ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফাইনালের পথে ভারতের ৫টি স্মরণীয় পারফরমেন্স



চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনালে পৌঁছানোর এই পথে ভারতীয় দলের ৫টি স্মরনীয় পারফরমেন্স।

 

 

১. রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের জুটি:
রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের ওপেনিং জুটি ভারতীয় দলের ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০১৩ সালে ভারতীয় দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়েও বড় ভুমিকা রেখেছিল এ দুই ওপেনার । চলতি আসরেও তাদের সেই দ্যুতিময় নৈপুন্য অব্যাহত রয়েছে।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা উদ্বোধনী উইকেট জুটিতে সংগ্রহ করেছিলেন ১৩৬ রান। যা ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। এমনকি শ্রীলংকার কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচেও এই জুটি শুরুতে গড়ে তুলেছিল ১৩৮ রানের পার্টনারশীপ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রোহিত শর্মা কিছুটা আগেভাগে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে ঠিকই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন। যেখানে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৮৭ রান।
২. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুবরাজ সিংয়ের ইনিংস:

যুবরাজ সিং ও আইসিসি টুর্নামেন্টের মধ্যে একটি দারুন সেতুবন্ধন রযেছে। এ টুর্নামেন্টে তিনি সব সময় কিছু ছাপ রেখে যেতে সক্ষম হন। যেটি তিনি রেখেছেন ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে। মাত্র ২৯ বলের মোকাবেলায় ৮টি চার ও একটি ছয় হাকিয়ে তিনি পূর্ণ করেন অর্ধশতক। তার উপস্থিতিতে যেন জ্বলে ওঠে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। স্লগ ওভারে তার উপস্থিতিতে মাত্র ৫৮ বল থেকে ৯৩ রান সংগ্রহ করে ভারত। যুবরাজের এই দ্রুততম সংগ্রহের বদৌলতে ৩০০ রান অতিক্রম করতে সক্ষম ভারত।

 
৩.দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে জসপ্রিত বুমরাহর স্পেল:
প্রথমবার ইংল্যান্ড সফর ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি অলিখিত কোয়ার্টারফাইনাল হওয়া সত্ত্বেও ২৩ বছর বয়সী জসপ্রিত বুমরাহ অসাধারন বোলিং করেছেন এবং তার সঠিক লইন-লেন্থের কারণে হাশিম আমলা ও কুন্টিন ডি কক কখনোই স্বাভাবিকভাবে রান নিতে পারেননি। ক্রিস মরিস ও আন্দিল ফেলুকুয়াওর উইকেট শিকার করেন তিনি। তার ম্যাচ ম্যাচ ফিগার ছিল ৮-০-২৮-২।
এ পর্যন্ত দারুন নৈপুন্য দেখানো বুমরাহ পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও আরেকটি ভাল দিন কাটানোর অপেক্ষায় আছেন।

 

৪. অধিনায়ক কোহলির ফর্ম:
নিজ দেশে কিছু দিন আগে সমাপ্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের(আইপিএল) দশম আসরটা মোটেও ভাল না কাটায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার ফর্ম নিয়ে ভক্তদের মদ্যে বেশ শঙ্কা ছিল। তবে আইসিসির এ নটুর্নামেন্টে এসে ঠিকই তিনি ফর্মে ফিরেছেন।
টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত তার মোট রান ২৫৩। কেবলমাত্র শ্রীলংকার বিপক্ষে ছাড়া সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রান পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৮ বলে ৮১, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০১ বলে ৭৬ এবং সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপেক্ষ মাত্র ৭৮ বলে অপরাজিত ৯৬ রান করেছেন তিনি।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুন ছন্দে থাকা কোহলি বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত ইনিংসের মাধ্যমে ওযানডে ক্রিকেটে দ্রুত ৮ হাজার রানের রেকর্ড গড়েছেন ।

 

 

৫. বাংলাদেশের বিপক্ষে কেদার যাদবের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার:

পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল খেরার যোগ্যতা অর্জনের পথে সেমিফাইনালে বাংলাদশকে ৯ উইকেটে হারায় ভারত। তবে কেদার যাদব জ্বলে না উঠলে সম্ভবত পার্শবর্তী দেশটির বিপক্ষে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হতো না। এ অলাউন্ডার গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট শিকার করেন ম্যাচটি ভারতের পক্ষে ঘুরিয়ে দেন।
তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম জুটি ১২১ রানে জুটি গড়ায় এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ তিনশ’র বেশি রান করবে। কিন্তু যাদব নিজের দ্বিতীয় ওভারেই হুমকি হয়ে ওঠা দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করেন। তামিম-মুশফিক দু’জনই যাদবের শিকার হন এবং লক্ষ্যমাত্রা ভারতের অনুকুলে রাখা নিশ্চিত করেন। যে কারণে ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করে টিম ইন্ডিয়া।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ