যকে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুন:স্থাপন বলে আখ্যায়িত করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রোববারের বক্তব্য কোনো সম্পর্কের পুন:স্থাপন সংক্রান্ত ছিলো না।
প্রেসিডেন্ট বলেন, সময় সময় মিথ্যা প্ররোচিত করে আল্লাহর নামে নির্দোষ মানুষ হত্যা করা সকল মানুষের জন্য অবমাননা। অথচ তিনি পূর্বে ইরানকে নয় বরং সৌদি আরবের ‘ওয়াহাবি’ ‘সালামী’ মতবাদকে ‘চরমপন্থা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদের’ জন্য দায়ী করেন।
রেডিকেল ইসলামিক চরমপন্থা তিনি ‘ইসলামী চরমপন্থা’ বলে উল্লেখ করেন। ‘ইসলাম’ শব্দকে তিনি তুলাধুনা করতে চেয়েছেন কৌশলে। তিনি ইংরেজি ভাষায় সুকৌশলে বক্তব্য দিলেও প্রকারান্তরে বলতে চেয়েছেন, সন্ত্রাসীরা হলো মুসলমান।

মোটের ওপর স্মরণ করা যায়, ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে ইতিহাসে বৃহত্তম ১১০ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রি চুক্তি। ট্রাম্প কাতারকে সুন্দর সুন্দর সামরিক অস্ত্র ক্রয় করার প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প এই চুক্তিটি করলেন যখন মাত্র ;দুই দিন পূর্বে তিনি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের দুষ্ট ব্যবসায়ী বলে আখ্যায়িত করেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আলেমগণের সঙ্গে পোপের সভায় তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন।

রোববার ৫৬ মুসলিম নেতৃবৃ্ন্দের সম্মুখে রিয়াদে আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিটে ট্রাম্প বলেন, আমরা সাধারণ মূল্যবোধ ও পারস্পরিক স্বার্থের সঙ্গে আমরা খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু বিশ্লেষকগণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কোনো মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকগণ বলেন, অস্ত্র বিক্রি, তৈল ক্রয় ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সামঞ্জস্য মূল্যবোধ কোনটি? তাঁরা প্রশ্ন করেন, যেখানে সৌদি আরব অপরাধীর মাথা কেটে হত্যা, নারী বিদ্বেষ, অগণতান্ত্রিক ও একনায়কত্বপূর্ণ মূল্যবোধ ধারণ করে। যখন ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘আমাদের বন্ধুরা কখনও আমাদের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করবেন না, আমাদের শত্রুরা আমাদের প্রতিজ্ঞা সম্পর্কে কখনও সন্দেহ পোষণ করবে না’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকগণ বলেন, ট্রাম্পের ‘বন্ধু’ কারা? ধরে নিই সৌদি আরব বা ইসলামী বিশ্ব। তাহলে ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন বা যুদ্ধলিপ্ত লিবিয়া কি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না? আর ট্রাম্পের শত্রু কারা? এরা কি আইএসআইএস অথবা রাশিয়া? না সিরিয়া, না ইরান? নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকার সাথে কারা শান্তি স্থাপন করবে? তিনি মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছেন কোন সৎ উদ্দেশ্য এটা কি ‘সৌদি সুন্নি’ মুসলিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব না শিয়া মুসলিমের সঙ্গে শত্রুতা?

সে কারণে বিশেষত তাঁর রিয়াদ বক্তৃতা সর্বত্র আলোচ্য হয়ে উঠেছে? আমরা বিশ্বে এর কী প্রভাব পড়ে বা কী ফল এটা বয়ে আনে তার ওপর সিদ্ধান্ত প্রহণ করবো। কোনো অনমনীয় বা কঠোর মতবাদের ওপর নয়।

আমরা অভিজ্ঞতা থেকে শিখবো, কোন বদ্ধ ধারণার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে। এবং যেখানে সম্ভব ধীর সংস্কারে অগ্রসর হবো হঠাৎ না পালিয়ে। চলুন আমরা এই ক্ষুদ্র নীতি পৃথিবীতে প্রকৃত ফলাফলের ওপর আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। যার অর্থ নিষ্ঠুর বাস্তবতা। ‘ধীর সংস্কার’ অর্থ ইউএস মানবাধিকারের জন্য কিছু করবে না, কোনো পদক্ষেপ নিবে না মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে। আর যদি ইরান, সিরিয়া ইরাকি শিয়া, লেবাননী শিয়া  হিসবুল্লাহ অথবা ইয়েমিনি শিয়া কর্তৃক এসব অপরাধ সংঘটিত হলে ভিন্ন ব্যবস্থা হবে।

ট্রাম্পের রিয়াদ বক্তৃতায় ‘অংশীদারিত্বের কথা ঘোষিত হয়েছে। এর অর্থ আমরা ধরে নিই এটি ছিল সর্বাংশে ‘কোয়ালিশন’। অাপনি বাজী ধরুন এটি হবে কি?

আমেরিকা ইরাক বা আফগানিস্তানে যে রক্ত ঝরিয়েছে এ ক্ষেত্রে তা করছে না। আরবরা নিজেরা নিজেদের রক্ত ঝরাবে। যা আমাদের অস্ত্র সরবরাহকারীদের দ্বারা উৎসাহিত করা হচ্ছে। এভাবে ট্রাম্প আরবদের জন্য ওয়াজ করে বুঝাতে চেয়েছেন তাদের প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, তাদের প্রয়োজন ‘বিনিময়’ করা। আরবরা উৎকৃষ্ট শক্তিতে ‘একীভূত ও বলীয়ান’ হবে। এটা তাৎপর্যপূর্ণ হতো যদি যুদ্ধটি হতো সকল ধর্মের সভ্য ও অসভ্য, বর্বর মানুষের মধ্যে না ভালো ও মন্দের মধ্যে।

যেমনটি ট্রাম্প সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।  যে যুদ্ধ শুরু হতো পবিত্র সৌদি আরব থেকে। ট্রাম্পের বক্তৃতায় বলেছেন, ‘যদি তুমি সন্ত্রাসের পথ বেছে নাও, তবে তোমার জীবন শূন্যতা ভরপুর হবে, তোমার আত্মা নিন্দিত হবে।’ বিশ্লেষকরা বলেছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আইএস আইএসের লেখকের কলমের কালির মত।

আপাতদৃষ্টিতে আমাদের অবাক করে না যে, সম্ভবত ট্রাম্প ওইসব লোকদের কথা বক্তৃতায় বলেছেন যে, এটি দেশের মানুষকে তিনি নির্বাহী আদেশে আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। শর্ত সম্পূর্ণ নতুন ভাবনা। ট্রাম্প শান্তির কথা বললেও শিয়া ও সুন্নি আরবের যুদ্ধ প্রস্তুতির ইন্ধন দিয়েছেন। বলা নিস্প্রয়োজন এসব হলুদ আরব নেতারা ট্রাম্পের বক্তৃতার পর হাততালি দিয়ে হর্ষধ্বনি করেছেন। কিন্তু তাঁরা কী বুঝেছেন পৃথিবী কতইনা প্রতারিত হয়েছে!

দ্য ইন্ডেপেডেন্ট ইউকে অবলম্বনে মসি খাঁ