ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

বাংলাদেশ যেভাবে সেমিফাইনালে



ক্রীড়া প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে যে টার্গেট নিয়ে ইংল্যান্ড খেলতে এসেছিল সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা।

 

১৫ জুন বৃহস্পতিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে টাইগাররা স্বপ্নের সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের মোকাবেলা করবে। তাদের হারাতে পারলেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য উচ্চতায়।

 

’এ’ গ্রুপে মাশরাফিরা গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই শেষ চারে উঠে। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টাইগাররা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু পরের ম্যাচে আরো নড়বড়ে অবস্থা থেকে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন। শেষ ম্যাচে মরণ-বাঁচনের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয়ই বাংলাদেশকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয়।

 

গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তামিম ইকবাল তিন নম্বরে উঠে এসেছেন। ৩ ম্যাচে তিনি ২২৩ রান করেন। এরমধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসটি ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

অন্যদিকে টাইগারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ২ ম্যাচে পেয়েছেন ৩ উইকেট। এবার দেখা যাক যেভাবে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠেছে তার চিত্র।

প্রথম ম্যাচ : কেনিংটন ওভালে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। টস জিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশকে ব্যাটিয়ে আমন্ত্রণ জানায়। টাইগাররা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০৫ রান সংগ্রহ করে। এরমধ্যে তামিম ইকবাল ১২৮ রান করেন। মাশরাফি ও সাব্বির একটি করে উইকেট লাভ করেন। জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড ৪৭.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রান তুলে জয়ের নোঙরে পৌঁছে যায়। এরমধ্যে জো রুট করেন অপরাজিত ১৩৩ রান। প্লানকেট ৫৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। স্বাগতিকরা বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে।


দ্বিতীয় ম্যাচ : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেনিংটন ওভালে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে খুব ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টি আইনে টাইগাররা অসিদের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিজেদের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন। টসে জিতে মাশরাফিবাহিনী ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই অলআউট হয়ে যায়। ৪৪.৩ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। এরমধ্যে তামিম ইকবাল করেন ৯৫ রান। স্টার্ক ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিংলাইনে ধস নামান। জয়ের লক্ষে অসিরা খেলতে নামলে বারবার বৃষ্টি কবলে পড়ে যাচ্ছিল ম্যাচটি। তারপরও ১৬ ওভার পর্যন্ত খেলা হয়েছে। এরপর বৃষ্টির জন্য খেলা চালিযে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এসময় তাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৮৩ রান। এরমধ্যে ওয়ার্নার ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। রুবেল পান এক উইকেট।
তৃতীয় ম্যাচ : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চারের লড়াইয়ে মরণ-বাঁচনের লড়াই ছিল বাংলাদেশের। জিতলে সেমিফাইনাল, হেরে গেলে বিদায়। এ রকম সমীকরণে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে গড়ায় এ ম্যাচ। কিউইরা টস জিতে ব্যাটিং করতে এসে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে। টেইলর ৬৩ ও অধিনায়ক উইলিয়ামসন ৫৭ রান করেন। ১৩ রানে মোসাদ্দেক নেন ৩ উইকেট। জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৪৭.২ ওভারে সাকিব-মাহমুদুল্লার জোড়া সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান তুলে কিউইদের ৫ উইকেটে পরাজিত করে।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ