ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

রিয়ালকে আটকাতে পারলো না অ্যাথলেটিকো



সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে পরাজিত করেও দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠতে পারলো না অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।

সাওল নিগুয়েজের শক্তিশালী হেডের পরে এন্টোনিও গ্রিজমানের পেনাল্টিতে ঘরের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে ১৬ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক এ্যাথলেটিকো। কিন্তু প্রথম লেগে সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-০ গোলের জয়ের পরে গতকাল দুই গোলে পিছিয়ে থেকে একটি গোলই ফাইনালের টিকিটের জন্য যথেষ্ট ছিল গ্যালাকটিকোদের। আগামী মৌসুমে ওয়ান্ড মেট্রোপলিটানোতে নিজেদের হোম ভেন্যু নিয়ে যাবার কারণে গতকালকের ম্যাচটিই ছিল ক্যালডেরনে এ্যাথলেটিকোর শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ। বিরতির ঠিক আগে ইসকোর অ্যাওয়ে গোলে রিয়াল শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসলেও অ্যাথলেটিকোর সামনে সমীকরণটি কঠিন হয়ে যায়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর প্রথম লেগের হ্যাটট্রিকই মূলত রিয়ালের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। আগামী ৩ জুন কার্ডিফের ফাইনালে রিয়াল যখন জুভেন্টাসের মুখোমুখি হবে তখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তারাই প্রথম দল হিসেবে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবে।

ম্যাচ শেষে রিয়াল বস জিনেদিন জিদান বলেছেন, ফাইনালে পৌঁছাতে পেরে আমি দারুন আনন্দিত। ধীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি ও পরপর দুই বছর ফাইনালে খেলছি। এজন্য দলের প্রতিটি খেলোয়াড় ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালসহ এই নিয়ে সম্প্রতী তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাথলেটিকোকে পরাজিত করে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলো রিয়াল। আটদিন আগে প্রথম লেগে রিয়ালের মাটিতে অ্যাথলেটিকোর খেলোয়াড়দের কাজে পারফরমেন্সেই মূলত রিয়ালের ভাগ্য খুলে যায়। অ্যাথলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিয়োনে অবশ্য দলের প্রশংসা করে বলেছেন, আরো একবার প্রমাণিত হলো কেন দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত এ্যাথলেটিকো টিকে ছিল। প্রথমার্ধের ২০-২৫ মিনিট ক্লাবের জন্য একটি ইতিহাস। ক্যালডেরনে এই ধরনের পরিবেশ সত্যিই যাদুকরী মুহূর্তের মতই যা সমর্থকদের স্মৃতিতে অনেকদিন থাকবে।

ম্যাচের শুরুতেই রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস খুব কাছে থেকে কোকের শট আটকে দেন, ফার্নান্দো টরেসের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে কাসেমিরোর হেড দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করেন ইয়ান ওবলাক। ১২ মিনিটে কোকের কর্ণান থেকে সাওল শক্তিশালী হেডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মৌসুমের চতুর্থ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তিন মিনিট পরে বক্সের ভিতর রাফায়েল ভারানের ফাউল থেকে পেনাল্টি আদায় করেন ফার্নান্দো টরেস।

এর আগে রিয়ালের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করা গ্রিজমান এবার আর ভুল করেননি। স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। এরপর দুই দলের মধ্যেই শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও শক্তিমত্তা লক্ষ্য করা গেছে যা সামলাতে তুরষ্কের রেফারী কানিয়েট কাকিরের বেশ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। ৩৭ মিনিটের মধ্যে দুই দলের পাঁচজন খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে বাধ্য হন রেফারি। বিরতির ঠিক আগে রিয়াল তাদের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে গোলের সন্ধান পান। করিম বেনজেমা তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দিলে টনি ক্রস পোস্টে শট নেন। ওবলাক আবারো দারুণ দক্ষতায় তা রক্ষা করলেও ফিরতি বল থেকে ইসকো আস্তে করে বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ হয়ে যায়।

বিরতির পরে গত তিন ম্যাচে আট গোল করা রোনাল্ডো ওবলাককে পরাস্ত করলেও অফ সাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে ইয়ানিক কারাসকো ও কেভিন গামেইরোর পরপর দুটি শট নাভাস রক্ষা না করলে অ্যাথলেটিকোকে আটকানো মুশকিল ছিল।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে