ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

যাদের কারণে চোখের আলো নিভে গেল সিদ্দিকুরের, তাদের শাস্তি হবে কী?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:
পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে গত ২০ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশ লাঠিপেটা করে ও খুব কাছ থেকে টিয়ার শেল ছোড়ে। এই টিয়ার শেল সরাসরি সিদ্দিকুরের দু’চোখে আঘাত হানে। এতে সিদ্দিকুর প্রাণে বেঁচে গেলেও রক্ষা পায়নি তার চোখ দুটো। অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যের টিয়ার শেলের আঘাতে চিরদিনের মতো চোখের আলো নিভে গেছে গরিব এই শিক্ষার্থীর।

ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, বাঁ চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা আছে।

চিকিৎসকদের এমন আশ্বাসে সরকারের তরফ থেকে নির্দেশ আসে সিদ্দিকুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই পাঠানোর। স্বল্পতম সময়ে গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুরকে চেন্নাই পাঠানো হয়।

চেন্নাইয়ের ‘শঙ্কর নেত্রালয়’-এ অস্ত্রোপচারের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সিদ্দিকুরের চোখ ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ৪ আগস্ট শুক্রবার অস্ত্রোপচারের আগে সিদ্দিকুরের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই তথ্য জানিয়েছিলেন শঙ্কর নেত্রালয়ের চিকিৎসক লিঙ্গম গোপাল।

চোখ ভালো না হওয়ার খবরে হতাশ হয়ে পড়েন সিদ্দিকুর। এমনকি অস্ত্রোপচারেও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ’ ‘চোখ ভালো না হলে আমি বাঁচব কী করে?’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সিদ্দিকুর। সিদ্দিকুরের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই নায়েব আলী ছাড়াও ছিলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল আহসান।

অপারেশনের চারদিন পর চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ের চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিদ্দিকুর দুই চোখের কোনোটিতেই আর দেখতে পারবে না।

শেষমেষ চেন্নাইয়ে চিকিৎসাশেষে দেশে ফিরে আসেন সিদ্দিকুর। ১১ আগস্ট শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন তিনি। তাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেয়া হচ্ছে। সেখানেই বাকি চিকিৎসা হবে সিদ্দিকুরের।’

দেশে আসার আগের দিন বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসক লিঙ্গম গোপালের সঙ্গে দেখা করেছেন সিদ্দিকুর। চিকিৎসক বলেছেন, তার বাঁ চোখের রেটিনার ৯০ শতাংশই নষ্ট। বাকি ১০ শতাংশে আলো ফিরে আসা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ডান চোখের দৃষ্টি দেশে থাকতেই নষ্ট হয়।

ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ বড় একটি বাহিনী। বাহিনীতে অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্য থাকতে পারেন। সিদ্দিকুরের ঘটনায় যদি এমন কোনো অতি উৎসাহী সদস্য জড়িত থাকেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তদন্তে গত ২২ জুলাই পুলিশের রমনা বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রধান রমনা বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবাল। একই ঘটনায় ২৩ জুলাই ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপস) মীর রেজাউল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল।

সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুলিশের অসতর্কতা ও অপেশাদার আচরণের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। গত ৭ আগস্ট রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম কমিশনার (অভিযান) মীর রেজাউল আলম এ তথ্য জানান।

এদিকে সিদ্দিকুরের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর ও রমনা জোন দু’টি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যের অপেশাদার আচরণের কারণে চোখের আলো নিভে গেছে সিদ্দিকুরের। সেই সাথে থেমে গেছে তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ। যাদের কারণে সিদ্দিকুরের আজ এই পরিণতি শাস্তি পাবে কী তারা?

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে