ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ভারত যেভাবে ফাইনালে



ক্রীড়া প্রতিবেদক:

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে চমৎকার সূচনা করেছিল। কিন্তু পরের ম্যাচেই লঙ্কানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেবার শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের বাঁচা-মরার লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। তবে তাদের ৮ উইকেটে হারিয়েই শেষ পর্যন্ত ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে তারা। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত।

 

১৮ জুন রোববার ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। খেলাটি  ওভালে অনুষ্ঠিত হবে।

 

গ্রুপ পর্বের খেলাশেষে এ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় এক নম্বরে ওঠে এসেছেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৪ ম্যাচে তিনি ৩৭১ রান করেন। এরমধ্যে ১২৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রোহিত শর্মা। তিনি ৪ ম্যাচে করেন ৩০৪। এরমধ্যে ১২৩ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস রয়েছে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীর তালিকার সাত নম্বরে রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি ৪ ম্যাচে ১৫৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট লাভ করেন।  এছাড়া জাপ্রিত বুরমাহ ৪ ম্যাচে ১৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পনের নম্বর স্থানে রয়েছেন।

 

এবার দেখা যাক যেভাবে ভারত ফাইনালে ওঠেছে তার চিত্র।

 

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ভারত

প্রথম ম্যাচ: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথমেই মুখোমুখি হয় ভারত। মর্যাদার লড়াইটি বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টসে হেরে ভারত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেটে ৩১৯ রান করে। রোহিত শর্মা সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন। দলনায়ক কোহলি ৮১ রান অপরাজিত ছিলেন। হাসান আলী ও শাদাব খান একটি করে উইকেট পান। পাকিস্তান জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে ২২.৪ ওভারে ১৬৪ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। যাদব ৩০ রানে নেন ৩ উইকেট। বৃষ্টি আইনে পাকিস্তান ১২৪ রানে পরাজিত হয়।

দ্বিতীয় ম্যাচ: কেনিংটন ওভালে শ্রীলংকার বিপক্ষে টসে হেরে ভারত ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে। শিখর ধাওয়ানের ১২৫ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। মালিঙ্গা নেন ৭০ রানে ২ উইকেট। শ্রীলংকা জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তবে মেন্ডিজের ৮৯ ও গুনারত্নের ৭৬ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংই লঙ্কানদের ভারতের বিপক্ষে জয়ের পথ সুগম করে। ফলে ৩ উইকেটে ৪৮.৪ ওভারে ৩২২ রান করে ভারতকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে শ্রীলংকা। এরফলে লঙ্কানরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখে।

 

তৃতীয় ম্যাচ: সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা উভয় দলের জন্যই কেনিংটন ওভালে মরণ-বাঁচনের যুদ্ধ ছিল। জিতলে শেষ চারে, হারলে বিদায়। এ রকম এক সমীকরণে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৪.৩ ওভারে ১৯১ রানে তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ওপেনার কক সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। ভুবনেশ্বর ও বুমরাহ ২টি করে উইকেট শিকার করে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনে ধস নামান। ভারত জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে ৩৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তুলে মরণ-বাঁচনের এ লড়াইয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। ধাওয়ান করেন ৭৮ রান। কোহলি ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে যায় ৮ উইকেটে।

 

সেমিফাইনাল: গ্রুপ পর্বে ভারত যতটা কঠিন লড়াই করেছে সে অনুপাতে সেমিফাইনালে বিন্দুমাত্র ঘাম ঝরাতে হয়নি। ৪০.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তুলে ৯ উইকেটে বাংলাদেশকে পরাজিত করে।এরমধ্যে রহিত শর্মা করেন অপরাজিত ১২৩ রান। ২২ রানে যাদব, ৩৯ রানে বুমরাহ ও ৫৩ রানে ভুবনেশ্বর এ তিন বোলার ২টি করে উইকেট লাভ করেন। এর আগে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেট খুইয়ে ২৬৪ রান সংগ্রহ করে। তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ