ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

আগামীর জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখলো টাইগাররা



ক্রীড়া প্রতিবেদক:

বিশ্ব ক্রিকেটের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বাংলাদেশ বেরুতে পারছে না। কখনো ফাইনাল পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারছে না। কখনো সেমিফাইনাল উতরিয়ে ফাইনালে যেতে পারছে না। আবার কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে এসেই যবনিকা টানছে। টাইগারদের এমন বাঁধা অতিক্রম করা হয়তো আগামীর জন্য জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ধরা যাক এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দু’টি ফাইনালের কথা। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল ২ উইকেটে। এটি ২০১২ সালের ঘটনা। পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ করেছিল। বিপরীতে টাইগাররা করেছিল ৮ উইকেটে ২৩৪ রান। শিরোপার কাছাকাছি এসেও পারেনি।

 

২০১৬ সালেও এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশের লড়াইটা হয়েছিল আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১৫ ওভারে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে করেছিল ১২০ রান। জবাবে ভারত ১৩.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১২২ রানে শিরোপা জেতে। ওই দু’টি ফাইনাল ম্যাচ হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এরআগে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেও বাংলাদেশ রীতিমত চমক দেখিয়েছিল ২০১৫ সালে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আম্পায়ার সৃষ্ট নানা বিতর্কিত ও ঘটনাবহুল ম্যাচে ভারত অবশ্য ১০৯ রানে জয় পেয়েছিল। ৫০ ওভারে ভারত ৬ উইকেটে ৩০২ রান সংগ্রহ করলে বাংলাদেশ ৪৫ ওভারে ১৪৫ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। এ বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকেই মূলত ওয়ানডে ম্যাচগুলোয় টাইগারদের দাপুটে ক্রিকেট খেলা শুরু। এরপর তাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক কখনো ওয়ানডে সিরিজ জয় পেয়েছে। কখনো বা ড্র করেছে টেস্ট ম্যাচ।


এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ওয়ানডে ও টেস্ট আসরের সাফল্যের ওপর ভর করেই এবার বিশ্বের সেরা আট দলের লড়াই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বড় আসরে দেখালো আরেক কৃতিত্ব। রীতিমত চমকই বটে। যেখানে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, এ মুহূর্তের অন্যতম সেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠতে ব্যর্থ, সেখানে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠে টাইগাররা তাদের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়েছেন। হয়তো অভিজ্ঞতার কারণে হেরেছে। কিন্তু মাশরাফিবাহিনী যে দাপুটে নৈপুণ্যে দেখিয়েছে তা বিশ্ববাসী অনেকদিন মনে রাখবেন।

 

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে যেখানে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন তারা চাপ অনুভব করছেন না, সেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চাপ অনুভব করছেন। সত্যিকার অর্থে এদেশের ক্রিকেট যে অনেক এগিয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীর সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে তারই যেন একটি আগামবার্তা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে লালসবুজের দেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেট খুইয়ে ২৬৪ রান তুলেছিল। পাল্টা জবাবে ৪০.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ভারত ৯ উইকেটে জয়ের নোঙরে পৌঁছে যায়।


বিশ্বক্রিকেটের আসরগুলোয় জয়-পরাজয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। মাঝে মাঝে আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্সও দেখাচ্ছেন টাইগাররা। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আসতে পারছেন না মাশরাফিবাহিনী। আগেই বলেছি কোথাও ফাইনাল, কোথাও সেমিফাইনাল আর কোথাওবা আবার কোয়ার্টার ফাইনালে আটকে যাচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারানোর যোগ্যতা রাখে।
এ মুর্হূতে তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানদের মত মারকুটে ব্যাটসম্যান আর মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেনদের মত বোলার রয়েছে সে দেশতো এগুবেই। সেটা বারবার প্রমাণিত করছে বিশ্বক্রিকেটে। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্বপ্নের সেমিফাইনালে টাইগারদের এ হার নিশ্চয়ই আগামীর জয়ের সম্ভাবনাই জাগিয়ে রেখেছে।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ