ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

ফাইনালে আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান



ক্রীড়া প্রতিবেদক : আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে। আজ ১৪ জুন বুধবার তারা প্রথম সেমিফাইনালে ৮ উইকেটে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করে। আগামীকাল ১৫ জুন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার বিজয়ী দলের সঙ্গে তারা ১৮ জুন শিরোপা লড়াইয়ে মোকাবেলা করবে।
বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে আজ ইংল্যান্ড ২১২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলে পাকিস্তান জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে খুব সহজেই টার্গেটকৃত রান তুলে স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছে যায়। আজহার আলী ও ফখার জামান দলের সূচনা করতে এসে পাকিস্তানকে একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে যান। যা তাদের জয়ের পথকে সুগম করে দেয়। এ দুই ওপেনারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংই সাবেক বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়নদের শেষ দুইয়ে জায়গা করে দেয়। দলীয় ১১৮ রানে পাকিস্তানের প্রথম উইকেটের পতন ঘটলে ততক্ষণে ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণে। ফখার ব্যক্তিগত ৫৭ রানে আদিল রশিদের বল খেলতে গিয়ে জস বাটলারে হাতে স্ট্যাম্প হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ওয়ানডাউনে বাবর আজম আজহারের সঙ্গে জুটি বেঁধে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্বটুকু পালন করেন। যখন দলীয় ১৭৩ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে তখন আজহার ব্যক্তিগত ৭৬ রানে বেলের বলে আউট হন। এরপর বাবর ৩৪ ও মোহাম্মদ হাফেজ ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের নোঙরে পৌঁছে দেন। এজন্য তাদের হারাতে হয়েছে ২ উইকেট। ৩৭.১ ওভারে ২২৫ রান তুলে ইংল্যান্ডকে সহজেই হারিয়ে দেয়।


এরআগে স্বাগতিকরা টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ২১১ রানে ইনিংস গুটিয়ে নেয়। জো রুট ৪৬, জনি বেয়ারস্টোর ৪৩ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের হাসান আলী ৩৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংলাইনে ধ্বস নামাতে সহায়তা করেন।
যদিও ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ে এসে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুটা চমৎকারই করেছিল। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা পরবর্তী ব্যাটসম্যানরা বজায় রাখতে না পারায় দলটি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায়। পাকিস্তানী বোলারদের তোপের মুখে তারা লো স্কোর গড়ে তোলেন। যেখানে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে দলীয় স্কোরটা তরতর করে এগিয়ে যাবার কথা সেখানে রানের চাকা সচল করতে পারেনি ইংল্যান্ড। তবুও আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার চেস্টা করেছে। পাকিস্তানী বোলিংলাইনে ইনজুরির কারণে মোহাম্মদ আমীর দলে নেই। কিন্তু তার অভাব বুঝতে দেননি অপর বোলাররা। বিশেষ করে হাসান আলী এবং রুম্মন রইস ও জুনায়েদ খানের বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা।
ইংল্যান্ডের ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯ রান ছিল। ষষ্ঠ ওভারেই ছন্দপতন শুরু। রুম্মন রইসের বল খেলতে গিয়ে দলীয় ৩৪ রানে বাবর আজমের হাতে তালুবন্ধী হন ১৩ রান করা অ্যালেক্স হেলস। এক উইকেট পতনের পর ওয়ান ডাইনে নামা জো রুটের সঙ্গে দারুণ জুটি বেধেছিলেন জনি বেয়ারস্টোর। কিন্তু সেটিও খুব বেশি স্থায়ী করতে দেননি হাসান আলী। ফলে দলীয় ৮০ রানে তিনি জনি বেয়ারস্টোরকে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে সাজঘরে ফেরান। তৃতীয় উইকেটে রুট জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মরগানের সঙ্গে। কিন্তু রুট ৪৬ রানে আর দলীয় ১২৮ রানে শাদাব খানের বলে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। এরপর দলীয় তের রান যোগ করে মরগানও রুটের পথ অনুসরণ করেন। তিনি ৩৩ রানে হাসান আলীর শিকার হন। এ সময় দলীয় ১৪১ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটে।


এমনকি জস বাটলার পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করে খেলতে। মাত্র ৪ রানেই তিনি দলীয় ১৪৮ রানে জুনায়েদ খানের বলে সরফরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। পঞ্চম উইকেটে বাটলারের বিদায়ের পরপরই লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি। ফলে নিয়মিত উইকেট পতন শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ উইকেটে ১৬২ রানে মোহাম্মদ আলী, সপ্তম উইকেটে ১৮১ রানে আদিল রশিদ, অষ্টম উইকেটে ২০১ রানে স্টোকেস, নবম উইকেটে ২০৬ রানে প্লানকেট ও দশম উইকেটে ২১১ রানে উড সাজঘরে ফেরেন। হাসান আলী ৩৫ রানে ৩টি এবং ৪২ রানে জুনায়েদ খান ও ৪৪ রানে জুম্মন রইস ২টি করে উইকেট লাভ করে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংলাইনকে তছনছ করে দেন।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ