ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

পাকিস্তান দারুণভাবে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছে : আফ্রিদি



ক্রীড়া ডেস্ক:

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে লজ্জাজনকভাবে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দলের পুনর্জাগরণ ও কমিটমেন্টে প্রকৃত অর্থেই গর্ববোধ করছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি।  খবর বাসস।

 
আইসিসির কলামে আফ্রিদি লিখেছেন- এখন মাত্র একটি জয় দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের রক্ষাকবচে পরিণত হবে। সকল সমালোচনা এবং সর্বপ্রকার অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণ করে টুর্নামেন্ট ফেবারিট স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একতরফাভাবে জয়ী হয়ে ওভালে রোববার অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।

 
এটা ছিল নক আউট পর্বের প্রত্যাশামত খুবই ভালো একটি পারফরমেন্স। দীর্ঘ দিন পর পাকিস্তান ম্যাচে শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিন বিভাগেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটির এমন ঘুরে দাঁড়ানোয় আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত এবং প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে লজ্জাজনকভাবে পরাজয়ের পর এমন কমিটমেন্টের জন্য সত্যিই গর্বিত।

 
শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলকার বিপক্ষে জয়ের মুখ্য কারণ ছিল পাকিস্তানের বিশ্ব মানের বোলিং আক্রমণ। এমনকি টুর্নামেন্টের প্রথম সেমফিাইনালে দারুণভাবে শুরু করার পরও ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়েছে। এই নিয়ে পর পর তিন ম্যাচে পুরনো বলে ভালো করে পাকিস্তানি বোলাররা কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
হাসান আলী সত্যিকারভাবেই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্ক হচ্ছে। পুরনো বলে সে অসাধারন দক্ষতা দেখিয়েছে। আজ ডান ও বামহাতি উভয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তার বোলিংয়ের লাইন ছিল সঠিক। পিঠে সমস্যার কারণে মোহাম্মদ আমির খেলতে না পারলেও জুনাইদ খান, রুম্মন রইস এবং স্পিনাররা হাসান আলীকে যথার্থ সহায়তা দিয়েছে।
ফিল্ডিং কখনো কখনো পাকিস্তানের পারফরমেন্সের বিচার করা হয়ে থাকে। তবে এ ম্যাচে দারুণ ফিল্ডিং করেছে দলটি। তাদের শারীরিক ভাষা ও অঙ্গীকার ছিল দারুণ প্রশংসনীয়।

 

ফিল্ডারদের কাছ থেকে সহায়তা পেলে আমাদের বোলিং বিভাগ অনেক বেশি শাণিত হয়। নকআউট ম্যাচের চাপ সত্ত্বেও ইংল্যান্ডকে ২১১ রানে আটকে রাখতে পারা থেকেই বোলারদের সক্ষমতার প্রমাণ মেলে।
আমাকে যা সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তাহলো বিশ্বমানের বোলিংয়ের পর নিখুঁত ব্যাটিং পারফরমেন্স। আবারো একবার অসাধারণ ব্যাটিং করেছে ফখর জামান। আমি অত্যন্ত খুশি যে সবসময়ই ভালো করে আসছে এবং বড় ম্যাচগুলোতে বড় টেম্পারমেন্ট রাখতে পেরেছে।
টপ অর্ডারে আগ্রাসী ও পাওয়ার হিটিং ব্যাটিং দিয়ে পাকিস্তানকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন ফখর। তার এমন আগ্রাসী ব্যাটিং পাকিস্তানের দ্রুত টার্গেট স্পর্শে সহায়ত হয়েছে। আমি অবশ্যই আজহার আলীর ইনিংসের প্রতিও তীক্ষ্ম নজর রেখেছি। ফখর জামানের জন্য যথার্থ ছিল এ ওপেনার এবং তার ধৈর্যের কারণে ফখর নিজকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পেরেছে। একই স্টাইল ও এ্যাপ্রোচে খেলা অব্যাহত রাখলে আজহার-ফখর খুব ভালো জুটি হতে পারে। পক্ষান্তরে বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজকে অবশ্যই তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে এবং ফাইনালে ফর্মে ফিরতে হবে।
ফাইনাল সম্পর্কে তিনি বলেন, অবশ্যই ম্যাচটি কঠিন হবে। ভারত খুবই শক্তিশালী। ভারত ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় দর্শকরা আবারো একটি ইন্দো-পাক লড়াই দেখার সুযোগ পাবে এবং এ ম্যাচের উত্তেজনাই আলাদা।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দেরকে এটাকে অন্য একটা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ফাইনালে রেকর্ড ও সংখ্যার মূল্য কম। সেহেতু প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব বেশি না ভেবে পাকিস্তানকে অবশ্যই নির্ভার থাকতে হবে এবং উপভোগ করতে হবে।
পাকিস্তানের এখন ভিন্ন করে কিছু চিন্তা করার দরকার নেই। গত কয়েক ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড ম্যাচে গেম প্লান বেশ ভালো ছিলো এবং ঠিকমত তা কাজে এসেছে। পাকিস্তানের এখন ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে এবং সেরা একাদশের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রতি নজর দেয়া উচিত।

 

পাকিস্তান দল দেশে ও বিশ্বব্যাপি ভক্তদের জন্য যে অপ্রত্যাশিত উপলক্ষ এনে দিয়েছে আমাদের সকলের সেটা উপভোগ করতে হবে। একটা জাদুকরী মুহূর্ত থেকে আমরা কেবলমাত্র এক ম্যাচে দূরে আছি। সকলের জন্য এটা এনে দাও।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ