ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

পাকিস্তান যেভাবে ফাইনালে



ক্রীড়া প্রতিবেদক:

 

পাকিস্তানের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে ওঠা অনেকটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে ’বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে না পারলে বিদায় নিতে হতো তাদের। তারা ৩ ম্যাচে ২ জয় আর এক হার নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। আর স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মত স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

 

শিরোপা লড়াইয়ে ১৮ জুন রোববার তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মোকাবেলা করবে। ম্যাচটি ওভালে অনুষ্ঠিত হবে। এবার দেখা যাক যেভাবে পাকিস্তান ফাইনালে ওঠেছে তার চিত্র।

 

এ আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় নয় নম্বরে উঠে এসেছেন আজহার আলী। তিনি ৪ ম্যাচে করেছেন ১৫৯ রান। এরমধ্যে সর্বোচ্চ করেন ৭৬ রান। এছাড়া পনের নম্বরে রয়েছেন ফখর জামান। ৩ ম্যাচে ১৩৮ রান করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ করেন ৫৭ রান।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় ৪ ম্যাচে ১৭২ রানের বিনিময়ে ১০ উইকেট নিয়ে হাসান আলী এক নম্বরে রয়েছেন। তালিকার চার নম্বরে রয়েছেন জুনায়েদ খান। তিনি ৩ ম্যাচে ১৩৫ রানে নেন ৭ উইকেট। বোলিংলাইনে হাসান আলী, জুনায়েদ খান, ফাহিম আশরাফরা ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের তালিকায় অবশ্য হাসান আলী ১৩৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

 

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে পাকিস্তান

 

প্রথম ম্যাচ: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে প্রথমেই মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। মর্যাদার এ লড়াই বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টসে হেরে ভারত ৪৮ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৩১৯ রান সংগ্রহ করে। এরমধ্যে রোহিত শর্মা সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন। দলনায়ক কোহলি ৮১ রান অপরাজিত ছিলেন। হাসান আলী ও শাদাব খান একটি করে উইকেট লাভ করেন। পাকিস্তান জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে ২২.৪ ওভারে ১৬৪ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। যাদব ৩০ রানে নেন ৩ উইকেট। বৃষ্টি আইনে পাকিস্তান ১২৪ রানে পরাজিত হয়।

দ্বিতীয় ম্যাচ: বার্মিংহামে পাকিস্তান এ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মোকাবেলা করে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি। ফলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৯ রান করে। এরমধ্যে মিলার সর্বোচ্চ ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২০ রানে ইমাদ ওয়াসিম ও ৫৩ রানে জুনায়েদ খান ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। পাকিস্তান জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে ২৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৯ রান করে। এরমধ্যে ফখর জামান ৩১ রান ও বাবর আজম ৩১ রান অপরাজিত ছিলেন। মরকেল ১৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। বৃষ্টি আইনে পাকিস্তান ভারতের কাছে হারলেও ওই বৃষ্টি আইনেই তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯ রানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখে।

 

তৃতীয় ম্যাচ: মরণ-বাঁচনের লড়াইয়ে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা কার্ডিফে মুখোমুখি হয়। সমীকরণটা এমন ছিল যারা হারবে তারাই বিদায় নেবে। জিতলে শেষ চারে। ফলে ম্যাচ জয়ে উভয় দল স্নায়ুচাপে পড়ে যায়। টসে হেরে শ্রীলংকা ৪৯.২ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান করে। ডিকওয়েলা সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন। ৪০ রানে জুনায়েদ খান ও ৪৩ রানে হাসান আলী ৩টি করে উইকেট লাভ করেন। পাকিস্তান জয়ের লক্ষে নেমে ৪৪.৫ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান তুলে জয়ের নোঙরে পৌছে যায়। দলনায়ক সরফরাজ আহমেদ ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন। নুয়েল প্রদ্বীপ ৬০ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তান ৩ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শেষ চারে উঠে।

 

সেমিফাইনাল: কাগজে-কলমে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডই ফেভারিট ছিল। কিন্তু আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানই শেষ পর্যন্ত লো স্কোরিংয়ের ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতে যায়। বার্মিংহামের এজবাস্টনে স্বাগতিকরা টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট হয়। জো রুট ৪৬, জনি বেয়ারস্টো’র ৪৩ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের হাসান আলী ৩৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংলাইনে ধস নামাতে সহায়তা করেন। জবাবে পাকিস্তান ৩৭.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তুলে ইংল্যান্ডকে সহজেই হারিয়ে দেয়। আজহার আলী সর্বোচ্চ ৭৬ রান এবং ফখর জামান ৫৭ রান করেন।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ