ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে। আজ বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে তারা সেমিফাইনালে ৯ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে এ কৃতিত্ব দেখায়। ফলে আগামী ১৮ জুন ভারত শিরোপা লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে। ভারতীয় অধিনায়ক ফাইনালে অবশ্য স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে আশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে এখন পাকিস্তানকে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ভারত টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নিলে বাংলাদেশ ব্যাটিং করতে এসে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট খুইয়ে ২৬৪ রান সংগ্রহ করে। শুধু তাই নয়, ভারতকে জয়ের জন্য টাইগাররা ২৬৫ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। সে লক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয়রা ৪০.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের নোঙরে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে দলের দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান আর রোহিত শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিং সাবেক বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের সহজ জয় এনে দেয়। তাদের মারমুখি ব্যাটিংয়ে বোলাররা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে। তবুও তারা প্রতিপক্ষের উইকেট শিকারে চেষ্টা চালিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৪.৪ ওভারে ধাওয়ানকে সাজঘরে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি। ওভারের চতুর্থ বলে ধাওয়ান মাশরাফির বল খেলতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। দলীয় ৮৭ রানে ভারতের যখন প্রথম উইকেটের পতন, তখন ৩৪ বলে ৪৬ রান করে ধাওয়ান বিদায় নেন। তিনি ৭টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কার মারে করেন এ রান।
এরপর ওয়ানডাউনে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ওপেনার রোহিত শর্মার সঙ্গে এসে জুটি বাঁধেন। এ দুজনের উপর ভর করেই ভারত সহজ জয়ের পথ খুঁজে পায়। শর্মা ১৬৫ বলে ১৫টি চার আর একটি ছক্কায় সাজিয়েন অপরাজিত ১২৩ রান। অন্যদিকে কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাত্র চার রানের জন্য তিনি শতরান থেকে বঞ্চিত হন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন শর্মাই।

এরআগে বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৪ রান সংগ্রহ করে। অথচ সবার ধারণা ছিল স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত স্কোর গড়ে তুলবে। কিন্তু আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টাইগাররা সে পথে হাঁটতে পারেনি।টাইগররা শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলীয় ১ রানে সৌম্য সরকারকে শূন্য রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে বিদায় নেন। এরপর ওয়ানডাউনে খেলতে এসে সাব্বির রহমান অল্প সময়ে রানের চাকাকে সচল করে তুলেছিলেন। কিন্তু তার বেপরোয়া ব্যাটিং দলীয় ৩৬ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। তিনি ভুবনেশ্বর কুমারের বল খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২১ বলে চারটি চারের মারসহ ১৯ রানে আউট হন।
সৌম্য ও সাব্বিরের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহীমকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে তামিম ১০০ রানের একটি পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন। কিন্তু দলীয় ১৫৯ রানে তামিম ব্যক্তিগত ৭০ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বল খেলতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড আউট হলে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
টাইগারদের তৃতীয় উইকেট পতনের পর মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে আসেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এদিন সাকিব খুব একটা রান পাননি। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংও চোখে পড়েনি। তিনি দলীয় ১৮২ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ব্যক্তিগত ১৫ রানে বরীন্দ্র জাদেজার বল খেলতে গিয়ে মহেন্দ্র ধোনীর হাতে তালুবন্দী হন।


চতুর্থ উইকেট পতনের পর মাত্র দুই রান পরেই ১৮৪ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হলে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা ফিকে হতে শুরু করে। মুশফিকুর ব্যক্তিগত ৬১ রানে যাদবের বলে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন। মূলত তামিম, সাকিব এবং মুশফিকুরের বিদায়ের পর ফের টাইগারদের ব্যাটিংলাইনে ধস শুরু হয়।
মিডল অর্ডারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিংবা মোসাদ্দেক হোসেনও দলের প্রয়োজনে দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিতে পারেননি। দলীয় ২১৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় টাইগাররা। এ সময় মোসাদ্দেক ব্যক্তিগত ১৫ রানে বুমরাহ’র হাতে কট এন্ড বোল্ড হয়ে বিদায় নেন। এর কিছুক্ষণ পরেই বুমরাহই সাজঘরে ফেরান মাহমুদুল্লাহকে। তিনি ২১ রানে বুরমাহ’র বলে বোল্ড আউট হন।
শেষ মুহূর্তে লোয়ার অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ। তাদের এ জুটি ৫ ওভারে মূল্যবান ৩৫ রান যোগ করেন। মাশরাফি ৩০ ও তাসকিন ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। অতিরিক্ত থেকে এসেছে ২৩ রান। ২২ রানে যাদব, ৩৯ রানে বুরমাহ ও ৫৩ রানে ভুবনেশ্বর এ তিন বোলার ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএ