ব্রেকিং নিউজঃ

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজা অনুষ্ঠিত  ***  টি-টেনে সাকিবদের ম্যাচ আজ রাত দশটায়, তামিমদের বারোটায়  ***  ইংল্যান্ডের ১ম ইনিংসে সংগ্রহ ৪০৩, অস্ট্রেলিয়া ১৮০/৩  ***  টি-১০ লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক আফ্রিদির, বিধ্বস্ত শেবাগরা  ***  বিকালে লালদীঘি ময়দানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজা  ***  মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক  ***  ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজট  ***  পূর্ব জেরুজালেমে দূতাবাস খুলতে চায় লেবানন  ***  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থী ৭দিন ধরে নিখোঁজ  ***  মুন্সীগঞ্জে গজারিয়ায় নামাজে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮
Published: 6 months ago

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পথে পাকিস্তানের ৫টি সেরা পারফর্মেন্স



প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। সেমি-ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে শোচনীয়ভাবে ৮ উইকেটে হারিয়ে ৮ জাতির এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এশিয়ার এই ক্রিকেট দলটি। র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নীচের দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া পাকিস্তান ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে উপমহাদেশের আরেক ক্রিকেট পরাশক্তি চির প্রতিদ্বন্দ্বি ভারতকে। যারা সেমিফাইনালে ৯ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। খবর বাসস।
পাকিস্তান দলের এই ফাইনালের মিশনটি বলতে গেলে রূপকথার গল্পের মত। ভারতের কাছে পরাজয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা শুরু করা ‘আনপ্রেডিকটেবল’ দলটি পরে টানা সফলতার মাধ্যমে ফাইনালে উঠে এসেছে। এই পথে তারা পরাজিত করে শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
অবিষ্মরনীয় এই ফাইনালের পথে পাকিস্তান দলের সেরা ৫টি পারফর্মেন্স

১. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হাসান আলীর সারা জাগানো স্পেল:
ভারতের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা হাসান আলী পরের ম্যাচে সুযোগ পেয়েই তার নিখুঁত বোলিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে ২৩ বছর বয়সি এই পেসার বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে একাই ধ্বসিয়ে দেন প্রোটিয়া ব্যাটিং বিভাগকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যবধান গড়ে দেয়া ওই ম্যাচে ৮-১-২৪-৩ বোলিং ফিগার নিয়ে সেরার পুরস্কারটিও আদায় করে নেন এই উদীয়মান পেসার। হাসানের নিখুঁত বোলিংয়ের কারণে প্রেটিয়া ব্যাটসম্যানরা রানের চাকা সচল রাখতে ব্যর্থ হয়। এই ধারাবহিকতা তিনি পরের ম্যাচগুলোতেও ধরে রেখেছিলেন।
২. শ্রীলংকার বিপক্ষে মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খানের লড়াই:
মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খানের লড়াকু বোলিংয়ের কল্যানে লংকানদের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে যায় পাকিস্তান।
প্রথমে ব্যাটিং শুরু করা লংকান ব্যাটসম্যান এঞ্জেলো ম্যাথুস ও ডিকবেলা বড় একটি লক্ষ্য স্থিরের ইঙ্গিত দিলেও আমির এবং জুনায়েদ নিজেদের বোলিংয়ের সময় রিভার্স সুইংয়ের অসাধারণ স্পেল পার করেন। তাদের ওই বোলিং তান্ডবে ১৬৭ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলংকা। ৩ উইকেটে ১৬১ রানে থাকা লংকানরা পরবর্তী ২২ বলের মোকাবেলায় ৬ রান যোগ করতেই হারিয়েছে চার উইকেট। আমির ৭৩ রান সংগ্রহকারী ডিকবেলা এবং ৩৯ রানের ম্যাথুজকে ফিরিয়ে দেন। আর জুনায়েদ ফিরিয়ে দেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১) ও থিসারা পেরেরাকে (১)। ১০ ওভার করে বল করে আমির ৫৩ রানে ২ উইকেট এবং জুনায়েদ ৪০ রানে ৩ উইকেট লাভ করেন। জুনায়েদের স্পেলের উল্লেখযোগ্য দিক হচেছ তিনি ৩টি মেডেন ওভার আদায় করেছেন।

 

৩. ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাসান আলীর স্পেল :

পাকিস্তান দলের অধিনায়কের রাখা আস্থার প্রতিদান কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দিয়েছেন হাসান আলী। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে প্রথম ম্যাচে নাস্তানাবুদ হওয়া পাকিস্তানকে দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরে এনেছেন তিনি। তিনি যা করেছেন তাতে তাকে পাকিস্তানের সেরা বোলার বললে অন্যায় হবেনা।
হাসান আলীর ৩৫ রানের বিপরীতে ৩ উইকেট সংগ্রহের ঘটনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের চেহারাই পাল্টে দেয়। এ পর্যন্ত ১০ উইকেট সংগ্রহের মাধ্যমে আলী এখন টুর্নামেন্টের শীর্ষ উইকেট সংগ্রহকারী। ফাইনালেও তিনি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করছে পাকিস্তানীরা।
৪. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইমাদ ওয়াসিমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার:
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকাকে ১৯ রানে হারানো সম্ভব ছিলনা যদি না দুটি উইকেট নিয়ে ইমাদ ওয়াহিদ খেলার চেহারা পাল্টে না দিতেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়ার পর উদ্বোধনী জুটিতেই ৪০ রান সংগ্রহ করে ফেলেন প্রোটিয়া দলের ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। ওই ম্যাচে ইমাদই এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলে প্রথম উইকেট হিসেবে ফিরিয়ে দেন আমলাকে। আমলাকে আউট করার পর তিনি শুন্য হাতে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান এবি ডি বিলিয়ার্সকে। এটি ছিল প্রোটিয়া অধিনায়কের ক্যারিয়ারে প্রথম শুন্য রানে মাঠ ছাড়ার ঘটনা। এই দুই ব্যাটসম্যান টিকে থাকলে যে কোন বিপদের সম্ভাবনা ছিল।

 

৫. শ্রীলংকার বিপক্ষে সরফরাজ খানের ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস:

অধিনায়কোচিত ইনিংস সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেটি যখন দেখা যায় ম্যাচের সকটাপন্ন সময়ে। অধিনায়ক সরফরাজের এমনই একটি লড়াকু ইনিংসের কল্যানে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়লাভ করেছে পাকিস্তান। যার পলে তারা শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
চরম চাপের মধ্যে থেকেও তিনি তিন বিভাগেই সমান পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। বোলিংয়ের সময় মধ্যভাগে তিনিই বল তুলে দিয়েছিলেন আমির ও জুনায়েদের হাতে। যার ফলে লংকানদের ২৩৬ রানে বেধে ফেরতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। উইকেট রক্ষক হিসেবে তিনি আমিরের একটি বল তালুবন্দি করেন নিরোশন ডিকবেলাকে উইকেট বানিয়ে। এ সময় লংকান ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৭৩ রানে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ