ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

বিচারবহির্ভূত হত্যা: সমালোচনার মুখে সরকার



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

সম্পাদকীয় শিরোনাম ‘The Opposition Disappears in Bangladesh’. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসে এই সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে ৷ এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত আট বছরে বাংলাদেশে ৩২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা অবৈধভাবে আটকের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে গত বছর (২০১৬ সালে) ৯০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২১ জনকে খুন করা হয়। ফলে রীতিমতো বিব্রত বাংলাদেশ সরকার৷

 

সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রতি চ্যালেঞ্জ করে লেখা হয়েছে, যদি তিনি জাতিসংঘের প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন, তাহলে তার সরকারের উচিত জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধানকে দিয়ে বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্তের আমন্ত্রণ জানানো।

বিরোধীদল বিএনপিসহ অন্যান্যরা বরাবরই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুম খুন প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ তুলেছে৷ এরই মাঝে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক সম্পাদকীয় প্রকাশ হওয়ায় বিতর্ক আরও জটিল আকার নিল৷

 

সম্প্রতি ঢাকাভিত্তিক মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে বাড়তে থাকা অপহরণ ও খুন, অবৈধভাবে আটক, বিচারবহির্ভূত মামলা নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট দিয়েছিল৷ তাতে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশ ২০১৩ সাল থেকে শত-শত মানুষকে গোপন স্থানে অবৈধভাবে আটকে রেখেছে৷ এদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতা রয়েছেন। ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল , ‘তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম’৷

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লিগ সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওই প্রতিবেদন। বাংলাদেশের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে গোপন স্থানে অবৈধভাবে আটকে রেখেছে৷ এদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতা রয়েছেন। সংবাদ সংস্থা বিবিসি এই রিপোর্ট বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে৷

 

কবি ফরহাদ মজহারের রহস্যজনক নিখোঁজ ও ফিরে আসার ঘটনায় আলোড়িত সুশীল সমাজ ৷ বিরোধী বিএনপির অভিযোগ, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, বিচারবহির্ভূত হত্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে৷

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট বলছে, অবিলম্বে অপহরণ করে আটকে রাখার প্রবণতা বন্ধ করে যাবতীয় অভিযোগের তদন্ত করা দরকার ৷ পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

কী আছে ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে? এই প্রতিবেদনে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যাদের শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই গুম করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে তথ্য রয়েছে যে, এরকম আটক ২১ জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর নয়জনের কোনো তথ্যই আর জানা যায়নি।

 

”নিখোঁজের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলেও, বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়ে আইনের খুব একটা তোয়াক্কা করছে না”। জানিয়েছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস। তিনি বলেন, ”মানুষজনকে আটক করে তারা দোষী না নির্দোষ নির্ণয় করা, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি তারা বেঁচে থাকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যেন এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।”

 

প্রতিবেদনে বিরোধী বিএনপির ১৯জন কর্মীর তথ্য রয়েছে, যাদের ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয় । প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১০০ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে পুলিশের কাছে করা অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি কাগজপত্রও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ।

 

সেই রিপোর্টকে ভিত্তি করেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় ‘The Opposition Disappears in Bangladesh’-তে লেখা হয়েছে, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ও ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (ব়্যাব) কর্মীরা বাড়ি থেকে বা রাস্তা থেকে অপহরণ করছে ৷ অপহৃতদের অধিকাংশই বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি অপহৃতদের তালিকায় রাখা হয়েছে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের ৷

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট উড়িয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ৷ পরে বিতর্ক আরও দানা বাধে কবি ফরহাদ মজহারের আচমকা নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে ৷ যদিও পরে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ ৷ ঘটনায় পুলিশের দাবি, কবি ফরহাদ মজহার নিছক গল্প তৈরি করেছেন৷ আর ফরহাদ মজহারের দাবি, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল ৷

 

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বাড়তে থাকা অপহরণ ও গুম খুনের ঘটনায় চিন্তা ব্যক্ত করা হয় ৷ দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি এই  দাবি করেন যে, জাতিসংঘ একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে